১৯৯৮ সালে ঢাকায় হয়ে যাওয়া আইসিসি নকআউট ট্রফির শিরোপাটাই এখন পর্যন্ত হয়ে আছে ক্রিকেটের কোনো বহুদলীয় আসরে দক্ষিণ আফ্রিকার পুরুষ দলের সর্বোচ্চ সাফল্য। গত বছর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে সম্ভাবনা জাগিয়েও বৈশ্বিক শিরোপার খরা ঘোচাতে পারেনি প্রোটিয়ারা। এবারে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে সেই আক্ষেপ ঘোচানোর জোরালো সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে এইডেন মার্করামের ব্যাটে। লর্ডসে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালটা জিততে হলে দক্ষিণ আফ্রিকাকে দ্বিতীয় ইনিংসে করতে হবে ২৮২ রান। মার্করাম আর টেম্বা বাভুমার ব্যাটে সেই লক্ষ্যের দিকে অনেকটাই এগিয়ে গেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। তৃতীয় দিন শেষে তাদের সংগ্রহ ২ উইকেটে ২১৩ রান, জয়ের জন্য আর চাই ৬৯ রান আর অস্ট্রেলিয়ার চাই ৮ উইকেট।
১৩৬ বলে অপরাজিত ৫৮ রানের ইনিংস খেলে মিচেল স্টার্ক অস্ট্রেলিয়াকে পৌঁছে দেন ২০৭ রানে। ৬৬ রানে ৬ উইকেট হারিয়েও দ্বিতীয় ইনিংসে অস্ট্রেলিয়া ২০০ ছাড়ায় স্টার্কের ব্যাটে, যার মূল কাজটা বোলিং। দীর্ঘ ব্যাটিংয়ের ক্লান্তিই কি তার বোলিংয়ের ধার কমিয়ে দিল? দ্বিতীয় ইনিংসে দুটো উইকেট পেলেও ওভারপ্রতি গড়ে ৬ রান করে খরচ করেছেন এই বামহাতি পেসার। সেঞ্চুরি তুলে নিয়ে মার্করাম অপরাজিত আছেন ১০২ রানে। আর চোট নিয়েও লড়ে যাচ্ছেন অধিনায়ক বাভুমা (৬৫)।
৮ উইকেটে ১৪৪ রান নিয়ে তৃতীয় দিনের শুরু করা অস্ট্রেলিয়া গোড়াতেই হারায় নাথান লায়নের উইকেট। এরপর জশ হ্যাজেলউডকে নিয়ে শুরু হয় স্টার্কের টিকে থাকার সংগ্রাম। শেষ উইকেট জুটিতে ৫৯ রান যোগ করে অস্ট্রেলিয়া। ২০৭ রানে অলআউট হয় অস্ট্রেলিয়া, ৪ উইকেট কাগিসো রাবাদার। দক্ষিণ আফ্রিকার সামনে ২৮২ রানের জয়ের লক্ষ্য। রায়ান রিকেলটনকে উইকেটের পেছনে অ্যালেক্স ক্যারির হাতে ক্যাচ দিতে বাধ্য করেন স্টার্ক, উইয়ান মুল্ডার একই বোলারের বলে শর্ট কাভারে ক্যাচ দেন মারনাস লাবুশেনের হাতে। ৭০ রানে ২ উইকেট হারিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা যখন ব্যাকফুটে, তখনই মার্করাম-বাভুমার দৃঢ়তায় ঘুরে দাঁড়ায় প্রোটিয়ারা।
