রাজশাহী অঞ্চলে এ বছর কোরবানির জন্য চাহিদার থেকে বেশি সংখ্যক পশু প্রস্তুত রয়েছে। বিভিন্ন খামার ছাড়াও বাড়ি বাড়ি গরু-ছাগল পালন করেছেন খামারি ও সাধারণ মানুষ। এ কারণে এবার এ অঞ্চলে কোরবানির পশুর কোনো ঘাটতি হবে না বলে আশা করছে প্রাণিসম্পদ বিভাগ।
কয়েক বছর আগেও সীমান্তবর্তী রাজশাহী অঞ্চলে কোরবানি হাটে দাপুটে উপস্থিতি ছিল ভারতীয় গরুর। বছরের পর বছর ভারত থেকে গরু আসায় স্থানীয়ভাবে গরু-ছাগল পালনে আগ্রহ হারিয়ে ফেলে সাধারণ মানুষ। কিন্তু গেল কয়েক বছর ভারতীয় গরুর আমদানি বন্ধ হওয়ায় আবারও আগ্রহ বেড়েছে স্থানীয়দের। এখন রাজশাহী বিভাগের সব জেলাতেই বাড়ি বাড়ি গরু-ছাগল পালন করা হয়। অনেকেই নতুন করে খামার গড়ে তুলেছেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে কোরবানির জন্য বাইরের গরু-ছাগলের চাহিদা প্রায় শূন্যের কোঠায় পৌঁছেছে। পাশাপাশি খামারের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় কর্মসংস্থানও হয়েছে।
প্রাণিসম্পদ বিভাগের তথ্যমতে, রাজশাহী বিভাগের আট জেলায় এবার ঈদ উপলক্ষে কোরবানির পশু বেচাকেনার জন্য ৩০২টি হাট নির্ধারণ করা হয়েছে। এই হাটগুলোর মধ্যে ১৬১টি স্থায়ী এবং ১৪১টি অস্থায়ী। পশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বিভাগ জুড়ে ২১৩টি ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। এই টিমগুলো হাটে থেকে পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা, গর্ভবতী গাভী শনাক্তকরণ এবং রোগপ্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। রাজশাহী বিভাগে প্রায় ৪৩ লাখ ৪৪ হাজার কোরবানিযোগ্য পশু প্রস্তুত করেছেন কৃষক ও খামারিরা, যা এ অঞ্চলের কোরবানির পশুর চাহিদা পুরোপুরি পূরণ করবে। প্রাণিসম্পদ দপ্তর জানিয়েছে, হাটগুলোতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে পশু বেচাকেনা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সমন্বয়ে কার্যক্রম পরিচালিত হবে। এছাড়া, অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে পশু কেনাবেচার সুবিধাও চালু রাখা হয়েছে, যাতে ক্রেতা-বিক্রেতারা নিরাপদে লেনদেন করতে পারেন।
এই উদ্যোগগুলোর মাধ্যমে রাজশাহী অঞ্চলের কোরবানির পশুর বেচাকেনা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আশাবাদী।
রাজশাহী জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আতোয়ার রহমান জানান, জেলায় এ বছর কোরবানির জন্য পশুর চাহিদা রয়েছে ৩ লাখ ৮৪ হাজার ৪৩৭টি। এর বিপরীতে ৪ লাখ ৯৬ হাজার ৮৯৩টি পশু প্রস্তুত রয়েছে। অর্থাৎ চাহিদার তুলনায় ১ লাখ ১২ হাজার ৪৫৬টি পশু বেশি রয়েছে। অতিরিক্ত এসব পশু বিক্রির জন্য নেওয়া হবে দেশের অন্যান্য জেলায়। তিনি জানান, এবার জেলায় কোরবানিযোগ্য গরু রয়েছে ১ লাখ ১৫ হাজার ৭৪২টি, মহিষ ৪ হাজার ২৪০, ছাগল ৩ লাখ ৪৬ হাজার ৭৬৩ ও ভেড়া ৩০ হাজার ১৪৮টি।
