চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, নারী হেনস্থা ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবকে বহিষ্কার করা হয়েছে। রবিবার (১৮ মে) বিকালে সংগঠনের যুগ্ম সদস্য সচিব রাহাদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বহিষ্কৃতরা হলেন- চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির আহ্বায়ক আরিফ মঈনুদ্দিন ও সদস্য সচিব নিজাম উদ্দিন।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক আরিফ মঈনুদ্দিন ও সদস্যসচিব নিজাম উদ্দিন চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, নারী হেনস্থা ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে সংগঠন থেকে সর্বসম্মতভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। তারা সাংগঠনিকভাবে আর কোথাও সংগঠনের পদ-পদবির পরিচয় প্রদান করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হলো।
যুগ্ম সদস্য সচিব রাহাদুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, শনিবার আমাদের সংগঠনের মুখপাত্র ফাতেমা খানম লিজাকে অনৈতিকভাবে কারও সঙ্গে পরামর্শ না করে বহিষ্কার করা হয়। সেখানে আমাদের কারও মতামত নেওয়া হয়নি। পরবর্তীতে আমাদের সংগঠনের অফিসিয়াল গ্রুপে এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাকি সদস্যরা লিজার বহিষ্কারের বিষয়ে কিছু জানেন না বলে মতামত দেন। সেখানেই আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবের বহিষ্কারের মতামত চাওয়া হলে সবাই তাদের বহিষ্কারের মত দেন। সে প্রেক্ষিতে আমি তাকে বহিষ্কার করেছি।
আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবকে একজন যুগ্ম সদস্য সচিব বহিষ্কার করতে পারেন কিনা জানতে চাইলে রাহাদ বলেন, যেহেতু উনারা কাউকে বহিষ্কারের বিষয়ে কারও মতামত নেয়নি তাদের দুইজনের মতামতে কাজ করছেন সেখানে আমরা তাদের ফলো করি এবং সেটাই আমি করেছি। এছাড়া ফাতেমা খানম লিজার বহিষ্কারাদেশ যেহেতু মনগড়া তাই সেও আমাদের সঙ্গে এখনো যুক্ত আছেন।
বহিষ্কারের বিষয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চট্টগ্রাম মহানগরের সদস্য সচিব নিজাম উদ্দিন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘যে কেউ চাইলে কি দিতে পারে আর সে তো আমাদের সংগঠনে নেই। আরও দেড় মাস আগে সে পদত্যাগ করেছে। তার বিষয়ে আমরা আজকে মিটিং এ সিদ্ধান্ত নেব।
মুখপাত্র লিজার পাঠানো উকিল নোটিশ পেয়েছেন কিনা জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, এখনো পাইনি, তবে পেলে প্রমাণসহ জবাব দেব।
এর আগে দুপুরে ফাতেমা খানম লিজা দেশ রূপান্তরকে জানান, তাকে অনৈতিকভাবে বহিষ্কার করায় তিনি আইনি পদক্ষেপ হিসেবে সংগঠনের আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবকে আইনজীবীর মাধ্যমে লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছেন। আগামী ৭ দিনের মধ্যে সে নোটিশের জবাব না দিলে তিনি মামলা করবেন বলে জানান।
নোটিশের বিষয়ে লিজার আইনজীবী মোহাম্মদ মঞ্জুরুল হক দেশ রূপান্তরকে বলেন, আহ্বায়ক কমিটি চাইলে কাউকে বহিষ্কার করতে পারে না। আমার মক্কেলের বহিষ্কারাদেশ সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে করা হয়েছে। তাই আমার মাধ্যমে নোটিশ পাঠানো হয়েছে। সেখানে বলা হয় লিজাকে নিয়ে যে আদেশ দেওয়া হয়েছে সেটি যদি প্রত্যাহার করা না হয় তবে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
