কাশ্মীর নিয়ে তৃতীয়পক্ষের মধ্যস্থতা মানবে না ভারত

আপডেট : ১৯ জুন ২০২৫, ১২:০৯ এএম

ভারতীয় উপমহাদেশ বিভক্তির পর থেকেই কাশ্মীর নিয়ে টানাপড়েন লেগে আছে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে। তবে দুই দেশের সাম্প্রতিক সংঘাতের প্রেক্ষিতে কাশ্মীর নিয়ে মধ্যস্থতা করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে কাশ্মীর নিয়ে নয়াদিল্লি যে তৃতীয় কারও মধ্যস্থতা মেনে নেবে না তা ট্রাম্পকে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

গতকাল বুধবার দেশটির পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রি জানান, মঙ্গলবার দুই নেতার মধ্যে ফোনালাপে মোদি কাশ্মীর ইস্যুতে ভারতের দীর্ঘদিনের অবস্থান ট্রাম্পের কাছে শক্তভাবে তুলে ধরেছেন। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী মোদি জোর দিয়ে বলেছেন, ভারত অতীতেও কোনো মধ্যস্থতা গ্রহণ করেনি এবং ভবিষ্যতেও করবে না বলেও জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র।

চলতি বছর মে-তে প্রতিবেশী পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের চারদিনের সংঘাতের পর থেকে ট্রাম্প বারবারই ‘কাশ্মীর ইস্যুতে’ দুই দেশের মধ্য মধ্যস্থতা করার প্রস্তাব দিয়ে যাচ্ছেন। ভারতের জন্য বেশ সংবেদনশীল এই বিষয় নিয়ে এমন প্রস্তাব নয়াদিল্লিকে বেশ অস্বস্তিতে ফেলছে। মিশ্রি বলেন, ওই সংঘাতের সময় কোনো পর্যায়েই ভারত-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তি বা ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে মধ্যস্থতা নিয়ে আমেরিকার সঙ্গে কোনো ধরনের কথাই হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় নয়, বরং নিজ নিজ সেনাবাহিনীর আলোচনার কারণেই ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে সর্বশেষ যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে বলে দাবি করেছেন মোদি। তবে বিক্রম মিশ্রির মন্তব্য নিয়ে এখন পর্যন্ত হোয়াইট হাউজের কোনো প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি। অস্ত্রবিরতিতে পৌঁছাতে অন্য দেশের মধ্যস্থতার কথা পাকিস্তান স্বীকার করলেও ভারত তা অস্বীকার করে আসছে। শিল্পোন্নত দেশের সংগঠন জি সেভেনের সম্মেলনে যোগ দিতে কানাডা গেছেন মোদি। সেখানে অবস্থানকালে ট্রাম্পের অনুরোধেই মোদির সঙ্গে এই আলাপ হয়েছে বলে দাবি করেন মিশ্রি। ফোনকলটি প্রায় ৩৫ মিনিট স্থায়ী হয়। মিশ্রি জানান, সামরিক পদক্ষেপ বন্ধ নিয়ে আলোচনা সরাসরি ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে বিদ্যমান চ্যানেলগুলোতে হয়েছিল, উভয় সেনাবাহিনী আগে থেকেই এসব চ্যানেল বানিয়ে রেখেছিল। ট্রাম্প বারবারই বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ভারত ও পাকিস্তান অস্ত্রবিরতিতে পৌঁছেছে এবং দুই দেশকেই তিনি ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রলোভন দেখিয়ে এতে রাজি করিয়েছেন।

কাশ্মীর নিয়ে ট্রাম্পের মধ্যস্থতার প্রস্তাব নিয়েও ভারত বেশ অস্বস্তির মধ্যে আছে। নয়াদিল্লি কাশ্মীরকে তার অবিচ্ছেদ্য অংশই মনে করে, যে কারণে পাকিস্তানের দখলে থাকা অংশ নিয়ে কারও মধ্যস্থতার তারা তীব্রবিরোধী। ভারত ও পাকিস্তানকে এক পাল্লায় না মাপতে পশ্চিমা অংশীদারদের প্রায়ই বলে থাকে নয়াদিল্লি। কিন্তু ট্রাম্পের টুইটগুলোতে প্রায়ই ভারত ও পাকিস্তানকে একই দৃষ্টিতে দেখা হয়। এটা দিল্লির কূটনৈতিক মহলে ব্যাপক উৎকণ্ঠাও তৈরি করেছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত