দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে ইসি

আপডেট : ০১ জুন ২০২৫, ১২:৩১ পিএম

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন বৈধ ঘোষণা করেছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত। তবে দলটির বহুল ব্যবহৃত প্রতীক ‘দাঁড়িপাল্লা’ বহাল থাকবে কি না, সে বিষয়ে কোনো নির্দেশনা দেননি আপিল বিভাগ। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনের ওপরই ছেড়ে দিয়েছেন আদালত।

আজ রবিবার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ এ বিষয়ে রায় ঘোষণা করেন। রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন ফিরিয়ে দিতে নির্বাচন কমিশনকে অবিলম্বে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন তাঁরা।

আদালতে জামায়াতের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন ব্যারিস্টার এহসান আবদুল্লাহ সিদ্দিক, ব্যারিস্টার ইমরান আবদুল্লাহ সিদ্দিক, অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির, ব্যারিস্টার নাজিব মোমেন ও ব্যারিস্টার মীর আহমেদ বিন কাশেম।

জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন ঘিরে আইনি লড়াই শুরু হয় ২০০৯ সালে। সে সময় বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশনের তৎকালীন সেক্রেটারি জেনারেল সৈয়দ রেজাউল হক চাঁদপুরী, জাকের পার্টির মহাসচিব মুন্সি আবদুল লতিফ এবং সম্মিলিত ইসলামী জোটের প্রেসিডেন্ট মাওলানা জিয়াউল হাসানসহ ২৫ জন দলটির নিবন্ধনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন।

পরবর্তী শুনানি শেষে ২০১৩ সালের ১ আগস্ট বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি কাজী রেজা-উল হকের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ দলটির নিবন্ধন অবৈধ ও বাতিল ঘোষণা করে রায় দেন। এরপর ২০১৮ সালের অক্টোবরে নির্বাচন কমিশন জামায়াতের নিবন্ধন বাতিলের আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি করে।

এরপর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বড় পরিবর্তন আসে ২০২৪ সালে। গত বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দুই মাস পর জামায়াতে ইসলামীর খারিজ হওয়া আপিল আবেদন পুনরুজ্জীবনের মাধ্যমে নতুন করে বিবেচনায় নেয় সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। সেই ধারাবাহিকতায় আজ দলটির রাজনৈতিক নিবন্ধন ফিরিয়ে দেয়ার নির্দেশনা এলো।

তবে প্রতীক ‘দাঁড়িপাল্লা’ থাকবে কি না—এই প্রশ্নে আদালত কোনো সিদ্ধান্ত দেননি। বরং এটি নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ারে রয়েছে বলে মন্তব্য করেন আপিল বিভাগ। এখন কমিশন সিদ্ধান্ত নেবে নিবন্ধনের পাশাপাশি প্রতীক সংক্রান্ত বিষয়টিও।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত