পুশইন ও অনুপ্রবেশের ঘটনায় সীমান্তে উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতা

আপডেট : ১৮ মে ২০২৫, ০৯:৫৩ পিএম

সম্প্রতি একের পর এক পুশইন ও অনুপ্রবেশের ঘটনায় সীমান্তজুড়ে তৈরি হয়েছে চরম উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতা। এর প্রভাব পড়েছে মৌলভীবাজারের কুলাউড়া, বড়লেখা ও কমলগঞ্জ- এই তিন ভারত সীমান্তবর্তী উপজেলায়ও। 

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সূত্রে জানা গেছে, গত দুই সপ্তাহে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) অন্তত দুই শতাধিক নারী, শিশু, রোহিঙ্গা, ভারতীয় ও বাংলাদেশিকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে পুশইন করেছে। এর মধ্যে ১৩৩ জনকে বিভিন্ন সীমান্ত থেকে আটক করেছে বিজিবি।

বিজিবি ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আটক ব্যক্তিরা জীবিকার সন্ধানে অবৈধভাবে ভারতে গিয়েছিলেন। পরে ভারতীয় পুলিশ তাদের ধরে বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করে, আর বিএসএফ কাঁটাতার পেরিয়ে বাংলাদেশে ঠেলে দেয়।

বিজিবির তথ্যমতে, গত ১৪ মে বড়লেখা উপজেলার উত্তর শাহবাজপুর সীমান্ত দিয়ে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ৪৪ জনকে পুশইন করে বিএসএফ। এর এক সপ্তাহ আগে, ৭ মে কমলগঞ্জের ধলই সীমান্ত দিয়ে ১৫ জন এবং ৮ মে বড়লেখার পাল্লাতল ও লাতু সীমান্ত দিয়ে আরও ৪৪ জনসহ ৫৯ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়া হয়। সর্বশেষ ১৫ মে কুলাউড়ার মুরইছড়া সীমান্ত দিয়ে ১৪ জন এবং বড়লেখার গানদাইল সীমান্ত দিয়ে ১৬ জনকে আটক করা হয়।

বিজিবি জানায়, আটক ব্যক্তিদের বেশিরভাগই বাংলাদেশি নাগরিক, যাদের মধ্যে অধিকাংশই গরিব ও দিনমজুর শ্রেণির মানুষ। সীমান্তের ওপারে এখনো কিছু বাংলাদেশি আটক রয়েছে, যাদেরও পুশইনের প্রস্তুতি চলছে।

সীমান্তবর্তী মুরইছড়া এলাকার বাসিন্দা খালেদ মিয়া বলেন, সীমান্তে বসবাস এখন খুব অনিরাপদ হয়ে পড়েছে। ফসলের মাঠে গেলে চিন্তায় থাকতে হয়, কখন বিএসএফ গুলি চালাবে বা ধাওয়া দেবে কেউ জানে না।

আরেক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, গরু চরাতে গেলে প্রায়ই বিএসএফের মুখোমুখি হতে হয়। তারা অনেক সময় গালাগাল করে, হুমকি দেয়।

স্থানীয়দের দাবি, সীমান্তে শান্তি ফিরিয়ে আনতে সরকারকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। জনপ্রতিনিধি ও বিশ্লেষকরাও বলছেন, পুশইন ও অনুপ্রবেশ শুধু সীমান্তবাসীর নিরাপত্তা নয়, দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের জন্যও হুমকি।

মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার এমকেএইচ জাহাঙ্গীর হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, জেলার সব সীমান্তে পুলিশের টহল বাড়ানো হয়েছে। গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরাও কাজ করছেন। বিজিবির কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী আটক ব্যক্তিদের যাচাই-বাছাই শেষে থানায় ও পরে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে।

সীমান্তে পুশইন ও অনুপ্রবেশ রোধে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলে জানিয়েছেন ৪৬-বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এ এস এম জাকারিয়া ও ৫২-বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী হাসান। তারা দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমরা সীমান্তে সতর্ক অবস্থানে আছি। প্রতিটি প্রতিটি অনুপ্রবেশের ঘটনায় তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত