চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বেসরকারি খাতকে প্রস্তুতি নিতে হবে

আপডেট : ৩০ মে ২০২৫, ০২:২৭ এএম

এলডিসি উত্তরণের পর পোশাকশিল্পের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি খাতকে নিজস্ব প্রস্তুতি নিতে হবে। কেননা সরকার একাই সব পারবে না। দেশের বেসরকারি উদ্যোক্তারা বলছেন, ২০২৬ সালে এলডিসি থেকে উত্তরণ ঘটবে। কিন্তু তাদের কোনো প্রস্তুতিই নেই। এ ছাড়া পোশাক খাতে ভয়াবহ ধরনের নারীশ্রমিকের সংখ্যা কমছে। এটি নারীর ক্ষমতায়নে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তবে ভবিষ্যতে টেকসই অর্থনীতির জন্য শুধু পোশাক খাতনির্ভরতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। অন্যান্য রপ্তানিমুখী শিল্পের ক্ষেত্রেও পোশাক খাতের মতো সুবিধা নিশ্চিত করা দরকার, যাতে রপ্তানি বহুমুখীকরণ হয়।

বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) সেমিনারে গতকাল বক্তারা এসব কথা বলেন। রুশিদান ইসলাম রহমানের লেখা ‘শিল্পায়ন ও রপ্তানিভিত্তিক পোশাকশিল্প’ নামের বইয়ের প্রকাশনা উপলক্ষে এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়।

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিআইডিএস সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সেমিনারে অতিথি ছিলেন পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) সদস্য ড. মনজুর হোসেন এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠান পিআরআইয়ের চেয়ারম্যান ড. জাইদী সাত্তার। আলোচক ছিলেন বিআইডিএসের গবেষণা ফেলো সিবান শাহানা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. রুবাইয়া মোরশেদ এবং ড. এম আসাদুজ্জামান। বক্তব্য দেন বইটির লেখক রুশিদান ইসলাম, ড. আব্দুস সাত্তার ম-ল, ড. মোহাম্মদ ইউনূস প্রমুখ। সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন বিআইডিএসের মহাপরিচালক ড. এ কে এনামুল হক।

রুশিদান ইসলাম বলেন, স্বাধীনতার সময় জাতির সামনে উন্নয়নের যে রূপরেখা ছিল, তাতে স্বাধীনতার অব্যবহিত পূর্বকালে ২২ পরিবারের হাতে শিল্পসম্পদ কুক্ষিগত ছিল। তা থেকে মুক্তি পাওয়ার আকাক্সক্ষা ছিল মানুষের মধ্যে। স্বাধীনতাকামী জনগণের প্রত্যাশা ছিল অংশগ্রহণমূলক উন্নয়ন। কিন্তু সেটার পরিবর্তে শিল্পসম্পদ আবারও এ দেশের কিছু বৃহৎ উদ্যোক্তাদের হাতে কুক্ষিগত হয়। ফলে বেকারত্বের হার বাড়তে থাকে। কর্মনিয়োজন ও মূল্যসংযোজনে অংশ বাড়ছে বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর। অন্যদিকে অতিক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের অবদান কমছে। শ্রমিকপ্রতি রপ্তানি বা মূল্যসংযোজন বৃদ্ধি পেলেও অধিকাংশ উপ খাতে জনপ্রতি প্রকৃত মজুরি কমছে।

ড. মনজুর হোসেন বলেন, ‘এলডিসি উত্তরণের পর শুধু পোশাক খাতই নয়, সামগ্রিকভাবে সব শিল্পই চ্যালেঞ্জে পড়বে। ইতিমধ্যেই সরকার তিনটি কমিটি গঠন করেছে। সরকার প্রণোদনা থেকে বেরিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক পরিবর্তনের চেষ্টা করছে। বিভিন্ন দেশের সঙ্গে এফটিএ করার চেষ্টা চলছে। সেটি কঠিন কাজ। তবু প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে। আমাদের নেগোসিয়েশনের দক্ষতার অভাব রয়েছে। জাপানের জেট্রোর মতো বিদ্যমান প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় ঘটিয়ে কিছু করা যায় কি না, সেই প্রচেষ্টা চলছে। তবে সরকার সবকিছুই করবে না। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বেসরকারি খাতকে কিছু করতেই হবে। আমরা সাধারণত নিজেরাই নিজেদের পরিবর্তনের কাজ করি না। এই সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।’

ড. জাইদী সাত্তার বলেন, ‘আমাদের রাষ্ট্রীয় নীতির কারণেই রপ্তানি নিরুৎসাহিত হচ্ছে। কেননা দেশীয় শিল্পগুলো যে পণ্য উৎপাদন করে, তার সামান্যই রপ্তানি করে। এর বেশিরভাগই দেশে বিক্রি হয়। এতে রপ্তানির চেয়ে লাভ বেশি। ফলে রপ্তানি নিরুৎসাহিত হচ্ছে। একটা রপ্তানিবিরুদ্ধ পক্ষপাত রয়েছে।’

বক্তারা বলেন, দেশের শিল্প খাত বৈষম্য বৃদ্ধিতে অবদান রাখছে। এদিকে শিল্পে কর্মসংস্থান বাড়ছে না। রপ্তানি বহুমুখীকরণ করতে হবে। টেকসই অর্থনীতির জন্য শুধু পোশাক খাতের ওপর নির্ভর করে থাকলে চলবে না।

মূল্যসংযোজনের ক্ষেত্রে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের অংশ ২০১১ সালে ছিল ৫২ দশমিক ৯ শতাংশ। তবে ২০১৮ সালে এসে ১৪ দশমিক ৪ শতাংশ কমে গিয়ে অবদান হয়েছে ৩৮ দশমিক ৫ শতাংশ। এ ছাড়া বৃহৎ শিল্প ইউনিটগুলোর অবদান ২০১১ সালে ৪৭ দশমিক ২ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০১৮ সালে হয়েছে ৬১ দশমিক ৫ শতাংশ। ২০১৮ সালের তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ক্ষুদ্র ও অতিক্ষুদ্র শিল্পে গড়ে জনপ্রতি স্থায়ী সম্পদের পরিমাণ যথাক্রমে ৩ লাখ ২২ হাজার এবং ৩ লাখ ৪০ হাজারের মধ্যে। পাশাপাশি মাঝারি ও বৃহৎ শিল্পে তা ছিল ৬ লাখ ১৪ হাজার থেকে ৫ লাখ ৭৪ হাজারের মধ্যে। বইটি বাংলায় লেখায় লেখককে ধন্যবাদ জানানো হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত