কক্সবাজারের পেকুয়ায় যৌতুকের টাকা না পেয়ে স্ত্রীকে পিটিয়ে পা ভেঙে দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার (১৫ মে) বিকেল ৩টার দিকে উপজেলার টইটং ইউনিয়নের হাজিবাজার এলাকায় হাজির বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
আহত গৃহবধূর নাম লতিফা আক্তার (২৫)। তিনি ওই এলাকার হেলাল উদ্দিন এর স্ত্রী। লতিফার অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
লতিফার স্বজনেরা জানান, মধ্যযুগীয় কায়দায় তাকে পেটানো হয়েছে। লাঠির আঘাতে তার বাম পায়ের হাড় ভেঙে গেছে। চমেক হাসপাতালে শুক্রবার (১৬ মে) পায়ের অস্ত্রোপাচার হয়েছে। অভিযুক্ত হেলাল উদ্দিন হাজির বাড়ির ছিদ্দিক আহমদের পুত্র।
স্থানীয়রা জানায়, বৃহস্পতিবার স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হয়। এ সময় হেলাল উদ্দিন উত্তেজিত হয়ে তার স্ত্রী লতিফাকে লাঠি দিয়ে নিষ্টুরভাবে পেটাতে থাকে। পিটিয়ে সারা শরীর থেঁতলে দিয়েছে। লাঠির আঘাতে বাম পায়ের হাড় ভেঙে গেছে। মাকে বাঁচাতে গিয়ে তাদের ৮বছর বয়সী মেয়ে মিসফাহুল জান্নাতও গুরুতর আহত হয়েছে। স্থানীয় লোকজন দুজনকে উদ্ধার করে পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। সেখানে চিকিৎসকরা মা-মেয়ে দুজনকে চমেক হাসপাতালে রেফার্ড করেন।
লতিফার ছোট ভাই পারভেজ আজাদ বলেন, ভগ্নিপতি হেলাল উদ্দিন ব্যবসার জন্য আমাদের পরিবারের কাছে ১২ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন। এর আগে বোনকে সুখে রাখার জন্য সাধ্যমতো টাকা দিয়েছি। গত কয়েক দিন ধরে হেলাল মোটাঙ্কের টাকা দাবি করলে দিতে পারিনি। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বোনকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে এবং একটি পা ভেঙে দেয়। ভাগ্নি মিসফাহুল জান্নাতের অবস্থাও আশঙ্কাজনক। তার মেরুদণ্ডে গুরুতর জখম রয়েছে।
জানা গেছে, গত দশ বছর আগে হেলাল উদ্দিনের সঙ্গে একই ইউনিয়নের জানআলী মুড়া এলাকার আব্দুল আজিজের মেয়ে লতিফা আক্তারের বিয়ে হয়। দাম্পত্য জীবনে তারা তিন সন্তানের জনক-জননী।
পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সিরাজুল মোস্তফা জানান, এখনো লিখিত অভিযোগ পায়নি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ডিজিটাল রূপান্তরে নারী-পুরুষের সমান সুযোগ নিশ্চিত করবে সরকার
আটক শিক্ষার্থীর কিছু হলে ডিবি অফিস ঘেরাওয়ের ঘোষণা