নীরব সংশ্লিষ্টরা

বরুড়ায় প্রকল্পে কাজ ছাড়াই বিল উত্তোলনের অভিযোগ

আপডেট : ২৬ মে ২০২৫, ১০:০০ এএম

কুমিল্লার বরুড়া উপজেলায় বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) অধীনে কোনো কাজ বাস্তবায়ন না করেই ঠিকাদারদের বিল পরিশোধের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর এক উপসহকারী প্রকৌশলী এবং একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিকের যোগসাজশের অভিযোগ রয়েছে।

২০২১-২২ অর্থবছরে ভবানীপুর ইউনিয়নের ঘটকপুর খলিল চেয়ারম্যান বাড়ির পাশের খালে প্রতিরক্ষা দেয়াল নির্মাণের জন্য এডিপি খাত থেকে ৩ লাখ ৯৯ হাজার ৯১০ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। কিন্তু বাস্তবে এ প্রকল্পের কাজ এলজিইডি এর আওতায় আগেই সম্পন্ন হয়েছিল, যার ব্যয় ছিল ২ লাখ ৮৭ হাজার টাকা। কাজটি শেষ হয় ২০২২ সালের ৭ জুলাই, এবং দায়িত্বে ছিলেন ঠিকাদার খলিলুর রহমান।

পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায়, রাস্তা পাকা করার পাশাপাশি খালের পাশে ৩০০ মিটার প্রতিরক্ষা দেয়াল নির্মাণ করা হয়েছিল। 

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এটি এলজিইডি’র প্রকল্প ছিল এবং চেয়ারম্যানের উদ্যোগে কাজটি বাস্তবায়ন করা হয়। ভবানীপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য জামাল হোসেনও বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “এটি এলজিইডির কাজ ছিল, রাস্তা ও পেলা ওয়াল একসঙ্গে নির্মাণ করা হয়।”

তবে বিস্ময়করভাবে, একই প্রকল্প দেখিয়ে উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় থেকে নতুনভাবে দরপত্র আহ্বান করে শাহজাহান টেকনো বিল্ডার্সকে ৩ লাখ ৯৯ হাজার ৯১০ টাকায় কাজের কার্যাদেশ দেওয়া হয়। ওই প্রতিষ্ঠানটির মালিক রোবায়েত আহমেদ উৎস এবং উপজেলা উপসহকারী প্রকৌশলী আ. মান্নান মিলে পূর্বে সম্পন্ন হওয়া এলজিইডি প্রকল্পকেই এডিপির প্রকল্প হিসেবে দেখিয়ে বিল উত্তোলন করেন।

প্রকৌশলী আ. মান্নান আরএফকিউ (রিকোয়েস্ট ফর কোটেশন) করে পুরো কাজের আর্থিক কাগজপত্র প্রস্তুত করেন এবং বিল অনুমোদনের ক্ষেত্রে প্রধান ভূমিকা পালন করেন। তবে এই বিষয়ে একাধিকবার সরাসরি ও ফোনে যোগাযোগ করা হলেও তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

অন্যদিকে, রোবায়েত আহমেদ উৎস প্রথমে বলেন, `আমার হাতে অনেক কাজ, ফাইল দেখে বলবো।’

এরপর আর কোনো যোগাযোগ সম্ভব হয়নি, তিনি ফোন ধরেননি এবং সরাসরি সাক্ষাতেও পাওয়া যায়নি।

বিষয়টি নিয়ে বরুড়া উপজেলা প্রকৌশলী জাকির হোসেন বলেন, ‘আমি এখানে নতুন এসেছি। ফাইল দেখে খোঁজখবর নিতে হবে, এরপর কিছু বলতে পারবো।’ এর বাইরে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, সরকারি অর্থে বাস্তবায়ন না হওয়া প্রকল্পে বিল উত্তোলনের এই অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টরা সবাই কার্যত নীরব। এতে প্রকল্পের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত