রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (কেজিডিসিএল)-এর সিবিএ কার্যালয়ে শুরু হয়েছে রংবদলের খেলা। আগে যারা জাতীয় শ্রমিক লীগের ব্যানারে সক্রিয় ছিলেন, তারা এখন পরিচয় দিচ্ছেন শ্রমিক দলের নেতা হিসেবে। নেতৃত্বেও দেখা দিয়েছে রঙের পরিবর্তন।
এই রংবদলের অন্যতম চিত্র শরীফুল ইসলাম। একসময় শ্রমিক লীগের হয়ে সক্রিয় থাকলেও বর্তমানে তিনি কেজিডিসিএল শ্রমিক ইউনিয়ন (২৭৭০)-এর সভাপতি এবং সংস্থাটির বিক্রয় (দক্ষিণ) বিভাগে সহকারী হিসেবে কর্মরত। তার এই রূপান্তর নিয়ে বিব্রত সংস্থার কর্তৃপক্ষও।
গতকাল শনিবার বিকেলে দেশ রূপান্তরকে দেওয়া এক বক্তব্যে কেজিডিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বলেন, ‘এটা আমার কাছে বিব্রতকর একটা বিষয়। সে (শরীফুল) আগে করতো শ্রমিক লীগ। এখন শ্রমিক দলের নেতা হিসেবে সই করা কিছু কাগজপত্র নিয়ে এসেছে। কী বলবো? থু থু মারলে গায়ের ওপর পড়ে।’
যদিও শরীফুল নিজেকে শ্রমিক দলের নেতা হিসেবে পরিচয় দিচ্ছেন, তবে ২০২০ সালের ২৩ অক্টোবর জাতীয় শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক কে এস আজম খসরুর স্বাক্ষরিত দলীয় প্যাডে তাকে জাতীয় শ্রমিক লীগ, কেজিডিসিএল শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, গত বছরের ৫ আগস্ট দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের পর শরীফুল ইসলামসহ আরও কয়েকজন নিজেদের পরিচয় বদলে নেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ছবিতে শরীফুলকে দেখা গেছে সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের প্রভাবশালী সংসদ সদস্য এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী ও মহিউদ্দিন বাচ্চুকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানাতে।
এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের এক নেতাকে ‘ম্যানেজ’ করে শরীফুল রাতারাতি শ্রমিক লীগ থেকে জাতীয় শ্রমিক দলে নাম লেখান। গত অক্টোবর মাসে আদালতের রায়ে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র হিসেবে ডা. শাহাদাত হোসেনের নাম ঘোষণা হওয়ার পর শরীফুল তাকে শুভেচ্ছা জানিয়ে কেজিডিসিএল কার্যালয়ে ব্যানার টাঙান। যদিও পরে ডা. শাহাদাতের নির্দেশে সেই ব্যানার সরিয়ে ফেলতে হয় তাকে।
জানা গেছে, শরীফুল ইসলাম সদ্য নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবদুল জলিলের ভাতিজা। নওগাঁ জেলার বাসিন্দা শরীফুল কেজিডিসিএল-এ ‘দাদাভাই’ নামে পরিচিত। অভিযোগ রয়েছে, পেট্রোবাংলা চেয়ারম্যান জনেন্দ্র নাথ সরকারের বাল্যবন্ধু পরিচয় দিয়ে কর্মকর্তাদের মাঝে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেন তিনি।
সংস্থার একাধিক কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে কেজিডিসিএলে সিন্ডিকেট গড়ে নিয়োগ, বদলি ও অবৈধ গ্যাস সংযোগ বাণিজ্য করে আসছেন শরীফুল। ২০২২ সালের ১২ ডিসেম্বর কেজিডিসিএলের রাজস্ব খাতে ৯০টি পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, ওই নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ না নিয়েও প্ল্যান্ট অপারেটর পদে (রোল: ২৭০০০৪৮১) মো. রূহুল আমীনকে উত্তীর্ণ করিয়েছেন শরীফুল।
এছাড়াও, বিভিন্ন নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতি নিয়ে শরীফুলের অনৈতিক ‘আবদার’ না মানায় বেশ কিছু কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত হতে হয়েছে বলেও জানান একাধিক ভুক্তভোগী। কেজিডিসিএলের ৯০ কর্মচারী নিয়োগে কতিপয় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ১৫ থেকে ২০ কোটি টাকার ‘বাণিজ্যের’ অভিযোগ তুলে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা, দুর্নীতি দমন কমিশনসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
এই দুর্নীতির অন্যতম অভিযুক্ত শরীফুল ইসলাম। অভিযোগ রয়েছে, তিনি লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ না করিয়েই প্রার্থী উত্তীর্ণ করানো এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো গুরুতর অপরাধে জড়িত। এসব বিষয় উঠে এসেছে গত ১৫ মে দেশ রূপান্তরে প্রকাশিত ‘কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানিতে কোটি কোটি টাকার বাণিজ্য’ শীর্ষক প্রতিবেদনে।
ওই প্রতিবেদন প্রকাশের পর গত সপ্তাহে পেট্রোবাংলা থেকে একটি তদন্ত টিম কেজিডিসিএলে এসে অনুসন্ধান করে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কেজিডিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সালাউদ্দিন। তবে তদন্তে কী পাওয়া গেছে সে বিষয়ে বিস্তারিত বলতে রাজি হননি তিনি।
জানা গেছে, তদন্তের মধ্যেই কমিটির সুপারিশপ্রাপ্ত ৮৩ জনকে নিয়োগের প্রক্রিয়া প্রায় চূড়ান্ত করেছে কেজিডিসিএল। তবে এই নিয়োগে চূড়ান্ত অনুমোদন দিলে সংস্থার অভ্যন্তরে অসন্তোষ ও অচলাবস্থা সৃষ্টি হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অভিযোগ সম্পর্কে জানতে গতকাল দুপুরে একাধিকবার শরীফুল ইসলামের মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
কাজী নজরুল ঐক্য ধরে রাখতে শিখিয়েছেন: ঢাবি ভিসি
‘শেখ হাসিনার বিচার ছাড়া কোথাও যেতে পারবে না অন্তর্বর্তী সরকার’
পাকিস্তানে তীব্র ঝড়ে ১৩ জনের মৃত্যু