ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইআর) শিক্ষার্থী ও ছাত্রদল নেতা শাহরিয়ার আলম সাম্যর মৃত্যুর ঘটনার প্রতিবেদন পেশ করেছে তদন্ত কমিটি। গতকাল সোমবার সাম্য হত্যাকাণ্ডের ১৩তম দিনে উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খানের কাছে এই তদন্ত প্রতিবেদন হস্তান্তর করা হয়। এদিন ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হওয়ার কথা জানিয়ে উপাচার্য ও প্রক্টরের পদত্যাগ দাবি করা হয়। তা ছাড়া, সাম্য হত্যার বিচারের অগ্রগতি ও ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানিয়ে প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে আইইআর শিক্ষার্থীরা।
সোমবার সকালে তদন্ত কমিটির আহ্বান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান উপাচার্য ভবনে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খানের কাছে তদন্ত রিপোর্ট হস্তান্তর করেন। এ সময়, অন্যদের মধ্যে প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক সাইফুদ্দীন আহমদ এবং কমিটির সদস্যসচিব সহকারী প্রক্টর শারমীন কবির উপস্থিত ছিলেন। জানা যায়, যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে এই তদন্ত প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। এই প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে বিশ^বিদ্যালয়ের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
গত ১৩ মে রাতে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ভেতরে দুর্বৃত্তদের আক্রমণে সাম্য নিহত হন। এই ঘটনা তদন্তে উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমদ খান কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খানকে আহ্বায়ক করে ৭-সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন।
ভিসি-প্রক্টর পদত্যাগ না করলে এর ফয়সালা রাজপথে করার হুঁশিয়ারি ঢাবি ছাত্রদলের: এদিকে, ঢাবি ছাত্রদল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, যদি এই প্রশাসন অনতিবিলম্বে পদত্যাগ না করে তাহলে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা রাজপথে এর ফয়সালা করে ছাড়বে। সোমবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে সাম্য হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সব সন্ত্রাসীকে দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচার নিশ্চিত, নিরাপদ ক্যাম্পাসের নিশ্চয়তা এবং ঢাবি উপাচার্য ও প্রক্টরের পদত্যাগের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচিতে এ কথা বলেন তারা।
অবস্থান কর্মসূচিতে ঢাবি শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন বলেন, সাম্য জুলাই অভ্যুত্থানের একজন সম্মুখ যোদ্ধা। সাম্যর মতো একজন জুলাই যোদ্ধার জীবনের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ এই ভিসি-প্রক্টর। ভিসি-প্রক্টর জুলাই যোদ্ধা এবং ক্যাম্পাসের সাধারণ শিক্ষার্থীর জীবনের নিরাপত্তা দিতে পারেনি। তিনি বলেন, আমরা আমাদের ভাই হত্যার বিচারের দাবিতে এসেছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি এবং প্রক্টর তাদের দায়িত্ব পালনে পুরোপুরি ব্যর্থ। যে আকাক্সক্ষা বাস্তবায়নে আপনাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, আপনারা তা না করতে পেরে আমাদের হতাশ করেছেন। সাম্য হত্যার ন্যায়বিচার আপনারা এখনো নিশ্চিত করতে পারেননি।
ঢাবি ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস বলেন, আজকে ছাত্রদলের সহিষ্ণুতার শেষ কর্মসূচি। আমরা ১৩ দিন অনেক ধৈর্য ধরে ভিসি-প্রক্টরকে সহিষ্ণুতা দেখিয়েছি। ওনারা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা তো দূরের কথা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনে থাকার যোগ্যতা রাখে না। ভবিষ্যতে আমরা যে কর্মসূচি দেবে তা অধিকতর কঠোর হবে।
দ্রুত বিচারের দাবিতে আইইআরের শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ সমাবেশ : সাম্য হত্যাকাণ্ডের ১২ দিন অতিবাহিত হওয়ার পরও ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণে গাফিলতি এবং হত্যাকাণ্ডে জড়িত সব আসামির অনতিবিলম্বে গ্রেপ্তার, সুষ্ঠু বিচার ও নিরাপদ ক্যাম্পাসের দাবিতে প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে আইইআর শিক্ষার্থীরা। সোমবার দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিসের সামনে প্রতিবাদ সমাবেশ করে তারা।
