পোস্টার ছাপিয়ে ভোট চাইছেন কবরস্থান কমিটি নির্বাচনের প্রার্থীরা

আপডেট : ১৭ মে ২০২৫, ০৪:২৩ এএম

পুরনো কমিটির মেয়াদ শেষে কবরস্থানে নতুন কমিটি গঠন করতে গেলে স্থানীয় অনেকেই হতে চান সভাপতি। এ নিয়ে বাধে দ্বন্দ্ব। এতে বাধ্য হয়ে প্রচলিত রীতি ভেঙে প্রত্যক্ষ ভোটে সভাপতি ঠিক করতে ঢাকঢোল পিটিয়ে নির্বাচনের উদ্যোগ নিয়েছে গ্রামবাসী। গঠিত হয়েছে নির্বাচন কমিশন। মনোয়ন ফরম জমা শেষে এখন পোস্টার ছেপে রীতিমতো প্রচারণা চালাচ্ছেন প্রার্থীরা। এমন বিরল ঘটনার সাক্ষী হতে যাচ্ছে পাবনার চাটমোহর উপজেলার মুলগ্রাম ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দারা।  দেশ রূপান্তরকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চাটমোহর থানার ওসি মো. মঞ্জুরুল আলম ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুসা নাছের চৌধুরী। বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে, এমন  নির্বাচনকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ইউনিয়নের বালুদিয়ার গ্রামে জান্নাতুল বাকি নামক কবরস্থানটি অবস্থিত। তবে মহরমখালী ও জগতলা গ্রামের একাংশও এ কবরস্থানের আওতাধীন। আগে এ কবরস্থানের সভাপতি ছিলেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা সিরাজুল ইসলাম মহুরী। গত বছরের জানুয়ারি মাসে এ কমিটির ৩ বছরের মেয়াদ শেষ হলেও এ কমিটি ভেঙে নতুন কমিটি হয়নি। পরে ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি গঠনের  প্রক্রিয়া শুরু হয়। এতে গ্রামের আব্দুল কুদ্দুস ও শরিফুল ইসলামসহ স্থানীয় ৩-৪ জন সভাপতি পদে আসীন হতে চান। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দ্বন্দ্ব বাধলে কোনো সমাধান না মেলায় অবশেষে এলাকাবাসী ভোটের মাধ্যমে সভাপতি নির্বাচনের দাবি জানান। এরপর কবরস্থান কমিটির সর্বশেষ সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মতিন মাস্টারকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার করে সাত সদস্য বিশিষ্ট নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয়।

নির্বাচন পরিচালনা কমিটি জানায়, গ্রামগুলোর প্রতিটি বাড়ি থেকে একজন পুরুষকে ভোটার নির্ধারণ করে মোট ৮০০ ভোটার তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। যারা ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে পরবর্তী তিন বছরের জন্য তাদের কবরস্থানের সভাপতি নির্বাচিত করবেন। আগামী ২৪ মে কবরস্থান সংলগ্ন ঈদগাহ মাঠে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলবে ভোটগ্রহণ কার্যক্রম। ইতিমধ্যে প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। মনোনয়ন ফরমের মূল্য হিসেবে প্রার্থীদের থেকে ৩০ হাজার করে টাকা নেওয়া হয়েছে। যা নির্বাচনী কাজে ব্যয় হবে। নির্বাচনে আব্দুল কুদ্দুস ছাতা ও শরিফুল ইসলাম চেয়ার প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ভোটের মাধ্যমে কবরস্থান কমিটির সভাপতি নির্বাচনের ঘটনায় মানুষের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বিজয় হতে প্রার্থীরা ভোটের মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। বাড়ি বাড়ি গিয়ে চাচ্ছেন ভোট।

এ ব্যাপারে প্রধান নির্বাচন কমিশনার আব্দুল মতিন মাস্টার বলেন, থানার পরামর্শ ও সহযোগিতায় আমরা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছি এবং বাস্তবায়ন করতে চাচ্ছি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত