৮০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন ইরাকে পানির মজুদ

আপডেট : ২৭ মে ২০২৫, ১২:১০ এএম

মধ্যপ্রাচ্যের তেলসমৃদ্ধ দেশ ইরাকে পানির মজুদ ৮০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছায়। গতকাল সোমবার দেশটির এক সরকারি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরে খরার মতো শুষ্ক বর্ষা মৌসুম এবং ফোরাত ও দজলা নদীতে পানির প্রবাহ কমে যাওয়াই এর প্রধান কারণ। বার্তা সংস্থাটি বলছে, ৪ কোটি ৬০ লাখ জনসংখ্যার দেশ ইরাক জলবায়ু পরিবর্তন, খরা, ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রা এবং বৃষ্টিপাত হ্রাসের কারণে এক ভয়াবহ পরিবেশগত সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

ইরাকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রতিবেশী ইরান ও তুরস্কে নির্মিত বাঁধগুলোর কারণে ঐতিহাসিক ফোরাত ও দজলা নদীর পানিপ্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। হাজার বছর ধরে এই নদী দুটি ইরাকের কৃষিকে সেচ সুবিধা দিয়ে এসেছে।

ইরাকের পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র খালেদ শামাল এএফপিকে বলেন, ‘গ্রীষ্মের মৌসুম শুরু হওয়ার সময় আমাদের পানি মজুদের পরিমাণ অন্তত ১৮ বিলিয়ন কিউবিক মিটার হওয়া প্রয়োজন। কিন্তু বর্তমানে আমাদের কাছে রয়েছে মাত্র ১০ বিলিয়ন কিউবিক মিটার।’

তিনি আরও জানান, গত বছর কৌশলগত মজুদের দ্বিগুণ ছিল। এ বছর পরিস্থিতি সবচেয়ে খারাপ। ৮০ বছরে কখনো এত কম পানি মজুদ দেখা যায়নি। এর মূল কারণ হিসেবে নদীগুলোর পানিপ্রবাহ কমে যাওয়াকে দায়ী করেন তিনি।

শামালের মতে, এই বছর শীত মৌসুমে বৃষ্টিপাত খুবই কম হয়েছে এবং পাহাড়ি অঞ্চলে বরফ গলনের পরও পানির স্তর আশানুরূপ বাড়েনি। জাতিসংঘ ইরাককে জলবায়ু পরিবর্তনের কিছু প্রভাবের জন্য সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ পাঁচ দেশের একটি হিসেবে চিহ্নিত করেছে। দেশটিতে পানির সংকটের কারণে বহু কৃষক তাদের জমি অনাবাদি রাখতে বাধ্য হয়েছেন। ইরাকের কৃষি পরিকল্পনা বরাবরই পানির প্রাপ্যতার ওপর নির্ভরশীল। এ বছর কর্র্তৃপক্ষ প্রায় ১৫ লাখ ৭৫ হাজার ডুনাম (৩ লাখ ৭৫ হাজার হেক্টর) সবুজ এলাকা ও উৎপাদনশীল কৃষিভূমি সংরক্ষণে গুরুত্ব দিয়েছে। গত বছর কৃষকদের ২৫ লাখ ডুনাম জমিতে ভুট্টা, ধান ও ফলের বাগান চাষের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল বলে পানি মন্ত্রণালয়ের তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত