মাহমুদ সিমান্তর কবিতা

আপডেট : ২২ মে ২০২৫, ১২:২২ এএম

জাগতিক প্রেমবোধ

 

এই ঘর, এই বাড়ি, এই লোকালয়

মাটি, সবকিছু রয়ে যাবে

অনন্তের মায়াপথে হারাবে মানুষ

থাকবে না কেউ, তুমি আমি।

 

কীরকম হবে আগামীর জনপদ

সোসাইটি, নির্মাণ, নির্মিতি

অজানা, অচেনা সব মানুষের মুখ

আজ আর জানতে চাই না

যে রকম খুব বেশি মেলেনি অতীত।

বারবার দেখে যাই মানুষের মুখ

পশু, পাখি, দেখি সব জল সখাদের

কোথাও মেলে না কোন অতীত, ভবিষ্যৎ, বর্তমান

আমাদের সময়ের মায়ার বন্ধনে সব তালা দিয়ে যাবে।

তোমাকে বলছি, শোন আজ,

সকলের মুখ তুমি তাকিয়ে তাকিয়ে দেখে নিও

জাগতিক প্রেমবোধ ওখান থেকেই জেগে উঠে।

সৌন্দর্য

 

চাইলেও কি একটি প্রজাপতি হতে পারে কেউ?

 

তার মতো সুন্দর রঙিন তুমি হতে পারবে না

ও রকম সৌন্দর্যের গর্ব করা তাকেই মানায়।

 

প্রজাপতি সুন্দর ডানায় শান্তশিষ্ট উড্ডয়ন প্রিয়

রূপারোপ সৌন্দর্যের এ রকম কিছু ঈর্ষা নিয়ে

দিবস রজনী ভেস্তে যায়

সুন্দর আদর্শ নিয়ে ভাবি

যতই চলেছি আমি শিষ্ট শুদ্ধাচারে

পৃথিবীটা প্রতিবারই ততটুকু বিপরীত গেল

ক্রমশ নাদান শিশু হয়ে

চারদিকে কলুষতা জয় জয় দেখে যাচ্ছি শুধু।

 

ভাবি ঘর, জীবন, সংসার

হয় সব পরের খবর

বাহির যোজনা? তাতে দেখি অন্তর ফুটে না

অন্তরও সীমাবদ্ধ, রঙিন ডানায় তার উড্ডয়ন নেই

সে কোথাও সৌন্দর্য দেখে না।

 

পৃথিবীতে কত শত অজানা সৌন্দর্য আছে ছড়িয়ে ছিটিয়ে

সকল সৌন্দর্য দেখে ঈর্ষা নিয়ে জাগবে কীভাবে?

সেই পথ বের করে দেখাও এবার।

আমায় ডেকেছে গ্রাম

 

আমায় ডেকেছে নদী, কলমির জল

হাওরের বুকে জাগা একাকী হিজল

আমায় ডেকেছে রোদ, উদাস দুপুর

আমায় ডেকেছে গেয়ো অলস পুকুর।

 

এসেছি শহুরে এক কালো ধোঁয়া হতে

পাহাড়, নদীর বুক ক্ষেত-মাঠে যেতে

নীরবতা সবুজের চোখবুজা রূপ

লাউমাচা, পুইমাচা, শাপলা, শালুক।

 

সকালের সূর্যোদয়, মুখধুয়া জল

জেলেদের, মাঝিদের ভিরু কলকল

কৃষকের রাখালিয়া সুর বাজে কানে

আমি যে এসেছি আজ কেউ কি তা জানে?

 

নীরবতা নীরবতা কুয়াশার মাঠ

জলে ভেজা মাচালিতে খুলেছে কপাট

ফসলের ঘ্রাণে ভরা বাতাস মধুর

কিশোরী জীবন জাগে সোনার নূপুর।

 

আমায় ডেকেছে গ্রাম সহজ শিক্ষায়

ধীরে ধীরে আলো জ¦ালা দেশাল বিক্ষায়

শস্যমাঠে শিশিরের মুক্তোর ঝিলিক

গ্রামীণ হয়েছে যেন স্বপ্নের অলিক।

আস্থা

 

ক্ষুধার্ত বাঘের কথা ভাবো।

শিকার ফসকে গেলে কত অসহায়!

এ জন্য দুঃখ করে কাতর হয় কি কেউ? বলো?

 

ক্ষুধা আর আস্থা

             আস্থা আর শক্তি

কার পাল্লা বেশি ভারী হয়, বলো তাও।

 

শক্তির জন্যই সেরা বাঘ

তোমার আস্থাও তাই

             তাকেই দিয়েছে শীর্ষস্থান

আস্থা করে বসে থেকে কী লাভ? এবার,

মেলাও হিসাব করে খুব তাড়াতাড়ি।

 

ক্ষুধা পেলে, খাদ্যের সংকট হলে

             বাঘ মরে যায়

শক্তির আস্থায় তুমি তার

             কোনো খবর রাখো না।

 

আস্থার হিসাব করে দেখি আজ

             বাঘ অসহায়

দুর্দান্ত শক্তির রাজ্যে এটাই নিয়তি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত