জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আসন ভাগাভাগি বা ‘সিট নেগোসিয়েশন’-এ অংশ নিয়েছে বলে যে দাবি উঠেছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর বলে মন্তব্য করেছেন এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রধান সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ। গতকাল শনিবার ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ বক্তব্য তুলে ধরেন।
সম্প্রতি একটি অনলাইন টকশোতে এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু দাবি করেন, এনসিপি পর্দার আড়ালে বিএনপির সঙ্গে আসন ভাগাভাগি নিয়ে আলোচনা করেছে। তিনি বলেন, ‘ধরে নিলাম, পর্দার আড়ালে সিট নেগোসিয়েশন হয়ে গেছে। একটা সমঝোতা হয়ে গেলে দেখবেন, ডিসেম্বরের পরিবর্তে সেপ্টেম্বরেই সবাই নির্বাচনে রাজি হয়ে যাবে।’
এ অভিযোগের জবাবে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘উল্লেখিত রাজনীতিবিদের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা ও সৌহার্দ্য বজায় রেখে স্পষ্টভাবে বলতে চাই, বিএনপি বা অন্য কোনো দলের সঙ্গে আসন ভাগাভাগির কোনো আলোচনা হয়নি। এ দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং বিভ্রান্তিকর।’
তিনি আরও বলেন, এনসিপি সম্পর্কে একটি ভ্রান্ত ধারণা তৈরির চেষ্টা চলছে যে, দল গঠনের স্বার্থে এনসিপি নির্বাচন পিছিয়ে দিতে চায়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘আত্মপ্রকাশের পর থেকে এনসিপি বিচার, সংস্কার ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য একটি রোডম্যাপ দাবি করে আসছে। আওয়ামী লীগ আমলের ভুয়া নির্বাচনগুলোতে জনগণের ভোটাধিকার বাস্তবায়িত হয়নি। তাই আসন্ন নির্বাচন অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু হতে হবে, যাতে জনগণ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে। এ জন্য প্রশাসনিক সংস্কার এবং লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা জরুরি।’
হাসনাত আবদুল্লাহ আরও উল্লেখ করেন, প্রশাসনিক ও মৌলিক সংস্কার সম্পন্ন করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই নির্বাচন সম্ভব। তিনি বলেন, ‘সংস্কার ছাড়া নির্বাচন একচেটিয়া ও একপেশে হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে এ বছরের ডিসেম্বর থেকে আগামী বছরের জুনের মধ্যে জুলাই চার্টারের ভিত্তিতে সংস্কারের মাধ্যমে গণপরিষদ ও আইনসভার নির্বাচন আয়োজন করতে হবে। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতিশ্রুত জুলাই ঘোষণাপত্র জারি করাও অপরিহার্য।’
হাসনাত সতর্ক করে বলেন, ‘যেনতেন বা প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন কেবল ক্ষমতার সিঁড়ি হওয়া উচিত নয়। মৌলিক সংস্কারের মাধ্যমে অর্থবহ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণ নিশ্চিত করতে হবে।’
