ভোটের তারিখ নির্ধারণে সরকারের দিকে তাকিয়ে ইসি

আপডেট : ১৬ জুন ২০২৫, ০৭:৩৫ এএম

ফেব্রুয়ারি বা এপ্রিলের যে সময়েই নির্বাচন হোক না কেন, নির্বাচন কমিশনের  প্রস্তুতি রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন। তিনি বলেন, ভোটের আট-দশ মাস আগে নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট তারিখ এ মুহূর্তে ঘোষণা সম্ভব নয়। ভোটের সম্ভাব্য সময় নিয়ে সরকারের সঙ্গে নির্বাচন কমিশন আলোচনা করে ধারণা পাওয়ার পরই সিদ্ধান্ত নেবে। গতকাল রবিবার আগারগাঁওস্থ নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন তিনি। এ সময় সিইসি নির্বাচনসংক্রান্ত বিষয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন। এএমএম নাসির উদ্দিন বলেন, ‘জাতীয় নির্বাচন যখনই হোক, আমাদের প্রস্তুত থাকতে হবে। আগে আমাদের বলা হয়েছিল ডিসেম্বর থেকে জুন, আমরা সে টাইম মাথায় রেখে প্রস্তুতি নিচ্ছি এবং এগিয়ে যাচ্ছি। যারা নির্বাচনে অংশ নেবে তাদের জন্য মাঠ সমান রাখব। আমরা রেফারির ভূমিকা পালন করব।’

এক প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, ‘আমরা এখনো প্রস্তুতির বাইরে কিছু চিন্তা করছি না। সরকারের সঙ্গে আমাদের যখন কথাবার্তা হবে, কী ধরনের চিন্তাভাবনা করছে, তখন আমরা ধারণা পাব, তখন সিদ্ধান্তে আসতে পারব। সরকারের কাছ থেকে যদি ধারণা পাই, তাহলে সে অনুযায়ী ইলেকশন ডেলিভার করার জন্য প্রস্তুত আছি এবং প্রস্তুতি নিচ্ছি।’

তিনি বলেন, ‘লন্ডনে যে ঘোষণাটা এসেছে অন্যদের মতো মিডিয়া থেকে যেটুকু জানা, এর বাইরে কিছু নেই। এ নিয়ে আমি মন্তব্য করতে পারব না। ভেতরে কি আলাপ হয়েছে। শুধু যৌথ বিবৃতি যেটা দিয়েছে সেটা তো আন-সাইনড; এটাই বা কতটুকু  জেনুইন তাও তো জানি না। কারও স্বাক্ষর থাকলে বুঝতাম এটা সরকারের পক্ষ থেকে একজন স্বাক্ষর করেছেন, রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে একজন স্বাক্ষর করেছেন। তাহলে বুঝতাম এটা অফিসিয়াল ডকুমেন্ট।’ তিনি বলেন, ‘ধফিসিয়ালি কোনো কিছু না এলে কিছু করা যাবে না। ইতিহাসের পেছনেও ইতিহাস থাকে, আলাপের পেছনেও আলাপ থাকে। ঘোষণা একটা হয়েছে, নিশ্চয়ই ভেতরে অনেক আলাপ হয়েছে। সেগুলোও আমাদের জানতে হবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য।’

নিরাপত্তা উপদেষ্টার প্রসঙ্গ টেনে সিইসি বলেন, ‘নিরাপত্তা উপদেষ্টা একটা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন, ইসি হয়ত একটা তারিখ ঘোষণা করবেন। এটা একটা বিশেষ পরিস্থিতিতে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নিয়েছে। বিশেষ ধরনের সরকার, বিশেষ ধরনের পরিস্থিতি, একদিকে সরকার বিভিন্ন দলের সঙ্গে আলোচনা করছে; সংস্কারের বিষয়ে আলোচনা করছে। বিচারটা বিচারকের হাতে ছেড়ে দিতে হবে, তবে ত্বরান্বিত করার বিষয় রয়েছে, এটি নিয়ে আলোচনা চলছে।’ সিইসি বলেন, ‘সংস্কারের বিষয় রয়েছে। এসব নিয়ে সরকারই আলোচনা করছে। আমাদের ধারণা, সরকারের পক্ষ থেকে একটা তারিখ ঘোষণা হবে। কিন্তু লন্ডন সফরের পরে দায়দায়িত্ব কিছুটা আমাদের ওপরই আসছে।’

ছয়-আট মাস আগে তফসিল হয় না : এক প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, ‘ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন, এটা এখনো আমাদের কাছে পরিষ্কার নয়। নির্বাচনী আইন আরপিও অনুযায়ী ইসি  গেজেটের মাধ্যমে ভোটের তারিখ ঘোষণা করবে। ছয় মাস আট মাস আগে ওই তারিখে নির্বাচন হবে এটা বলার বিধান আরপিওতে নেই। সিডিউল ঘোষণার বিধান বলা রয়েছে।’ তিনি জানান, প্রধান উপদেষ্টা ঐতিহাসিক নির্বাচন উপহার দেওয়ার কথা বলেছেন। এ নির্বাচনটা করবে নির্বাচন কমিশন। সিইসি বলেন, যেদিন শিডিউল ঘোষণা করব, তখন ভোটার তালিকা  রেডি থাকতে হবে। যে তারিখে আমি শিডিউল ঘোষণা করব,  যেদিন ইলেকশনস ডেট হয়, তার মাস দুয়েক আগে শিডিউল হয়।’

সামনের কাজগুলোর বিষয়ে সিইসি জানান, ‘ভোটার তালিকা আইনে সংশোধন করা হবে, ভোটার তালিকা চূড়ান্ত প্রায়। দল নিবন্ধন ও সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণের মতো বড় কাজ রয়েছে।’ তফসিল কবে, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ওয়ার ফুটিংয়ে নির্বাচনের প্রস্তুতির কথা বলেছি। ভোটের তারিখটি এখনো নির্ধারিত হয়নি। সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে ধারণা পওয়া যাবে। ওনাদের পজিশনটা আমাদের বুঝতে হবে।  বোঝার পরে যে দিন তারিখ ঠিক হবে, অ্যারাউন্ড দুই মাস আগে তফসিল ঘোষণা হবে। ঐতিহাসিকভাবে তা-ই, ৫৫ থেকে ৬০ দিন আগে তফসিল; তখন আমরা ঘোষণা করব।’ এক প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, ‘সরকারের সঙ্গে আমাদের এখনো কথা হয়নি। আমরা এখন আমাদের প্রস্তুতি নিয়ে রাখছি। যখনই হয়  যেন আমরা নির্বাচনটা ডেলিভার করতে পারি। আমি এখন আমার প্রস্তুতির বাইরে কিছু চিন্তা করছি না।’ 

প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে দেখা করবেন কি না এমন প্রশ্নের জবাবে সিইসি জানান, প্রয়োজন হলে দেখা করতে পারেন তারা। সরকারের সঙ্গে আলোচনা হবে। তিনি বলেন, সরকারের সহযোগিতা লাগবে। সরকার আলোচনা করছে, অগ্রগতি,  বেসিস কী, চিন্তাভাবনা আমাদের বুঝতে হবে। ইসির নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে কয়েকটি দল এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে সিইসি বলেন, ‘আমার বিশ্বাস, আমাদের দলগুলো দেশের মঙ্গল চায়। রাজনৈতিকভাবে অনেক কথা বলতে হয়, আমি এটাকে রাজনৈতিকভাবে দেখি। রাজনৈতিক সচেতনতা রাখবেন, দলীয় রাজনীতিতে জড়াবেন নাএমন নির্দেশনা কর্মকর্তাদের দিয়েছি। ইসির বিরুদ্ধে বললে একদম আহত হন না দাবি করে তিনি বলেন, সমালোচনাকে স্বাগত জানাই।’

ইসির কঠোর নির্দেশনা : নির্বাচনে কর্মকর্তাদের নিরপেক্ষভাবে কাজ করার বিষয়টি বারবার স্মরণ করে দেওয়ার কথা তুলে ধরেন সিইসি। ‘আমরা কারও নির্দেশনায় কাজ করি না। আমরা কারও হুকুমে, কারও নির্দেশনায়, কারও পরিচালনায় আমরা কাজ করি না। কারও দ্বারা প্রভাবিত হয়ে, দলীয় স্বার্থরক্ষার জন্যে কাজ না করার জন্য কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’ আইন অনুযায়ী কাজ করার জন্য বলা হয়েছে বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, ‘অতীতে যা হয়েছে, কেউ যদি মনে করে কেন্দ্র দখল, বাক্স লুট তা দিবাস্বপ্ন। সে সুযোগ এবার আর পাবে না, এটা করতে দিব না ইনশাআল্লাহ। সবাই সুন্দর নির্বাচন চায়।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত