১১ জুন জামিন পেতে পারেন ইমরান খান

আপডেট : ০৯ জুন ২০২৫, ১১:৫৩ এএম

আল-কাদির ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় কারাবন্দি পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান আগামী ১১ জুন জামিন পেতে পারেন বলে জানিয়েছেন পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)-এর চেয়ারম্যান গোহর আলী খান। খবর: দ্য ইকোনমিক টাইমস।

ইসলামাবাদ হাইকোর্ট (আইএইচসি) ওই দিন ইমরান খান ও তার স্ত্রী বুশরা বিবির দণ্ড স্থগিত চেয়ে দাখিল করা আবেদনপত্রের ওপর শুনানি করবে। এর আগে, গত মাসে ন্যাশনাল অ্যাকাউন্টিবিলিটি ব্যুরোর (এনএবি) আবেদনের ভিত্তিতে শুনানিটি মুলতবি করা হয়েছিল, কারণ সংস্থাটি তাদের আইনি প্রস্তুতির জন্য সময় চেয়েছিল।

৭২ বছর বয়সী ইমরান খান ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে বন্দি আছেন একাধিক মামলায়। তবে দলের প্রধান গোহর আলী খান আশাবাদ প্রকাশ করে বলেছেন, ‘১১ জুন হবে খানের এবং তার স্ত্রীর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এক দিন।’

তিনি আরও জানান, পিটিআই চলতি অর্থবছরের বাজেট এবং চলমান রাজনৈতিক অচলাবস্থার বিরুদ্ধে একটি আন্দোলনের পরিকল্পনা করেছে, যার নেতৃত্ব দেবেন দলের প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খান নিজেই—জেল থেকেই। গোহরের ভাষায়, ‘দলীয় কৌশল ইতিমধ্যেই চূড়ান্ত হয়েছে। ৯ জুন এ বিষয়ে আমরা একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করব।’

এদিকে, খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী ও পিটিআই নেতা আলী আমিন গান্ডাপুর সম্প্রতি ঘোষণা দিয়েছেন, ঈদুল আজহার পর ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে একটি দেশব্যাপী আন্দোলন শুরু করা হবে।

ইমরান খান এরই মধ্যে ঘোষণা দিয়েছেন, কেন্দ্রীয় সরকার পরিচালনাকারী পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজ (পিএমএল-এন) নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের বিরুদ্ধে পিটিআই যে আন্দোলন শুরু করতে যাচ্ছে, তার নেতৃত্ব তিনিই দেবেন—জেল থেকে থেকেই। তিনি পিএমএল-এন ও পাকিস্তান পিপলস পার্টিকে (পিপিপি) আখ্যা দিয়েছেন ‘ম্যান্ডেট চোর’ হিসেবে এবং ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচনের ফলাফলকে বলেছেন ‘মহাকায় ভোট জালিয়াতি’।

গোহর আলী খান দাবি করেছেন, বুশরা বিবিকে বিনা অভিযোগে আটক রাখা হয়েছে শুধুমাত্র ইমরান খানের ওপর চাপ সৃষ্টি করার কৌশল হিসেবে। তার ভাষায়, ‘খানের মুক্তির বিনিময়ে কোনো আপস হবে না।’ তিনি দলীয় কোন্দলের গুঞ্জনও উড়িয়ে দেন।

আলোচিত আল-কাদির ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার সূত্রপাত ২০১৯ সালে, যখন যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সি (এনসিএ) পাকিস্তানি রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী মালিক রিয়াজের পরিবারের সঙ্গে ১৯০ মিলিয়ন পাউন্ড ফেরত দেওয়ার বিষয়ে একটি সমঝোতায় পৌঁছে। ওই অর্থ বিদেশি দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত বলে অভিযোগ ওঠে। পরবর্তীতে, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের নির্দেশে ওই অর্থ পাকিস্তানে ফেরত না এনে বাহরিয়া টাউনের জরিমানার অর্থ হিসেবে ব্যবহারের সিদ্ধান্ত হয়।

বাহরিয়া টাউন করাচির মালির এলাকায় হাজার হাজার একর সরকারি জমি দখলের অভিযোগে অভিযুক্ত ছিল। এরপর প্রতিষ্ঠানটি শত শত একর জমি দান করে আল-কাদির ট্রাস্টকে, যার দুই ট্রাস্টি হলেন ইমরান খান ও তার স্ত্রী বুশরা বিবি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত