বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেছেন, ফ্যাসিবাদমুক্ত পরিবেশে ঈদুল আজহা আরও প্রাণবন্ত হতো যদি নির্বাচিতদের শাসন ও গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা হতো। জনআকাঙ্ক্ষা ছিল দ্রুত নিরপেক্ষ ও অবাধ নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও চব্বিশের গণঅভুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করা। এ লক্ষ্যে বিএনপিসহ অধিকাংশ রাজনৈতিক দল প্রধান উপদেষ্টার সামনেই আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন দাবি করেছে। কিন্তু প্রধান উপদেষ্টা জানালেন আগামী এপ্রিলের প্রথমার্ধে নির্বাচন। এটা জনগণ ও রাজনৈতিক দলসমূহের প্রত্যাশার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়।
আজ রবিবার দুপুরে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে তিনি এই মন্তব্য করেন।
হালুয়াঘাট পৌর শহরের অগ্রযাত্রা কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌর শহরের বিভিন্ন ওয়ার্ড বিএনপি ও অঙ্গ - সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী ছাড়াও শিক্ষক, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী, আলেম, গারো, হাজং, হিন্দু সম্প্রদায়সহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এবং চব্বিশের গণঅভুত্থানে শহীদ পরিবার ও আহতরা উপস্থিত ছিলেন।
জনগণ তথা রাজনৈতিক দলের মতামতকে অবজ্ঞা করে এপ্রিলে নির্বাচনের সময় নির্ধারণ স্বৈরাচারী মনোবৃত্তির পরিচয় বহন করে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কেন প্রধান উপদেষ্টা এপ্রিলে নির্বাচন নিতে চায় তা উল্লেখ করেন নাই। ঐকমত্যের ভিত্তিতে একমাসের মধ্যে সংস্কার করে অবলিলায় ডিসেম্বরের আগেই নিরপেক্ষ এবং গ্রহণযোগ্য
নির্বাচন সম্ভব।
তিনি বলেন, বিএনপিও যেনতেন নির্বাচন চায় না। বিএনপি অবাধ নিরপেক্ষ ও গ্রণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের সমর্থন যাচাই করতে চায়, জনগণের আস্থা ও রায় নিয়ে জনগণের সেবা করতে চায়।
তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, তিন মাসের মধ্যেই অতীতে তত্ত্বাবধয়ক সরকার যেখানে গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অয়োজন করেছে, সেখানে তিনটি তত্ত্বাবধয়ক সরকারের সময় পার করেও ড. ইউনুস কেন নিরপেক্ষ নির্বাচন অয়োজন করতে পারছেন না? সরকারের ভেতর ও বাহিরে কয়েকটি স্বার্থান্বেষী মহল ড. ইউনূসকে ব্যবহার করে নির্বাচন অনিশ্চিত করতে যড়যন্ত্র করছে। ড. ইউনূসও তাদের প্ররোচনায় সম্প্রতি কয়েকটি বিতর্কিত পদক্ষেপ নিয়ে নিজেও বিতর্কিত হচ্ছেন। যা বিএনপিসহ রাজনৈতিক দল এবং জনগণের কাছে বিস্ময়ক।
এ সময় ময়মনসিংহ উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক এনায়েত উল্লাহ কালাম, হালুয়াঘাট উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মোয়াজ্জেম হোসেন মাস্টার , উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আসলাম মিয়া বাবুল, সদস্য সচিব আবু হাসনাত বদরুল কবীর, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক হানিফ মোহাম্মদ শাকের উল্লাহ, সদস্য সচিব আবদুল আজিজ খান, বিআরডিবির সাবেক চেয়ারম্যন শাহ আফাজ উদ্দিন, ট্র্যাইবল ওয়েল ফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি বিপুল হাজং, হালুয়াঘাট শাখার চেয়ারম্যন সুব্রত রেমা, বিশিস্ট শিক্ষবিদ জয়দেব দত্ত, ময়মনসিংহ কমার্স কলেজের প্রিন্সিপাল এখলাস উদ্দিন, কয়লা আমদানিকারক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক অপু সরকার, হালুয়াঘাট প্রেস ক্লাবের একাংশের সভাপতি সুমন সুভ, অপরাংশের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রজ্জাক, হলুয়াঘাট পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক সুভাষ সাহা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
মেইতেই নেতাকে গ্রেপ্তারে ফের উত্তাল মণিপুর, বন্ধ ইন্টারনেট
স্ত্রীর জানাজায় কাঁদলেন বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী