হ্যান্ডওয়াশ, শ্যাম্পু ও ডিশওয়াশ লিকুইড তৈরিতে অপরিহার্য একটি উপাদান সোডিয়াম লরেল ইথার সালফেট (এসএলইএস)। বাংলাদেশে এই উপাদানের যে পরিমাণ চাহিদা আছে, তার পুরোটাই উৎপাদনের ক্ষমতা দেশে আছে। পাশাপাশি ডিটারজেন্ট পাউডার, বডি সোপ ও ডিশওয়াশ বার তৈরিতে প্রয়োজনীয় লিনিয়ার অ্যালকাইল বেনজেন সালফোনিক অ্যাসিড (এলএবিএসএ) উৎপাদনের ১০০% ক্ষমতাও দেশের ভেতরেই আছে। তা সত্ত্বেও দেশীয় চাহিদার সিংহভাগ এসএলইএস ভারত ও চীন থেকে এবং ৫০% এলএবিএসএ এখনও ভারত থেকে আমদানি করা হচ্ছে।
দেশে ৫টি প্রতিষ্ঠান এসএলইএস ও এলএবিএসএ উৎপাদন করে; রাইমার কেমিক্যালস লিমিটেড, ক্রিসেন্ট কেমিক্যালস লিমিটেড, ইউনাইটেড সালফো কেমিক্যালস লিমিটেড, লিবার্টি কেমিক্যালস লিমিটেড এবং ওয়াতা কেমিক্যালস লিমিটেড। এদের প্রত্যেকেই এলএবিএসএ অ্যান্ড এসএলইএস ম্যানুফ্যাকচারিং অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ (এলএসএমএবি)-এর সদস্য প্রতিষ্ঠান। দেশের ১০০% চাহিদা পূরণের ক্ষমতাসম্পন্ন এসব দেশীয় প্রতিষ্ঠানের পৃষ্ঠপোষকতার জন্য এলএসএমএবি সরকারের কাছে আহ্বান জানিয়েছে।
এসএলইএস ও এলএবিএসএ এত বৃহৎ পরিমাণে আমদানির মূল কারণ হচ্ছে এসব পণ্য আমদানিতে অতি স্বল্প পরিমাণের শুল্ক কর (মাত্র ১০%), যেখানে এসব পণ্য প্রস্তুতের কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক করের পরিমাণ ৫%। স্থানীয় উৎপাদনকারীদের ব্যবসায়িক সাফল্য নিশ্চিত করতে হলে আমদানিকৃত কাঁচামাল ও পণ্যের মধ্যকার শুল্ক করের ব্যবধান মাত্র ৫% না রেখে আরও বর্ধিত করা প্রয়োজন। আমদানি করার প্রয়োজন না থাকা সত্ত্বেও অত্যধিক পরিমাণ এসএলইএস ও এলএবিএসএ আমদানি করার কারণে দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের পূর্ণ উৎপাদনক্ষমতা ব্যবহার করতে পারছে না, পাশাপাশি দেশ অপ্রয়োজনে হারাচ্ছে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা। দেশীয় পণ্য ও দেশীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন ও পৃষ্ঠপোষকতার একটি সুযোগও এভাবে নষ্ট হচ্ছে।
এলএসএমএবি জোরালোভাবে জানিয়েছে যে সরকারের কর্তব্য দেশীয় প্রতিষ্ঠানদের সহায়তা করা, বিদেশ থেকে আমদানির শুল্ক কর বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশীয় উৎপাদনকারীদের ব্যবসায়িক নিরাপত্তা প্রদান করা, ঠিক যেভাবে এহেন সরকারী উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের দুগ্ধজাত পণ্য, বৈদ্যুতিক সামগ্রী, খাদ্য, পানীয়, প্রসাধনী সামগ্রী, টেক্সটাইলের বেসিক কেমিক্যাল, ফার্মাসিউটিক্যাল ইত্যাদি ক্ষেত্র নানানভাবে উপকৃত হয়ে নিজ নিজ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সুযোগ লাভ করেছে।
দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলো দেশের বার্ষিক চাহিদার পুরোটাই, ৫৫,০০০ মেট্রিক টন এলএবিএসএ এবং ১০,০০০ মেট্রিক টন এসএলইএস, উৎপাদন করতে সক্ষম। দেশীয় কারখানা থেকে এলএবিএসএ ও এসএলইএস ক্রয় ও সরবরাহের মাধ্যমে কম সময়ে কাঁচামালের দ্রুত ডেলিভারি এবং সাপ্লাই চেইন উন্নয়নের মাধ্যমে সার্বিক খরচ কমে আসবে, যা ব্যবসায়িক এই ক্ষেত্রকে লাভবান করবে। এলএসএমএবি বিশ্বাস করে যে দেশীয় উৎপাদনকারীদের সহায়তা প্রদানে তিনটি পদক্ষেপ গ্রহণ করা অত্যাবশ্যক।
পদক্ষেপগুলো হচ্ছে – ২০৩০ সাল পর্যন্ত দেশীয় এলএবিএসএ ও এসএলইএস প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানদের জন্য হ্রাসকৃত ৫% মুসক সুবিধা বহাল রাখা, আগামী পাঁচ বছর এলএবিএসএ ও এসএলইএস তৈরির কাঁচামাল আমদানি শুল্কমুক্ত রাখা এবং এলএবিএসএ ও এসএলইএস আমদানি শুল্ক বর্তমানের ১০% থেকে বৃদ্ধি করে ন্যুনতম ১৫%-এ উন্নীত করা (নিজেদের প্রতিষ্ঠানদের সুবিধার জন্য ভারতে এলএবিএসএ ও এসএলইএস এর আমদানি শুল্কের পরিমাণ ২০%)। এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়নের মাধ্যমে এই ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে নতুন দেশীয় ও বিদেশী বিনিয়োগের পরিবেশ সৃষ্টি, সরকারের মুসক ও কর আদায় বৃদ্ধি, রপ্তানির সুযোগ বৃদ্ধি ইত্যাদির মাধ্যমে দেশের সার্বিক অর্থনীতি চাঙ্গা হবে।
