ঢাকাইয়া আকবর হত্যা, শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদের ভাই-ভাগনে গ্রেপ্তার

আপডেট : ২৭ মে ২০২৫, ০৬:২৯ পিএম

চট্টগ্রামে অন্যতম ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ আলী আকবর ওরফে ঢাকাইয়া আকবর হত্যা মামলায় ভারতে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী খান ওরফে বড় সাজ্জাদের বড়ভাই এবং তার ভাগ্নেকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব-৭ ও পুলিশ। 

সোমবার (২৬ মে) দিবাগত মধ্যরাতে নগরের পাঁচলাইশ এবং চান্দগাঁও থানা এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার দুজন হলেন বড় সাজ্জাদের বড়ভাই ওসমান আলী সেগুন (৩৪) এবং তার ভাগিনা মো. আলভিন (৩০)। 

মঙ্গলবার (২৭ মে) সকালে র‍্যাব-৭ এর পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সোমবার দিবাগত রাতে নগরের চান্দগাঁও থানার ফরিদারপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে আলভিনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে সেগুনকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি র‍্যাবের পক্ষ হতে নিশ্চিত করা হয়নি। 
গত শুক্রবার (২৩ মে) রাত সাড়ে ৮টার দিকে নগরের পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত এলাকার একটি দোকানে সামনে আড্ডারত অবস্থায় ঢাকাইয়া আকবরকে গুলি করে দুর্বৃত্তরা। একই ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হন দর্শনার্থী জান্নাতুল বাকী (৩০) এবং শিশু মহিম ইসলাম রাতুল (৮)। সে নগরের দক্ষিণ পতেঙ্গার ফুলছড়িপাড়ার শওকত হোসেনের ছেলে। 

ঘটনার দুইদিন পর গত ২৫ মে সকাল ৮টায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকাইয়া আকবর মারা যান। এ ঘটনায় তার স্ত্রী রূপালী বেগম বাদী হয়ে ১১ জনের নাম উল্লেখ করে পতেঙ্গা থানায় হত্যা মামলা করেন। খুনের পাঁচদিন আগে ফেসবুকে নুসরাত নামে এক তরুণীর সঙ্গে পরিচয় হয় ঢাকাইয়া আকবরের। শুক্রবার (২৩ মে) তারা প্রথমবার দেখা করতে অক্সিজেন মোড় থেকে প্রাইভেটকারে পতেঙ্গা সৈকতে আসেন। আকবরের সঙ্গে ওই তরুণী ছাড়াও এসময় তার এক ছোট ভাই এবং কয়েকজন বন্ধু ছিলেন। 

সবাই মিলে পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতের ২৮ নম্বর খাবারের দোকানে বসে। মিনিট দশেক পরেই অস্ত্রধারী চারজন যুবক এসে আকবরকে এলোপাতাড়ি গুলি করে। এ সময় প্রাণ বাঁচাতে আকবর সমুদ্রের দিকে দৌঁড়ে পালালেও কমপক্ষে ৬ থেকে ৭টি গুলি তার শরীর ভেদ করে। আকবরের সঙ্গে থাকা সব বন্ধুরা পালিয়ে গেলেও রহস্যময় ওই তরুণী হামলাকারীদের মোটরসাইকেলে চড়ে সমুদ্র সৈকত ছাড়েন। খুনের শিকার আলী আকবরের বিরুদ্ধে নগরের বিভিন্ন থানায় হত্যা, অস্ত্র, চাঁদাবাজির অন্তত ১০টি মামলা রয়েছে। বিভিন্ন সময় এসব মামলায় তিনি গ্রেপ্তার হলেও জামিনে ছাড়া পেয়েছেন। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত