কেসিসির জোড়াগেট পশুহাট

বড় গরুর ক্রেতা মিলছে না; ছোট ও মাঝারীতে চাহিদা

আপডেট : ০৫ জুন ২০২৫, ০৯:০০ পিএম

ক্রেতা-বিক্রেতার উপস্থিতিতে শেষ মূহূর্তে জমে উঠেছে খুলনা সিটি করপোরেশন পরিচালিত জোড়াগেট কোরবানির পশুর হাট। হাটটিতে এবার বড় গরু আসলেও ক্রেতা মিলছে না। কিন্তু ছোট ও মাঝারী গরুর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এই দুই ধরনের গরু বিক্রিও ভালো হচ্ছে। 

তবে দাম নিয়ে ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ের পাল্টাপাল্টি বক্তব্য শোনা যায়। বিক্রেতার দাবি, ক্রেতা দাম কম বলছেন। অন্যদিকে ক্রেতার দাবি, বিক্রেতা দাম বেশি চাচ্ছেন।

এবার ঈদে খুলনা জেলায় ২২টি পশুর হাট বসেছে। হাটগুলোর মধ্যে সর্ববৃহৎ নগরীর জোড়াগেট কোরবানির পশুর হাট। খুলনা সিটি করপোরেশন হাটটি পরিচালনা করছে। গত বছর সপ্তাহব্যাপী এই হাটে গত বছর এই হাটে ছয় হাজার ২৭টি পশু বিক্রি হয়েছিল এবং রাজস্ব আদায় হয়েছিল দুই কোটি ২৫ লাখ ৭৮ হাজার ৫২৭ টাকা। কিন্তু এ বছর বৃহস্পতিবার (৫ জুন) সন্ধ্যা সাত পর্যন্ত হাটে ১ হাজার ১৬৭টি গরু, ৪৬৫টি ছাগল এবং ৪টি ভেড়া বিক্রি হয়েছে। হাসিল আদায় হয়েছে ৫৫ লাখ ১৬ হাজার ৬২৬ টাকা।

বৃহস্পতিবার (৫ জুন) সন্ধ্যায় জোড়াগেট হাটে গিয়ে দেখা গেছে, হাটে বেশি চাহিদা কিছুটা কম দামের ছোট ও মাঝারী গরুর। বিশেষ করে ৯০ হাজার থেকে ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা দামের গরুর চাহিদা বেশি। বড় আকারের গরু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন বিক্রেতারা।
খুলনা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. শরিফুল ইসলাম জানান, সাধারণত  দুই মণ ওজনের গরু ছোট আকারের। দুই থেকে তিন মণ ওজনের গরু মাঝারি এবং এর ওপরের ওজনের গরু বড় আকারের। খুলনায় ছোট ও মাঝারি গরুর চাহিদা বেশি। জোগানও রয়েছে।

নড়াইল থেকে ১২টি মাঝারি ও ছোট আকারের গরু হাটে এনেছেন ব্যাপারী মো. বোখারুল ইসলাম। তিনি জানান, গ্রাম থেকে ১২টি গরু কিনে এই হাটে নিয়ে এসেছেন লাভের আশায়। তবে মাঝারী ও ছোট গরুর চাহিদা বেশি থাকায় ৮টি গরু বিক্রি করেছেন। বাকী ৪টি গরু দ্রুত বিক্রি হয়ে যাবে বলে আশা করছেন তিনি।

তবে হাটে আসা একটি গরু সবার দৃষ্টি কেড়েছে। ১২শত কেজি ওজনের গরুটির নাম রাখা হয়েছে পিটবুল। হাট সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এটাই এখন পর্যন্ত এই হাটের সবচেয়ে বড় গরু। ফ্রিজিয়ান জাতের এ গরুটি এসেছে বাগেরহাটের মোল্লাহাট উপজেলার গাংনী থেকে। এই গরুর বয়স ৫ বছর ১০ দিন। দাম হাঁকা হচ্ছে ১২ লাখ টাকা।

গরুটির মালিক মো. শফিউল্লাহ আক্ষেপ করে বলেন, ‘ লাখ টাকা পর্যন্ত দাম উঠেছে। তবে ১০ লাখ টাকা বিক্রির ইচ্ছে। ওই দামে বিক্রি করলে লোকসান হবে। কারণ গরুর পেছনে অনেক খরচ। গোখাদ্য ও ওষুধের দাম অনেক চড়া। প্রতিদিনই গড়ে ১৫ শত টাকা খরচ হয়।’

হাটে বড় গরু নিয়ে আসা মো. রিপন ও মো. নজরুল ইসলামসহ অন্য বিক্রেতারা জানান, বাজারে ছোট গরুর ক্রেতার সমাগম বেশি। বড় গরু খুব কম মানুষ দাম বলছে। তাই সামান্য লাভে তারা বড় গরু বিক্রি করতে চান। কারণ গরু হাটে আনার পর খাওয়া ছেড়ে দিয়েছে। কিন্তু সেই ক্রেতাও পাচ্ছেন না। তাই ক্ষুব্ধ হয়ে বলেন, এরপর তারা বড় গরু পালবেন না।

খুলনা বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ দপ্তরের সূত্রে জানা গেছে, খুলনা বিভাগের দশ জেলায় মোট ১৬৯টি পশুর হাট বসেছে। এর মধ্যে স্থায়ী হাটের সংখ্যা ১২০টি এবং অস্থায়ী পশুর হাট রয়েছে ৪৯টি। হাটগুলোর মধ্যে খুলনায় ২২টি, বাগেরহাটে ৩৩, সাতক্ষীরায় ১৫, যশোরে ১৯, ঝিনাইদহে ২২, মাগুরায় ১৯, নড়াইলে ৮, কুষ্টিয়ায় ১৭, চুয়াডাঙ্গায় ৮ এবং মেহেরপুরে ৬টি হাট স্থাপন করা হয়েছে। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত