বৈরী আবহাওয়ায় মঙ্গলবার বিকেলে নামল না সাফ অনূর্ধ্ব-১৯ চ্যাম্পিয়নশিপে রানার্স-আপ বাংলাদেশ দলকে বহনকারী বিমান। ফিরে গেল কলকাতায়। ঘণ্টাখানেক পর সবুজ সংকেত পেয়ে বিমান উড়ল ঢাকার উদ্দেশ্যে। ততক্ষণে ঢাকার আকাশে অন্ধকার নেমেছে। আর যানজট পেরিয়ে দল যখন বাফুফে ভবনে পৌঁছাল তখন ঘড়ির কাঁটা রাত ১০টা পেরিয়েছে। দলের আসার খবর পেয়ে বাফুফে ভবনে ছুটে এলেন সভাপতি তাবিথ আউয়াল ও ডেভেলপমেন্ট কমিটির প্রধান নাসের শাহরিয়ার জাহেদী। ফুটবলাররা ততক্ষণে রাতের খাবার সেরে অপেক্ষায়। আগের রাতে ফাইনালে ভারতের কাছে টাইব্রেকারে হার, এরপর দীর্ঘ ভ্রমণের ধকল ফুটবলারদের চোখেমুখে। তবে সভাপতি ও সহ-সভাপতির আগমনে সেই ধকল ধুয়েমুছে সাফ। দুই অভিভাবক যে তাদের জন্য নিয়ে এসেছিলেন বোনাস। জাহেদীর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয় উপহার ও অর্থ পুরস্কার। অঙ্কটা নেহাত কম নয়। প্রত্যেক ফুটবলার পেলেন ৫০ হাজার টাকা করে। তাতে আফসোসটা একটু বাড়লই নাজমুল হুদা ফয়সাল, মুর্শেদ আলীদের। শিরোপা জিতলে নিশ্চিত বোনাসের পরিমাণটা কয়েকগুণ বেড়ে যেত! তারপরও আসল লক্ষ্য ছুঁতে না পারলেও অনুপ্রেরণা পাওয়ার মতো একটা পুরস্কার নগদেই পেয়ে গেছেন তরুণ ফুটবলাররা। বাফুফে কর্তাদের এই উদ্যোগ অবশ্যই প্রশংসার দাবি রাখে। তবে এই উদ্যোগেই উঠে যাচ্ছে প্রশ্ন। রানার্স-আপেই ছেলেদের হাতে পৌঁছে গেছে নগদ পুরস্কার, অথচ দেশকে দ্বিতীয়বারের মতো সাফ জিতিয়েও নারী ফুটবলররা বুঝে পাননি প্রতিশ্রুত দেড় কোটি টাকা বোনাস।
ভারতের অরুণাচল প্রদেশে অল্পের জন্য শিরোপা জেতা হয়নি বাংলাদেশের। নির্ধারিত ৯০ মিনিট ১-১ থাকার পর টাইব্রেকারে গড়ায় শিরোপা ভাগ্য। সেখানেও একটা সময় এগিয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশ। তবে হেলায় সে সুযোগ হারিয়ে সঙ্গী হয় কান্না। অথচ সেরা হতে পারলে কত কিছুই না পেতে পারতেন তারা। র্যাডিয়েন্ট ফার্মাসিউটিক্যালসের স্বত্বাধিকারী জাহেদী সব ব্যবস্থাই আগাম নিয়ে রেখেছিলেন। ফুটবলে নতুন এই মুখকে হতাশা গ্রাস করে দলের ফাইনালের ব্যর্থতায়। তবে তিনি হতাশ হওয়ার পাত্র নন। বরং ছেলেদের ওপর রেখেছেন পূর্ণ আস্থা, ‘সাফে ছেলেরা দারুণ খেলেছে। বিশেষ করে ফাইনালে পিছিয়ে পড়ার পর যেভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে, তা সত্যিই অসাধারণ! আমি তাদের বলেছি, মনোবল হারালে চলবে না। তাদের মধ্যে অনেক সম্ভাবনা রয়েছে। বিশ্বাস করি, আগামীতে এই দলই বাংলাদেশকে শিরোপা এনে দেবে। তাদের অনুপ্রেরণা দিতেই অর্থ পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। আশা করছি, সামনের টুর্নামেন্টগুলোতে ওরা আরও ভালো খেলবে। এর জন্য সবরকমের প্রস্তুতি নেওয়া হবে।’
ফাইনালের না পারার কষ্ট বাফুফে ভবনে এমন উপহারে কিছুটা হলেও কমেছে ছেলেদের। তবে সাফজয়ী নারী দলের সদস্যদের পুষে রাখা কষ্টটা তাতে বাড়ল বৈকি। সেই অক্টোবরে নেপালের মাটিতে স্বাগতিকদের ফাইনালে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো সাফের সম্রাজ্ঞী বনে গিয়েছিলেন সাবিনা খাতুনরা। তাদের অসামান্য সাফল্যে বাফুফে ঘোষণা দিয়েছিল দেড় কোটি টাকা অর্থ পুরস্কারের। সিদ্ধান্ত হয়েছিল নবনির্বাচিত কমিটির সদস্যরাই এই টাকাটা নিজস্ব তহবিল থেকে দেবেন। তবে পরে পুরস্কারের টাকা দিতে সম্মত হননি অনেকেই। ফলে প্রতিশ্রুতিটা বকেয়া থেকে গেছে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে দীর্ঘ ৬ মাস চুক্তির বাইরে থাকা, ম্যাচ ফি না পাওয়া এবং ব্রিটিশ কোচের সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে জাতীয় দল থেকে বাদ পড়ার মতো ঘটনা। সাফজয়ী দলের অধিনায়ক সাবিনা খাতুনসহ পাঁচজনকে ছেঁটে ফেলেছেন ব্রিটিশ কোচ পিটার বাটলার। দেশের নারী ফুটবলের কিংবদন্তি বনে যাওয়া সাবিনাকে জোড়া সাফ জয়ের ৬ মাসের মধ্যে এমন পরিণতি বরণ করতে হবে, তা কে ভেবেছিল? এর সঙ্গে ঘোষিত বোনাস বকেয়া থাকাটা নারী ফুটবলারদের জন্য অনেকটা ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’-এর মতো ঘটনা।
