চসিকের সাবেক কাউন্সিলর শাহজালাল বিমানবন্দরে গ্রেপ্তার 

আপডেট : ১৭ মে ২০২৫, ০৭:২১ পিএম

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ১ নম্বর দক্ষিণ পাহাড়তলী ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর তৌফিক আহমেদ চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ । শনিবার (১৭ মে) দুপুরে বিদেশে যাওয়ার সময় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। 

তৌফিক আহমেদ চৌধুরী আমানবাজার এলাকার ইউসুফ চৌধুরীর ছেলে। 

গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা পুলিশ সুপার (হাটহাজারী অঞ্চল) কাজী  মো. তারেক আজিজ বলেন, ‘বিদেশে যাওয়ার সময় ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সাবেক কাউন্সিলর তৌফিক আহমেদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে পল্টন থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ওই থানায় তার বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে। তার বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে রয়েছে হত্যাসহ তিনটি মামলা। এসব মামলায় তাকে চট্টগ্রামে আনা হবে। 

গ্রেপ্তার তৌফিক প্রয়াত নগর আওয়ামী লীগ নেতা এ বি এম মহিউদ্দিন  চৌধুরীর অনুসারী হিসেবে পরিচিত। তিনি বর্তমানে নগর যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য। তৌফিক সাবেক কাউন্সিলর হত্যাসহ একাধিক মামলার আসামি। 

জেলা পুলিশ জানায়, তৌফিকের বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে হামলার মামলা, অস্ত্র ও খুনের মামলা রয়েছে। তিনি ২০১৬ সালের ৫ মে হাটহাজারীর মির্জাপুরের যুবলীগ কর্মী নুরে এলাহীকে হত্যা মামলার অভিযোগপত্রভুক্ত আসামি। এ ছাড়া কোতোয়ালি থানায় একটি অস্ত্র মামলা রয়েছে তার বিরুদ্ধে। যুবলীগ কর্মী নুরে এলাহী হত্যা মামলায় ২০১৮ সালে ১৫ জুলাই অভিযোগপত্র জমা  দেয় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। পিবিআই চট্টগ্রামের পরিদর্শক আবুল কালাম আজাদ আদালতে কাউন্সিলর তৌফিককে আসামি করে চার পৃষ্ঠার অভিযোগপত্র জমা দিয়েছিলেন। ওই অভিযোগপত্রে নুরে এলাহী হত্যার বিস্তারিত তথ্য উঠে আসে।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, ‘হাটহাজারীর মির্জাপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ সমর্থিত  চেয়ারম্যান প্রার্থী নুরুল আফছারের নির্বাচনী প্রচারণার  শেষ দিন ছিল ২০১৬ সালের ৫  মে। ওই দিন বিকেলে  মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা শেষে সন্ধ্যায় হাটহাজারীর সরকারহাট বাজারে নির্বাচনী কার্যালয়ের সামনে বসে আড্ডা দিচ্ছিলেন নুরে এলাহীসহ ছয় থেকে সাতজন। ঘণ্টাখানেক পর  সেখানে আসেন কাউন্সিলর  তৌফিক আহমেদ চৌধুরী। একপর্যায়ে তিনি তাঁর হাতে থাকা একটি পিস্তল দেখিয়ে উপস্থিত সবাইকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘নতুন অস্ত্র কিনেছি, অনেক গুলি  লোড করা যায়।’ এ কথা বলেই তিনি দুটি ফাঁকা গুলি ছোড়েন। নিচের দিকে আরেকটি ছোড়ার সময় নুরে এলাহী গুলিবিদ্ধ হন। মুহূর্তের মধ্যে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। পরে তৌফিক ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত সরে পড়েন। ওই দিন রাতে চট্টগ্রাম  মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান নুরে এলাহী।

পুলিশ ও স্থানীয় সুত্র জানায়, কাউন্সিলর থাকাকালে তার বাড়ির অদূরে সরকারি সংস্থা বিআরটিএ এবং বিভিন্ন গার্মেন্টস কারখানা থেকে প্রতিমাসে লাখ লাখ টাকার চাঁদাবাজি করতেন তৌফিক। নিজের কাছে থাকা অত্যাধুনিক রাইফেল নিয়ে প্রকাশ্যে দলবল নিয়ে এলাকায় ঘোরাফেরা করতেন। প্রতিপক্ষ বিএনপি-জামায়াত অনুসারীদের উপর কারণে অকারণে মারধর ও হেনস্থা করতেন। জড়িয়ে দিতেন মিথ্যা মামলায়। তার ভয়ে তটস্থ থাকতেন বিআরটিএ এর কর্মকর্তারা। কোনো প্রকার বৈধ কাগজপত্র বা কর্তৃপক্ষের অনুমতি না নিয়ে জোরপূর্বক নতুনপাড়া এলাকায় অবস্থিত বিআরটিএ চট্টগ্রাম সার্কেল কার্যালয় সীমনার ভেতর রেস্টুরেন্ট গড়ে তুলেছেন। তা এখনো আছে। চাঁদাবাজির টাকায় অধুনালপ্ত ইব্রাহিম কটন মিল এলাকায় কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে গড়ে তুলেছেন ডুপ্লেক্স বাড়ি। তার কাছে আছে বিলাসবহুল দুটি জিপ গাড়ি।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত