বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে যোগদানের ৯ মাস পর নিজ স্বাক্ষরে নতুন নকশা ও নতুন সিরিজের ১০০০, ৫০ ও ২০ টাকা মূল্যমানের বাংলাদেশি মুদ্রা বা ব্যাংক নোট বাজারে ছাড়ছেন ড. আহসান এইচ মনসুর (আহসান হাবিব মনসুর)। আগামী রবিবার ১ জুন থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে নতুন নোট প্রচলন শুরু করা হবে। গতকাল বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় ব্যাংক এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে। নতুন নোটের পাশাপাশি বর্তমানে প্রচলিত সব কাগুজে নোট এবং ধাতব মুদ্রাও চালু থাকবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংক ‘বাংলাদেশের ঐতিহাসিক এবং রবিবার বাজারে আসছে বিভিন্ন নতুন নোট প্রতœতাত্ত্বিক স্থাপত্য’-শীর্ষক নতুন ডিজাইন ও সিরিজের সব মূল্যমানের (১০০০, ৫০০, ২০০, ১০০, ৫০, ২০, ১০, ৫ ও ২ টাকা) নতুন নোট মুদ্রণের কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরের সই করা নতুন ডিজাইন ও সিরিজের ১০০০, ৫০ ও ২০ টাকার ব্যাংক নোট ১ জুন প্রথমবারের মতো বাজারে দেওয়া হবে। বর্ণিত নোটসমূহ ওই তারিখে প্রাথমিকভাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের মতিঝিল অফিস থেকে এবং পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের অন্যান্য অফিস থেকে ইস্যু করা হবে।
মুদ্রা সংগ্রাহকদের চাহিদার বিষয়টি বিবেচনা করে নিয়মিত নোটের পাশাপাশি ১০০০, ৫০ ও ২০ টাকার নমুনা নোট (যা বিনিময়যোগ্য নয়) মুদ্রণ করা হয়েছে; যা টাকা জাদুঘর, মিরপুর হতে নির্ধারিত মূল্যে সংগ্রহ করা যাবে।
নতুন সিরিজের ব্যাংক নোটের ডিজাইন ও নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, ১০০০ টাকার ব্যাংক নোটটির আকার নির্ধারণ করা হয়েছে ১৬০ মি. মি. বাই ৭০ মি. মি. । নোটটি ১০০ ভাগ কটন কাগজে মুদ্রিত এবং নোটে জলছাপ হিসেবে ‘রয়েল বেঙ্গল টাইগার এর মুখ’, ‘১০০০’ এবং ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের মনোগ্রাম’ রয়েছে। নোটটিতে বেগুনি রঙের আধিক্য রয়েছে।
নোটের সম্মুখভাগের বামপাশে জাতীয় স্মৃতিসৌধ, সাভার এর ছবি ও মাঝখানে ‘প্রতিশ্রুত বাক্য’ ও মূল্যমান (এক হাজার টাকা) মুদ্রিত রয়েছে। নোটের মাঝখানে ব্যাকগ্রাউন্ডে পাতা ও কলিসহ প্রস্ফুটিত জাতীয় ফুল শাপলার ছবি মুদ্রিত রয়েছে। এ ছাড়া, নোটের ওপরে বামদিকে নোটের মূল্যমান ‘১০০০’, ডান কোণে ‘১০০০’ ও নিচে ডান কোণে ‘৳ ১০০০’ মুদ্রিত রয়েছে। নোটের পেছন ভাগের ডিজাইন হিসেবে জাতীয় সংসদ ভবন, ঢাকা এর ছবি মুদ্রিত রয়েছে। নোটের ওপরে বাম কোণে মূল্যমান ‘১০০০’ ও ডান কোণে ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের মনোগ্রাম’ এবং নিচে ডান কোণে এবং বাম কোণে মূল্যমান ‘১০০০’ মুদ্রিত রয়েছে। এ ছাড়া, নোটের ডানপাশে উলম্বভাবে ‘১০০০’ মুদ্রিত রয়েছে।
নোটটিতে মোট ১৩ ধরনের নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য সংযোজন করা হয়েছে। নোটটির সম্মুখভাগে বামপাশে ৫ মি. মি. চওড়া নিরাপত্তা সুতা সংযোজন করা হয়েছে যাতে ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের মনোগ্রাম’ এবং ‘১০০০ টাকা’ খচিত রয়েছে। নোটটি নাড়াচাড়া করলে ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের মনোগ্রাম’ অংশের নিরাপত্তা সুতার রং লাল হতে সবুজ রঙে পরিবর্তিত হয় এবং ‘১০০০ টাকা’ অংশে একটি উজ্জ্বল ‘রংধনু বার’ ওপর থেকে নিচে ওঠানামা করে।
নোটের ডান দিকে কোনায় মুদ্রিত মূল্যমান ‘১০০০’-এর রং পরিবর্তনশীল উন্নতমানের নিরাপত্তা কালি (ওভিএমআই) দ্বারা মুদ্রিত, যাতে নোটটি নাড়াচাড়া করলে এর রং ম্যাজেন্টা থেকে সবুজ রঙে পরিবর্তিত হয় এবং মূল্যমানের ভেতরে কোনাকুনিভাবে মুদ্রিত ‘১০০০’ লেখাটি দৃশ্যমান হয়। পাশাপাশি, নোটের সম্মুখভাগের পাতা ও কলিসহ প্রস্ফুটিত জাতীয় ফুল শাপলা রয়েছে যা ইউভি ডিটেক্টর মেশিন দ্বারা দৃষ্টিগোচর হয়।
৫০ টাকার নোট : ৫০ টাকার ব্যাংক নোটটির আকার নির্ধারণ করা হয়েছে ১৩০ মি. মি. বাই ৬০ মি. মি.। নোটটি ১০০ ভাগ কটন কাগজে মুদ্রিত এবং নোটে জলছাপ হিসেবে ‘রয়েল বেঙ্গল টাইগার এর মুখ’, ‘৫০’ এবং ‘বাংলাদেশ ব্যাংককের মনোগ্রাম’ রয়েছে। নোটটিতে গাঢ় বাদামি রঙের আধিক্য রয়েছে।
ব্যাংক নোটটির সম্মুখভাগের বাম পাশে আহসান মঞ্জিল, ঢাকা লেখাটি উভয় পাশে মাইক্রোপ্রিন্ট হিসেবে ইংরেজিতে বাংলাদেশ ব্যাংক এবং পেছনভাগের বামদিকের ওপরে ‘৫০’ ও নিচে ‘৫০’ লেখা ব্যাকগ্রাউন্ডে মাইক্রোপ্রিন্ট হিসেবে যথাক্রমে “৫০ ঞঅকঅ’ এবং ইঅঘএখঅউঊঝঐ ইঅঘক” মুদ্রিত রয়েছে।
২০ টাকা নোট : ২০ টাকার ব্যাংক নোটটির আকার নির্ধারণ করা হয়েছে ১২৭ মি. মি. বাই ৬০ মি. মি.। নোটটি ১০০ ভাগ কটন কাগজে মুদ্রিত এবং নোটে জলছাপ হিসেবে ‘রয়েল বেঙ্গল টাইগার এর মুখ’, ‘২০’ এবং ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের মনোগ্রাম’ রয়েছে। নোটটিতে সবুজ রঙের আধিক্য রয়েছে।
ব্যাংক নোটটির সম্মুখভাগের বাম পাশে ঐতিহাসিক স্থাপনা কান্তজিউ মন্দির, দিনাজপুরের ছবি এবং নোটের মাঝখানে ‘প্রতিশ্রুত বাক্য’ ও মূল্যমান (বিশ টাকা) মুদ্রিত রয়েছে। নোটের মাঝখানে ব্যাকগ্রাউন্ডে পাতা ও কলিসহ প্রস্ফুটিত জাতীয় ফুল শাপলা’র ছবি রয়েছে। এ ছাড়া, নোটের ওপরে বামদিকে মূল্যমান ‘২০’, ডান কোণে ‘২০’ ও নিচে ডান কোণে ‘৳ ২০’ মুদ্রিত রয়েছে।
