শক্তি দেখাচ্ছে ইরান

আপডেট : ১৭ জুন ২০২৫, ০২:৫৭ এএম

পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি (এনপিটি) থেকে বেরিয়ে আসার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান। গতকাল সোমবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসতে ইরানের পার্লামেন্টের সদস্যরা একটি বিল তৈরি করছেন। তবে একই সঙ্গে মন্ত্রণালয় ইরান সরকারের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে বলেছে, তারা ধ্বংসের জন্য পারমাণবিক অস্ত্র বানানোর বিরোধী। টানা চার দিনের হামলায় ইরানে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২২৪ জনে। ইরানের কুদস ফোর্সের সদর দপ্তরে হামলার খবর পাওয়া গেছে। জবাবে ইসরায়েলের মধ্যাঞ্চল, তেল আবিব ও হাইফায় ইরানের নতুন ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বেশ কয়েকজন নিহত হয়েছে। সব মিলিয়ে তেহরানের হামলায় ইসরায়েলে অন্তত ২৪ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। তবে ইসরায়েল দাবি করেছে, তাদের হামলায় ইরানের সর্বমোট মিসাইল লঞ্চারের ‘এক-তৃতীয়াংশ’ ধ্বংস হয়েছে। পাশাপাশি তেহরানের আকাশসীমায় পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার দাবিও করেছে ইসরায়েল। এদিকে ইরানের রাতভর ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের ইসরায়েল দূতাবাসের তেল আবিব কনস্যুলেট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গতকাল সোমবার ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। ইরান-ইসরায়েল সংঘাতে বিশ্ববাজারে বেড়েছে তেলের দাম। ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান পাল্টাপাল্টি হামলার প্রেক্ষাপটে ইরানের সঙ্গে সীমান্ত বন্ধ করে দিয়েছে পাকিস্তান।

ইরানের এনপিটি চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাওয়া নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাঈ বলেন, সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহের পরিপ্রেক্ষিতে আমরা একটি যথাযথ সিদ্ধান্ত নেব। এ প্রস্তাব এখন শুধু প্রস্তুতির পর্যায়ে রয়েছে, পরবর্তী পর্যায়ে আমরা এটি পার্লামেন্টের সঙ্গে সমন্বয় করব। ১৯৭০ সালে এনপিটি চুক্তি অনুমোদন করেছিল ইরান। এ চুক্তি অনুযায়ী, দেশগুলো বেসামরিক পরমাণু শক্তি কাজে লাগাতে পারে। বিনিময়ে তাদের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি থেকে বিরত থাকতে হয় এবং আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) সঙ্গে সহযোগিতা করতে হয়। গত সপ্তাহে ইসরায়েল ইরানে হামলা চালায়। তারা দাবি করে, তেহরান পারমাণবিক বোমা তৈরির দ্বারপ্রান্তে রয়েছে। তবে ইরান বরাবরই বলে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ। যদিও আইএইএ গত সপ্তাহে এক ঘোষণায় জানিয়েছে, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তির (এনপিটি) শর্ত লঙ্ঘন করছে।

ইরানের পশ্চিমাঞ্চলে সোমবার নতুন করে ইসরায়েলি হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। দেশটির বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সির খবরে বলা হয়েছে, ইরাক সীমান্তের কাছে অবস্থিত ইলম প্রদেশের মুসিয়ান নামক পৌরসভার দমকল বাহিনীর একটি ভবনে ইসরায়েল নৃশংস হামলা চালিয়েছে তেল আবিব। হামলাকালে ইসরায়েলি কিছু ড্রোনকে গুলি করে ভূপাতিত করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন ইরানের কর্মকর্তারা। ইরানের সব নাগরিককে ঐক্যবদ্ধভাবে ইসরায়েলের অন্যায় হামলা মোকাবিলা করার আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। সোমবার ইরানের পার্লামেন্টে এক বৈঠকে তিনি এ আহ্বান জানান। পেজেশকিয়ান বলেন, সংঘাত বন্ধের লক্ষ্যে ইরান কূটনৈতিকভাবে সুযোগ দিয়েছে এবং আলোচনা ও সংলাপের পথ খুলে দিয়েছে। শত্রুরা হত্যা ও সন্ত্রাসবাদের মাধ্যমে ইরান ও তার জনগণকে ধ্বংস করতে পারবে না। (ইরানের) আরও শত শত বীর আছেন, যারা প্রতিবার আক্রমণের শিকার হওয়ার পরেও পতাকা বহন করবেন এবং পথচলা অব্যাহত রাখবেন বলে মন্তব্য করেন তিনি। তবে ইরানের প্রেসিডেন্ট এও বলেছেন, তার দেশ পারমাণবিক অস্ত্র বানাতে চায় না। তবে ইরানের জনগণের উপকারে আসে এমন পারমাণবিক শক্তি উৎপাদন ও গবেষণা করার অধিকার তাদের রয়েছে।

ইসরায়েলের কর্র্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তেল আবিব, হাইফা ও আরও কয়েকটি শহরের আবাসিক এলাকায় ইরানি হামলায় আটজন নিহত হয়েছে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও দেশটির গণমাধ্যম জানিয়েছে, শুক্রবার থেকে এ পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৪ জনে। ইসরায়েলি আর্মি রেডিওর প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের হামলায় ইসরায়েলের মধ্যাঞ্চলে পাঁচজন নিহত হয়। আর ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলীয় শহর হাইফায় নিহত হয়েছে তিনজন। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রায় ৩০০ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ইরানের পাল্টা হামলার অংশ হিসেবে ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ইসরায়েলের মধ্যাঞ্চলের স্থানীয় বিদ্যুৎ গ্রিড। ইসরায়েল ইলেকট্রিক করপোরেশনের বরাত দিয়ে সোমবার এ তথ্য জানিয়েছে সিএনএন। ইসরায়েল ইলেকট্রিক করপোরেশন জানায়, ইরানের হামলার জেরে বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে পড়েছে। যার ফলে যে কারোর বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এ নিরাপত্তা ঝুঁকি দূর করতে সংশ্লিষ্টরা কাজ করে যাচ্ছে। ইসরায়েলে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি জানিয়েছেন, ইরানের রাতভর হামলায় তেল আবিবের মার্কিন দূতাবাস সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এক এক্স পোস্টে তিনি বলেন, তেল আবিবে দূতাবাস ভবনটির আশপাশে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানায় ভীষণ কম্পনে কনস্যুলেট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে কোনো কর্মী হতাহত হয়নি বলেও নিশ্চিত করেছেন তিনি। এ কারণে জেরুজালেমে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান দূতাবাস বন্ধ থাকবে।

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) বলেছে, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ইরানের ১২০টিরও বেশি ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার ধ্বংস করেছে। চার দিনের হামলায় ইরানের মোট ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চারের এক-তৃতীয়াংশ ধ্বংস করেছে বলে দাবি করেছে আইডিএফ। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এফি ডেফরিন বলেন, শুধু রবিবার রাতেই ইসরায়েলি বিমানবাহিনী ২০টির বেশি লঞ্চার ধ্বংস করেছে। ডেফরিন আরও জানান, ইসরায়েল ইরানের মধ্যাঞ্চলের ইস্পাহান শহরে প্রায় ১০০টি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়। প্রায় ৫০টি যুদ্ধবিমান ক্ষেপণাস্ত্রের গুদাম, লঞ্চার ও কেন্দ্রগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালায়। একই সঙ্গে ইরান এ পর্যন্ত প্রায় ৩৫০টি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে বলে দাবি করেছে ইসরায়েলের সেনাবাহিনীর হোম ফ্রন্ট কমান্ড। তারা জানিয়েছে, এ নিহতদের বেশিরভাগই আশ্রয়কেন্দ্রে ছিল না। আলজাজিরা জানিয়েছে, ইসরায়েলের হামলায় ইরানের অভিজাত রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) ‘বিদেশি শাখা’ হিসেবে পরিচিত কুদস ফোর্স। লেবানন, ইরাক, ইয়েমেন ও সিরিয়াসহ পুরো মধ্যপ্রাচ্যে কুদস ফোর্সের ব্যাপক প্রভাব রয়েছে। কুদস ফোর্সের সদর দপ্তর ইরানের রাজধানী তেহরানে অবস্থিত। এখন পর্যন্ত এ দপ্তর থেকে ইসরায়েলি হামলার ব্যাপারে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান পাল্টাপাল্টি হামলার প্রেক্ষাপটে ইরানের সঙ্গে অনির্দিষ্টকালের জন্য সীমান্ত বন্ধ করে দিয়েছে পাকিস্তান। প্রাদেশিক কর্মকর্তাদের বরাতে গতকাল এ তথ্য জানিয়েছে আলজাজিরা। ইরানের সীমান্তবর্তী বেলুচিস্তান প্রদেশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা কাদির বখশ পিরকানি এএফপিকে বলেন, পাঁচটি জেলা চাঘি, ওয়াশুক, পাঞ্জগুর, কেচ ও গোয়াদরে সীমান্ত সুবিধা স্থগিত করা হয়েছে। চাঘি জেলার একটি ক্রসিংয়ের কর্মকর্তা আতাউল মুনিম বলেন, সীমান্তে বাণিজ্যিক কার্যক্রমের ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই এবং ইরান থেকে পাকিস্তানের নাগরিকরা নিজ দেশে সীমান্ত দিয়ে ফিরতে পারবেন বলে জানান তিনি।

বিশ^বাজারে বেড়েছে তেলের দাম : ইরান-ইসরায়েল সংঘাত তীব্র হওয়ায় বিশ্ববাজারে গতকালও ফের বেড়েছে তেলের দাম। দিনের লেনদেনের শুরুতে এশিয়ার বাজারে এ মূল্যবৃদ্ধি দেখা গেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান বলছে, এশিয়ার প্রাথমিক ট্রেডিংয়ে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২ ডলার বা প্রায় ২ দশমিক ৮ শতাংশ বাড়িয়ে প্রতি ব্যারেল বিক্রি হচ্ছে ৭৬ দশমিক ৩৭ ডলারে। বাংলাদেশি টাকায় এক ব্যারেলের মূল্য ৯ হাজার ১৪৪ টাকা। এদিকে, ইউএস ক্রুড ব্যারেল প্রতি ২ ডলার বেড়ে ৭৫ ডলারে বিক্রি হচ্ছে। এর আগে শুক্রবারে ১৪ শতাংশ বেড়েছিল জ্বালানি তেলের দাম। পরে তা ৭ শতাংশে স্থির হয়। শুক্রবারের ৭ শতাংশ দাম বৃদ্ধির পর নতুন এ মূল্য নির্ধারিত হলো। ইরান ও ইসরায়েলের সংঘাতে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা। ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার জেরে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ার শঙ্কা থেকেই এভাবে তেলের দাম বাড়ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যে পরিমাণ তেল সরবরাহ করা হয়, এর ৩ শতাংশই আসে ইরান থেকে। আর ২০ শতাংশ তেল ও এলএনজি সরবরাহ করা হয় এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে।

তেহরান থেকে বাংলাদেশিদের সরিয়ে নিতে ঢাকার প্রস্তুতি : ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান সামরিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ইরানে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। তেহরানে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ও প্রবাসী নাগরিকদের সম্ভাব্য হামলার ঝুঁকি থেকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।

গত শনিবার রাতে ইসরায়েল তেহরানের একটি তেল ডিপোতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর পর রাজধানী জুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ইরান-ইসরায়েল সংঘাতে ইতিমধ্যেই ইরানে দুই শতাধিক এবং ইসরায়েলে অন্তত ২৫ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ইরানে অবস্থিত বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারে বিবেচনা করা হচ্ছে। তেহরানের পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রবাসী ও কূটনীতিকদের নিরাপদ স্থানে স্থানান্তরের বিষয়টি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পর্যালোচনা করছে।

বাংলাদেশ দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, তেহরানে রাষ্ট্রদূতসহ দুজন কর্মকর্তা ও পাঁচজন কর্মচারী এবং তাদের পরিবারসহ প্রায় ৪০ জন বাংলাদেশি আছেন। এ ছাড়া রেডিও তেহরানে কর্মরত রয়েছেন ৮ জন বাংলাদেশি এবং তাদের পরিবারের সদস্যসহ আরও ২৭ জন। শিক্ষার্থী রয়েছেন ১০-১২ জন, পেশাজীবী বাংলাদেশির সংখ্যা প্রায় ১০ জন।

এ ছাড়া ২৮ জন বাংলাদেশির ১৩ জুন দেশে ফেরার কথা ছিল, কিন্তু বিমান চলাচল বন্ধ থাকায় তারা তেহরানে আটকা পড়েছেন। সব মিলিয়ে রাজধানীতে অবস্থানরত বাংলাদেশির সংখ্যা শতাধিক।

ইরানের অন্যান্য অঞ্চলে প্রায় ৬০০ জন স্থায়ীভাবে বসবাসরত বাংলাদেশি রয়েছেন, যাদের অনেকেই দেশটিতে বিয়ে করে বসতি গড়েছেন। এ ছাড়া আরও ৮০০ জন অবৈধভাবে কর্মরত এবং ২০০ জন শিক্ষার্থী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত আছেন। পাশাপাশি, মানবপাচারের ট্রানজিট হিসেবে ইরানে প্রায় ৩০০ থেকে ৫০০ বাংলাদেশি সবসময় অবস্থান করে থাকেন।

সংঘাতকালীন সময়ে দূতাবাসকর্মীদের পরিবারকে আগে সরিয়ে নেওয়ার বিধান থাকলেও এবারে তা সম্ভব হয়নি। কারণ, ইসরায়েলি হামলার কোনো পূর্ব সতর্কবার্তা ছিল না।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সূত্র জানিয়েছে, তেহরানে বিভিন্ন দেশের প্রায় শতাধিক দূতাবাস ও জাতিসংঘ কার্যালয় থাকলেও অধিকাংশ পরিবারকে সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ মেলেনি। তেহরান ও যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা চলমান থাকা অবস্থায় হঠাৎ ইসরায়েলি হামলা হবে, এমন সম্ভাবনা কেউই আমলে নেয়নি।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তেহরানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কারণে দূতাবাসের সদস্যদের গ্রাম বা অন্যান্য অপেক্ষাকৃত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার চিন্তা করা হচ্ছে।

একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘কূটনীতিকদের নিরাপত্তা স্বাগতিক রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলেও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মতো পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন।’

আরেকজন কর্মকর্তা জানান, আকাশপথ বন্ধ থাকায় কূটনীতিকদের সরিয়ে নেওয়ার একমাত্র উপায় হচ্ছে স্থলপথ। ইরানের সঙ্গে সংযুক্ত সীমান্ত দেশের মধ্যে রয়েছে পাকিস্তান, আর্মেনিয়া ও তুরস্ক। তবে তুরস্ক ও আর্মেনিয়ায় প্রবেশে ভিসার প্রয়োজন, যা এই পরিস্থিতিতে সংগ্রহ করা প্রায় অসম্ভব।

বাংলাদেশিদের লেবাননে চলাফেরায় সতর্কতার আহ্বান : মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে লেবাননে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের চলাফেরায় বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের অনুরোধ জানিয়েছে দেশটিতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস। গতকাল সোমবার বিকেলে দূতাবাসের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে এক জরুরি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ সতর্কবার্তা জারি করা হয়। এতে বলা হয়, ‘বিশেষ করে রাতের বেলা জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না যাওয়ার জন্য অনুরোধ করা যাচ্ছে। লেবাননের স্থানীয় কর্র্তৃপক্ষ যেকোনো সতর্কতামূলক নির্দেশনা জারি করলে তা যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে।’

দূতাবাসের পক্ষ থেকে লেবাননে বসবাসকারী প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে, তারা যেন পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন এবং অপ্রয়োজনে জনসমাগম এড়িয়ে চলেন।

এ ছাড়া বিশেষ প্রয়োজনে দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য কয়েকটি হটলাইন নম্বর প্রদান করা হয়েছে। যোগাযোগের জন্য নির্ধারিত নম্বরগুলো হলো :

ফ্রন্ট ডেস্ক : ৭১২১৭১৩৯; হটলাইন : ৭০৬৩৫২৭৮; হেল্পলাইন : ৮১৭৪৪২০৭

উল্লেখ্য, চলমান ইসরায়েল-ইরান উত্তেজনার প্রভাব ইতোমধ্যে লেবাননেও ছড়িয়ে পড়েছে। দক্ষিণ লেবাননে একাধিক স্থানে হামলা এবং পাল্টা গোলাগুলির ঘটনা ঘটছে। এ অবস্থায় দেশটিতে অবস্থানরত প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ দূতাবাস সরব রয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত