দেশে প্রাপ্তবয়স্কদের প্রতি চারজনের মধ্যে একজন উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন বলে রাজধানীতে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় জানানো হয়। সভায় চিকিৎসকরা রোগটি প্রতিরোধে জীবনাচার পরিবর্তনের পাশাপাশি চিকিৎসায় সরকারকে বাজেট বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন।
গতকাল শনিবার বিশ্ব রক্তচাপ দিবস উপলক্ষে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল ও প্রজ্ঞা এ আলোচনা সভার আয়োজন করে। দিবসটি উপলক্ষে সচেতনতামূলক শোভাযাত্রাও করা হয়। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য ছিল ‘সঠিকভাবে রক্তচাপ মাপুন, নিয়ন্ত্রণে রাখুন এবং দীর্ঘজীবী হোন।’
রাজধানীর বিএমএ ভবনে প্রজ্ঞার আলোচনা সভায় জানানো হয়, দেশে প্রতি চারজন প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে একজন উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন। হৃদরোগ, স্ট্রোক, ক্যানসার, কিডনি রোগ, শ্বাসতন্ত্রের রোগ ও ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন অসংক্রামক রোগে যে ৭১ শতাংশ মানুষ মারা যাচ্ছে, তার অন্যতম কারণ উচ্চ রক্তচাপ। এসব অসংক্রামক রোগের চিকিৎসায় বরাদ্দ বাড়ানো প্রয়োজন। এখন মোট স্বাস্থ্য বাজেটের মাত্র ৪ দশমিক ২ শতাংশ অর্থ বরাদ্দ করা হচ্ছে, যা খুবই অপ্রতুল।
সভায় কমিউনিটি ক্লিনিক স্বাস্থ্য সহায়তা ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. খোরশেদ আলম বলেন, উচ্চ রক্তচাপসহ বিভিন্ন অসংক্রামক রোগের প্রকোপ কমাতে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকেন্দ্রিক করার কোনো বিকল্প নেই।
স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) ড. মো. এনামুল হক বলেন, উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে বাজেট বৃদ্ধির পাশাপাশি বরাদ্দকৃত বাজেট সঠিকভাবে কাজে লাগাতে হবে। একই সঙ্গে প্রতিরোধ ও সচেতনতামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের যুগ্ম সচিব (বিশ্ব স্বাস্থ্য অধিশাখা) মো. মামুনুর রশীদ বলেন, সব স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কাজ করছে। স্বাস্থ্য খাত সংস্কার কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ডা. লিয়াকত আলী বলেন, স্বাস্থ্য খাত সংস্কার কমিশন আইনগতভাবে বিনামূল্যে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের পাশাপাশি সরকারি ওষুধ প্রস্তুককারক প্রতিষ্ঠান ‘এসেনশিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেডের’ সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে ওষুধ সহজলভ্য করার সুপারিশ করেছে।
জীবনাচার পরিবর্তনের পরামর্শ : ঢামেক হাসপাতাল আয়োজিত আলোচনা সভায় চিকিৎসকরা বলেন, উচ্চ রক্তচাপ একটি নীরব ঘাতক, যা দীর্ঘমেয়াদে হৃদরোগ, স্ট্রোক এবং কিডনি রোগের ঝুঁকি বহুগুণে বাড়িয়ে তোলে। দেশে প্রতি চারজনের একজন উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত হলেও অনেকেই বিষয়টি অজান্তেই বহন করছেন। আক্রান্তদের মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণে নেই।
