তাগিদাপত্রেও সমন্বয় হচ্ছে না বিপুল টাকা!

আপডেট : ৩১ মে ২০২৫, ০৭:৪৪ এএম

খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) জরুরি কাজের জন্য বিভিন্ন সময়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অগ্রিম টাকা প্রদান করে। কিন্তু নিয়ম অনুযায়ী ছয় মাসের মধ্যে এই টাকার হিসাব সমন্বয় না হওয়ায় করপোরেশনের তহবিলে লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে সংস্থাটিতে সমালোচনার ঝড় বইছে। বিশেষ করে, কঞ্জারভেন্সি শাখার নিম্নমান সহকারী মো. নাঈমুজ্জামানের কাছে ৬২ লাখ ৫৫ হাজার ৬১৪ টাকা সমন্বয়হীন রয়েছে। তিনি গত ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এই অগ্রিম টাকা গ্রহণ করলেও হিসাব বিভাগে ভাউচার বা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেননি। শুধু তিনিই নন, ৮ থেকে ১০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর কাছে মোট ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা সমন্বয়হীন রয়েছে। বছরের পর বছর তাগিদাপত্র দেওয়া সত্ত্বেও তারা এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছেন না।

করপোরেশন সূত্রে জানা যায়, স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস, মাতৃভাষা দিবস, ঈদে মিলাদুননবী সহ জাতীয় দিবস এবং অভ্যন্তরীণ সভা-সেমিনারের জন্য অগ্রিম টাকা দেওয়া হয়। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এই টাকা ছয় মাসের মধ্যে ভাউচারের মাধ্যমে সমন্বয় করতে হয়। কিন্তু হিসাব শাখার তথ্য অনুযায়ী, মো. নাঈমুজ্জামান ছাড়াও শিক্ষা কর্মকর্তা এসকেএম তাছাদুজ্জামানের কাছে ৪৪ লাখ ৯৫ হাজার ৮৩৩ টাকা, উচ্চমান সহকারী শেখ নুরুল আমিনের কাছে ৮ লাখ টাকা, সহকারী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) মো. মোস্তাফিজুর রহমানের কাছে ৬ লাখ টাকা, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. শরীফ শাম্মীউল ইসলামের কাছে ২ লাখ ১০ হাজার টাকা, লাইসেন্স অফিসার শেখ মো. দেলওয়ার হোসেনের কাছে ৪৬ হাজার টাকা, সহকারী বাজার সুপার লিয়াকত হোসেনের কাছে ১৯ হাজার টাকা, উপ-সহকারী প্রকৌশলী আবু সালেহ পাটোয়ারীর কাছে ৪৫ হাজার টাকা এবং সম্পত্তি পরিদর্শক ইমতিয়াজের কাছে ১০ হাজার টাকা সমন্বয়হীন রয়েছে।

এ বিষয়ে নাগরিক সমাজের সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট বাবুল হাওলাদার বলেন, হিসাব না দেওয়া মানে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ। এটি করপোরেশনের বিধি-বিধান লঙ্ঘন। তিনি মনে করেন, তাগিদাপত্রের পরও হিসাব না দেওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে দাপ্তরিক ও আইনি ব্যবস্থা নিয়ে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা উচিত। অন্যথায় দুর্নীতি বাড়বে এবং জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতার অভাব দেখা দেবে।

করপোরেশনের বাজেট কাম অ্যাকাউন্টস অফিসার মো. মনিরুজ্জামান জানান, অগ্রিম নিষ্পত্তির জন্য একাধিকবার তাগিদাপত্র দেওয়া হলেও সমন্বয় করা হয়নি। এ অবস্থায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, সমন্বয় না করা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাসিক বেতন-ভাতা স্থগিত রেখে সমন্বয়ের ব্যবস্থা করা হবে। এই পদক্ষেপে দুর্নীতি রোধ ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা চলছে। তবে এই ঘটনা করপোরেশনের আর্থিক ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা এবং তদারকির ঘাটতি প্রকাশ করছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত