দক্ষিণ আফ্রিকায় ভয়াবহ বন্যা, নিহত ৪৯

আপডেট : ১২ জুন ২০২৫, ১০:০২ এএম

দক্ষিণ আফ্রিকার ইস্টার্ন কেপ প্রদেশের একাধিক এলাকায় টানা ভারী বৃষ্টির পর দেখা দেওয়া আকস্মিক বন্যায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৪৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজন স্কুলশিক্ষার্থী রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে স্থানীয় প্রশাসন।

প্রাদেশিক মুখ্যমন্ত্রী অস্কার মাবুয়ানে জানিয়েছেন, বৃষ্টিপাতে সৃষ্ট দুর্যোগ ক্রমশ ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে এবং মৃত্যুর সংখ্যা প্রতিমুহূর্তে বাড়ছে। নিখোঁজদের উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, মঙ্গলবার সকালে মথাতা শহরের একটি সেতু পার হওয়ার সময় একটি যাত্রীবাহী বাস প্রবল স্রোতে ভেসে যায়। বাসটিতে থাকা চালক, কন্ডাক্টর এবং চার শিশু—মোট ছয়জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পরে বাসটি একটি নদীর তীরে পাওয়া গেলেও তার ভেতরে আর কাউকে পাওয়া যায়নি। এখনো নিখোঁজ চার শিশুর সন্ধানে অভিযান চলছে।

স্থানীয় এক প্রশাসনিক কর্মকর্তা নিউজরুম আফ্রিকাকে জানান, বাসে থাকা মোট আটজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। জানা গেছে, বাসটিতে ১৩ জন যাত্রী ছিলেন, যাদের মধ্যে ১১ জনই স্কুলশিক্ষার্থী।

প্রাদেশিক মুখ্যমন্ত্রী মাবুয়ানে বুধবার সকালে দুর্ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি পরিদর্শন করেন এবং ডেকোলিগনি গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তিনি বলেন, অনেক মানুষ ঘরহারা হয়ে রাত কাটাচ্ছেন অস্থায়ী আশ্রয়ে। একই সঙ্গে তিনি স্থানীয়দের উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, “যাঁরা বন্যার শুরুতেই প্রতিবেশীদের সতর্ক করেছেন এবং নিখোঁজদের খোঁজে অংশ নিয়েছেন, তাঁদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।”

মাবুয়ানে আরও জানিয়েছেন, প্রদেশের অন্তত ৫৮টি স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, এর মধ্যে ওআর টাম্বো, আমাথোলি ও আলফ্রেড নজো জেলার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত।

ইস্টার্ন কেপের পাশের কোয়াজুলু-নাটাল প্রদেশেও প্রাকৃতিক দুর্যোগের আঘাত লেগেছে। সেখানে ৬৮টি স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত হলেও কোনো মৃত্যুর খবর মেলেনি এখনো।

প্রবল বৃষ্টি, তুষারঝড় ও বাতাসে মঙ্গলবার থেকেই বিপর্যস্ত জনজীবন। প্রায় পাঁচ লাখ পরিবার বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে। রাষ্ট্রীয় বিদ্যুৎ কোম্পানি এসকম জানিয়েছে, সংযোগ পুনরায় চালু করতে জোর প্রচেষ্টা চলছে।

এর আগেও এপ্রিলের শেষদিকে আকস্মিক বন্যায় ইস্টার্ন কেপের হাজার হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হন। ৩০ এপ্রিল থেকে ২ মে পর্যন্ত সময়ের মধ্যে সেখানকার অন্তত ৪ হাজার ৫০০টি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং অন্তত ১৮ জন আহত হন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত