সম্প্রতি লন্ডনে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বগুড়ার কথা তুলে ধরেছেন। তিনি প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাতে লন্ডনের আবহাওয়া নিয়ে কথার প্রসঙ্গে এক সময় বলেন, ‘বগুড়ায় একটি হাঁটার জায়গা করেছি’।
এই হাঁটার জায়গাটিই হলো বগুড়া শহরতলীর ফুলতলা-শাকপালার মাঝামাঝি ‘সিএন্ডবি পার্ক’, যা শাকপালা বাসস্ট্যান্ডের পাশে। সড়ক ও জনপথের এই জায়গাটিতে ওয়াকওয়ে হিসেবে গড়ে তুলেছিলেন তারেক রহমান। পরে তা বগুড়া সিএন্ডবি পার্ক নামে পরিচিতি লাভ করে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ‘বগুড়া সিএন্ডবি পার্ক’ নামে খ্যাত এই স্থানটি শহরের প্রাণকেন্দ্র সাতমাথা থেকে ৩.৬ কিলোমিটার দূরে ফুলতলা ও শাকপালার মাঝামাঝি নট্রামস ইন্সটিটিউটের সামনে অবস্থিত। এটির একপাশ দিয়ে চলে গেছে ঢাকা-রংপুর মহাসড়ক, অপরপাশ দিয়ে বগুড়া-নাটোর মহাসড়ক। ত্রিভুজ আকৃতির এই পার্কটি ২০০৪ থেকে ২০০৫ সালের মধ্যে পার্কটি নির্মাণ করা হয়। পার্কে পুকুরসহ হাঁটার মাঝে জিরিয়ে নেওয়ার জন্য বসানো হয় ছাতা ও বেঞ্চ। এছাড়াও পার্কে হাঁটার জন্য সিসি রাস্তা নির্মাণ করা হয়। সেখানে একটি ফলকও ছিলো। পার্কটি নির্মাণের পর ওই এলাকার বিভিন্ন বয়সী মানুষের কাছে অল্প সময়ের মধ্যে বিনোদনের অন্যতম স্থানে পরিণত হয়। প্রতিদিন সকালে ও বিকেলে শত শত মানুষ পার্কে যান হাঁটতে।
পার্কটিতে চারিদিকে গাছগাছালিতে ভরা হওয়ায় মনোরম পরিবেশের কারণে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। লন্ডনে বৈঠকে কথার প্রসঙ্গে উপস্থাপন করে বগুড়ার প্রতি যে আবেগ তা প্রকাশ করে তারেক রহমান, যা মনে করছেন বগুড়ার মানুষ। কবি সৈয়দ শামসুল হকের ‘আমি জন্মেছি বাংলায়, আমি বাংলায় কথা বলি, আমি বাংলার আলপথ দিয়ে, হাজার বছর চলি’ কবিতার এই লাইনগুলোর প্রতিটি শব্দের মতই আবেগ মিশে আছে বগুড়ার মাটি ও মানুষের সঙ্গে তারেক রহমানের।
স্থানীয়রা বলছেন, রাত হলেই এই পার্কটিতে এখন মাদকের আড্ডা বসে। দিনের বেলাতে এলাকার লোকজন হাটাহাটি করেন। পার্কটি সংস্কার করে, দেখভাল করা হলেও লোকজন পরিবার নিয়ে সেখানে সময় পার করতে পারবেন।
বগুড়া সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, শাকপালা ইন্টারসেকশনটি শাজাহানপুর উপজেলার শাকপালা মৌজার ৭.০৪ একর জমির ওপর করা রয়েছে। পূর্বে একজন মালি নিয়মিত এটি দেখভাল করতেন। বর্তমানে সড়ক বিভাগের পক্ষ থেকে লোক দিয়ে দেখভাল ও রক্ষণাবেক্ষণ করা হচ্ছে।
সোমবার বিকেলে সড়ক ও জনপথ বগুড়ার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবুল মনসুর আহমেদ জানান, দীর্ঘদিন অরক্ষিত ছিলো পার্কটি। সড়ক বিভাগের পক্ষ থেকে তিনি এবং জেলা প্রশাসক পার্কটি পরিদর্শন করেছেন। এটা নিয়ে কি করা যায় তা ভাবা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, পার্কটি সংস্কার ও আধুনিকীকরণের বিষয়ে প্রস্তাবনা পাঠানো হবে। যাতে এই ওয়াকওয়েটি যুগোপযোগী করে মানুষের কাছে তুলে ধরা যায়।
বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করম বাদশা বলেন, তারেক রহমান যে কথা বলেছেন তা তার ভালোবাসা এবং আবেগে বগুড়ার প্রসঙ্গটি এনেছেন। আগামী দিনে বিএনপি যদি রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পায়, তবে ১৬ বছর যে সব এলাকা বঞ্চিত হয়েছে সেই সব এলাকাসহ সবার সুষম উন্নয়ন হবে। নতুন বাংলাদেশ গড়ার কাজ করবেন তারেক রহমান।
