সরকারহাটে আগাম কোরবানির পশু বেচাকেনা শুরু

আপডেট : ২৪ মে ২০২৫, ০২:৪৫ পিএম

চট্টগ্রামের আনোয়ারার তৈলারদ্বীপ সরকারহাট দক্ষিণ চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী পশুর হাটের একটি। শত বছরের পুরোনো স্থায়ী এ পশুর হাটে সপ্তাহে প্রতি সোম ও শুক্রবার শত শত গবাদিপশু বেচাকেনা হয়। চট্টগ্রাম নগর ও দক্ষিণের বেশ কয়েকটি উপজেলার মানুষসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ক্রেতা-বিক্রেতারা এখানে আসেন।

প্রতি বছর কোরবানির ঈদকে ঘিরে এ পশুর হাটে উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়। দূর-দূরান্ত থেকে গরু আনতে হিমশিম খেয়ে যান খামারি ও বেপারীরা। তবে এবারের চিত্র ভিন্ন। পবিত্র ঈদুল আযহার চাঁদ দেখা না গেলেও অনেক খামারী ও বেপারিরা আগাম গরু নিয়ে এসেছেন।

শুক্রবার বিকেলে সরকারহাট ঘুরে দেখা গেছে, কোরবানির পশু বেচাকেনার সুবিধার্থে হাটে সবধরনের ব্যবস্থা নিয়েছেন ইজারাদার। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ট্রাকে ট্রাকে গরু নিয়ে আসছেন বেপারীরা। হাটে জায়গা আগে বেছে নিয়ে তারা গরুর যত্ন করতে শুরু করেছেন। অনেকে আবার গরু বেচাকেনাও করছেন। তবে কোরবানি ক্রেতার চেয়ে মৌসুমী বিক্রেতাদের গরু কিনতে দেখা গেছে বেশি।

কোরবানির পশু আগাম হাটে নিয়ে আসার কারণ হিসেবে বেপারীরা বলছেন, রাস্তাঘাটে যানজটের কারণে অনেক সময় গরু আনতে দেরি হয়। ট্রাকে থাকা গরু অসুস্থ হয়ে পড়ে, বেশিরভাগ সময় মারা যায়। আবার হাটে জায়গা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। এসব বিষয়কে মাথায় রেখে এবার তারা আগাম এসেছেন।

সিরাজগঞ্জের বেপারি আলী আকবর জানান, তিনি ৮টি গরু নিয়ে এসেছেন। প্রথম দিকে ক্রেতা ভালো পাওয়া যায়। দাম যা চাওয়া হয় তাই মিলে। এ ছাড়া হাটে দেরিতে এলে জায়গা পাওয়া কঠিন হয়। আগে আসায় গরুর যত্ন খাতির করতে পারছেন। সুন্দর করে থাকার জায়গাও পাচ্ছেন। এসব ভেবে তিনি আগাম এসেছেন।

উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, এ বছর উপজেলায় তিনটি স্থায়ী ও নয়টি অস্থায়ীসহ ১২টি পশুর হাট বসানো হয়েছে। এর মধ্যে তৈলারদ্বীপ সরকারহাট, বটতলী রুস্তমহাট ও চাতরী চৌমুহনী বাজার স্থায়ী পশুর হাটের ইজারা রয়েছে।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর সূত্র জানায়, এ উপজেলায় প্রতি বছর কোরবানির ঈদে পশুর চাহিদা থাকে প্রায় ৫৩ হাজার। এবার ৫২০টি খামার ও পারিবারিক উদ্যোগে ছোটবড় ৫৬ হাজারের বেশি গবাদিপশু প্রস্তুত করা হয়েছে। অর্থাৎ চাহিদার চেয়ে ৩ হাজার গবাদিপশু বেশি রয়েছে। এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজার হাজার গবাদিপশু বেপারিরা হাটে নিয়ে আসেন। যা চট্টগ্রাম নগরসহ পার্শ্ববর্তী উপজেলাগুলোতে সরবরাহ করা সম্ভব হবে।

খামারি ও বেপারীরা জানালেন, এ বছর কোরবানির দিনের এক সপ্তাহ আগে হাটে গরু বিক্রি করা যাবে বিষয়টি তাদের জানা ছিল না। তবে আগাম এসে তারা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন। সবার আগে বাড়িতে গিয়ে দারুণভাবে পরিবার-পরিজন নিয়ে ঈদ করবেন।

সরকারহাটের ইজারাদার নুর মোহাম্মদ বলেন, এই হাটে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সুবিধার্থে সবধরনের সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা, পরিবহন ব্যবস্থা, বিশৃঙ্খলা এড়াতে নিরাপত্তার জন্য স্বেচ্ছাসেবক ও পুলিশি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সপ্তাহের সোম ও শুক্রবার হাটের নির্ধারিত দিন হলেও কোরবানে প্রতিদিন চলে পশু বেচাকেনা।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ড. সমরঞ্জন বড়ুয়া বলেন, কোরবানি উপলক্ষে প্রত্যেক পশুর হাটে মনিটরিংয়ের পাশাপাশি পশুর স্বাস্থ্যসেবার জন্য একটি করে মেডিকেল টিম থাকবে।

আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাহমিনা আক্তার বলেন, উপজেলার সব হাট-বাজারের ইজারা কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। এসব পশুর হাটে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত