রাজধানীতে পৃথক ঘটনায় দুই শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এরা হলেন হাজারীবাগ মনেশ্বর রোডের একটি ছাত্রনিবাস থেকে উদ্ধার হওয়ার শাফায়েত হোসেন ইউশা (১৯) ও সবুজবাগ কদমতলা এলাকার বাসা থেকে উদ্ধার হওয়া আহসান মাহমুদ আকাশ (২৮)। দুটি মরদেহই আজ সোমবার ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠান হয়।
শাফায়াতের মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদনে হাজারীবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাহবুব অর রশিদ উল্লেখ করেন, খবর পেয়ে রবিবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে মনেশ্বর রোডের ৫/১/বি "টেইক কেয়ার হোম" নামে ছাত্রনিবাসের ৬ষ্ঠ তলা থেকে ফ্যানের সঙ্গে গামছা পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস লাগান শাফায়াতের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। বাসার ৬ষ্ঠ তলায় কয়েকজন শিক্ষার্থী মিলে মেস করে থাকতেন। রবিবার রাত পৌনে দশটা থেকে সোয়া ১২টার মধ্যে সবার অগোচরে ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। এ ছাড়া তার বাম হাতের কব্জির নিচে একটি কাটা জখম রয়েছে। বিস্তারিত তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
শাফায়াতের খালা নাহিদা ইসলাম জানান, শাফায়াতের বাড়ি ফেনী সদর উপজেলার পৌরসভার পাঠানবাড়ি রোডে। বাবার নাম শাহাদাত হোসেন। আর মা মারজাহান কনক হোসেন। বিএফ শাহীন কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। তার পরিবারের সবাই ফেনী সদরে থাকেন। রবিবার দিবাগত রাতে পুলিশের মাধ্যমে এই ঘটনার খবর শুনতে পেয়েছেন তারা। পরবর্তীতে জানতে পারেন, ফেনীতে ৯ম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে শাফায়াতের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তার সঙ্গে মনোমালিন্যের কারণে তাকে ভিডিও কলে রেখেই গলায় ফাঁস দিয়েছে শাফায়াত।
অপরদিকে, আহসান মাহমুদ আকাশের বাড়ি ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার চন্দ্রা গ্রামে। তার বাবার নাম মৃত মোশারফ হোসেন এবং মা শাহিদা বেগম।
সবুজবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সোহাগ মাতুব্বর জানান, রবিবার বিকেলে খবর পেয়ে সবুজবাগ কদমতলা মদিনা মসজিদ গলির জাহানারা গার্ডেনের চতুর্থ তলা থেকে আকাশের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ফ্যানের সাথে রশি পেচিয়ে গলায় ফাঁস লাগান ঝুলন্ত অবস্থায় ছিল মরদেহটি। লাশটি পচন ধরে গেছে।
তিনি জানান, বাসাটির সপ্তম তলায় মৃতের মেঝ বোন আর চতুর্থ তলায় বড় বোন থাকেন। তবে বড় বোন সম্প্রতি চট্টগ্রাম যাওয়ায় ফাঁকা ফ্ল্যাটটিতে থাকছিলেন আকাশ। পরিবার জানিয়েছে আকাশ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ম্যাথমেটিক্স বিভাগে পড়ালেখা করতেন। তবে সম্প্রতি তার বাবা মারা যাওয়ায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন তিনি। এক পর্যায়ে তার মানসিক রোগ ধরা পড়ে। এরপরে তাকে রাজশাহী থেকে ঢাকায় এনে সিদ্ধেশ্বরীতে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করা হয়। এখানে অনার্স শেষ বর্ষের ছাত্র ছিলেন তিনি। তবে মানসিক সমস্যার কারণে পরিবারের কারো সাথেই তেমন যোগাযোগ করতেন না আকাশ। গত ২১ তারিখ তিনি মেঝ বোনকে বলেন, তিনি বাড়িতে যাচ্ছেন; তাকে যেন খোঁজা না হয়। পরবর্তিতে কয়েকদিন হয়ে গেলেও পরিবারের কারো সঙ্গে তার যোগাযোগ হচ্ছিল না। এরপর অনেক জায়গায় খোঁজা হয়। অথচ ৪র্থ তলার ওই বাসায় তারা খোঁজ করেনি। রবিবার দুপুরে তারা সবুজবাগ থানায় যান সাধারণ ডায়েরি করতে। পরবর্তীতে এসআই সোহাগ মাতুব্বর সজনদের কাছে সবকিছু শুনে সর্বপ্রথম ওই বাসায় যান। বাসার দরজা ভেঙে ভিতরে ঢুকেই তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান।
৩ দিনের মধ্যে এনবিআর চেয়ারম্যানের অপসারণ দাবি
শেখ হাসিনাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির হতে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি