পাচার অর্থ উদ্ধারে দেশ-বিদেশে মামলা হবে : গভর্নর

আপডেট : ১৬ জুন ২০২৫, ০৭:৩৬ এএম

দুর্নীতি, অনিয়ম, লুটপাটের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের ১৫ বছরে দেশ থেকে ২৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পাচার হয়েছে। এ কা-ে দেশের রাজনীতিক, সামরিক ও বেসামরিক, আমলা, বিচার বিভাগসহ সবাই অংশ নিয়েছিলেন। এসব অর্থ উদ্ধারে এবার দেশ-বিদেশে মামলার প্রস্তু তি শুরু করেছে সরকার। গতকাল রবিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের বোর্ডরুমে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর। এ সময় তিনি জানান, বেসরকারি খাতের পাঁচটি ইসলামি ব্যাংককে শিগগিরই একীভূত করা হবে। তবে একত্র হলেও এসব ব্যাংকের কর্মীরা চাকরি হারাবেন না।

অর্থ পাচারকারীদের বিরুদ্ধে মামলার প্রসঙ্গে বলেছেন, ‘আমরা চাই আদালতের মাধ্যমে যাচাই হোক, আমাদের দাবি আসলে যথাযথ কি না। আশা করছি, আদালতের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই অর্থ উদ্ধার সম্ভব হবে।’

গভর্নর বলেন, দেশীয় সম্পদের জন্য দেশের আদালতে এবং বিদেশি সম্পদের জন্য সংশ্লিষ্ট দেশের আদালতে মামলা পরিচালনা করতে হবে। এ লক্ষ্যেই প্রস্তুতি চলছে। অর্থ উদ্ধারে যেসব তথ্য-প্রমাণ দরকার ছিল, তার জন্য যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। এখন সরকার চাইলেই মামলা করতে পারবে। আহসান এইচ মনসুর বলেন, ‘মামলা পরিচালনার জন্য ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক বেশ কিছু ল ফার্ম আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। তারা এখানে ১০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করতে আগ্রহী। পাচার করা টাকা উদ্ধারের পর তারা সেখান থেকে ১৫ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত পার্সেন্টেজ নেবে। বাকি টাকা সরকারকে বুঝিয়ে দেবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ব্রিটিশ সরকারের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ ভালো। সে কারণেই সেখানে বাংলাদেশ থেকে পাচার করা টাকা উদ্ধারে তৎপরতাও বেশি। শুধু তাই নয়, ব্রিটিশ সরকার পাচার করা টাকা উদ্ধারে আমাদের পরামর্শ ও সব ধরনের সহযোগিতা দিয়ে আসছে। তবে আমেরিকা এ ক্ষেত্রে পিছিয়ে। দেশটিতে নতুন সরকার এসেছে। তাদের নীতি প্রণয়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে কাজ চলছে।’

এ ছাড়া বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির (এডিআর) মাধ্যমেও পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, আদালতের বাইরে সমঝোতার মাধ্যমে অর্থ ফেরত আনার ব্যবস্থাও রয়েছে। এই পদ্ধতিতেও একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়, যেখানে উভয় পক্ষের আইনজীবীরা আলোচনা করে সমাধান খুঁজবেন। কোন পথে এগোনো হবে, আদালত নাকি এডিআর। সেটি নির্ধারণ করবে সরকার। সরকারের নির্দেশনা পেলেই বাংলাদেশ ব্যাংক সম্পদ উদ্ধারে প্রয়োজনীয় আইনজীবী নিয়োগ করতে পারবে।

ব্যাংক একীভূত করার প্রসঙ্গে গভর্নর বলেন, ‘নির্বাচনের সঙ্গে ব্যাংক মার্জারের কোনো সম্পর্ক নেই। এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। আমরা আশা করব পরবর্তী সরকার এসে এই প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। তবে নির্বাচন পর্যন্ত অপেক্ষা না করে আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই পাঁচটি ইসলামি ব্যাংক মার্জার করা হবে। এ ক্ষেত্রে ব্যাংক কর্মকর্তাদের দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই। তবে প্রয়োজনে শাখাগুলো স্থানান্তর করা হবে। যেসব ব্যাংকের শাখা শহরে বেশি, সেসব ব্যাংককে গ্রামে পাঠানোর ব্যবস্থা করা যেতে পারে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত