পুলিশ হেফাজতে ব্যবসায়ীর মৃত্যু নিয়ে পাল্টাপাল্টি

আপডেট : ২১ জুন ২০২৫, ০৭:৪৬ এএম

কুমিল্লার মুরাদনগরে ইয়াবাসহ আটকের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে পুলিশ হেফাজতে ইন্টারনেট ব্যবসায়ী শেখ জুয়েলের (৪৫) মৃত্যু নিয়ে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। স্থানীয় বিএনপি ও আওয়ামী লীগ উভয়ই জুয়েলকে নিজেদের কর্মী বলে দাবি করছে। জুয়েলের পরিবার অভিযোগ করেছে, পুলিশের নির্যাতনে তার মৃত্যু হয়েছে। পুলিশ অবশ্য এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। 

গত বৃহস্পতিবার বিকেলে মুরাদনগরের বাঙ্গরা বাজার এলাকায় জুয়েলসহ পাঁচজনকে ৭০টি ইয়াবা ট্যাবলেটসহ আটক করে পুলিশ। ওইদিন রাতে মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জুয়েলের মৃত্যু হয়। তিনি বাঙ্গরা গ্রামের মৃত শেখ গোলাম সারোয়ারের ছেলে। 

মুরাদনগর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক কামাল উদ্দিন ভূইয়া বলেন, ‘জুয়েল আমাদের দলের সক্রিয় কর্মী ছিলেন। তার ভাই শাহ পরান বাঙ্গরা পূর্ব ইউনিয়ন যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক। পুলিশ তাকে পরিকল্পিতভাবে নির্যাতন করে হত্যা করেছে।’ তিনি সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ী পুলিশ কর্মকর্তাদের শাস্তির দাবি জানান। 

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদের ছোট ভাই কাজী শাহ আরফিন ফেসবুকে লিখেছেন, ‘বাঙ্গরা থানায় পুলিশ হেফাজতে বিএনপির একজন কর্মী নিহত হয়েছেন, যার বিরুদ্ধে কোনো মামলা ছিল না। এ ঘটনার দ্রুত তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।’ 

জুয়েলের চাচাতো ভাই ও বিএনপি নেতা শেখ সফিকুল ইসলাম বলেন, ‘রাত সাড়ে ৮ টায় বাঙ্গরা থানার এসআই আল আমিনের কাছে জুয়েলের খোঁজ নিতে ফোন করি। তিনি আমাকে মুরাদনগর হাসপাতালে যেতে বলেন। সেখানে গিয়ে দেখি জুয়েল মৃত।’ 

অন্যদিকে, জুয়েলের আরেক চাচাতো ভাই স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি জাকির হোসেন বলেন, ‘জুয়েল আমার সঙ্গে রাজনীতি করত। তবে ৫ আগস্টের পর এখন সবাই বিএনপি।’

আর মুরাদনগর উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক আহ্বায়ক শাহেদুল আলম শাহেদ ফেসবুকে জুয়েলকে বাঙ্গরা ইউনিয়ন যুবলীগের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা বলে দাবি করেছেন। 

জুয়েলের স্ত্রী শিল্পী বেগম অভিযোগ করেন, ‘আমার স্বামী মাদক সেবন বা বিক্রির সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। বৃহস্পতিবার সকালে তিনি ইন্টারনেটের বিল সংগ্রহ করতে গিয়েছিলেন। দুপুরের পর পুলিশ তাকে আটক করে। থানায় গিয়ে দেখা করলে তিনি বলেন, ‘আমি কিছু করিনি, ছাড়ানোর ব্যবস্থা করো।’ রাতে হাসপাতালে গিয়ে দেখি তিনি আর বেঁচে নেই। পুলিশ তাকে মেরে ফেলেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘জুয়েল অনেক আগে স্ট্রোক করেছিলেন, কিন্তু দীর্ঘদিন সুস্থ ছিলেন। পুলিশ এখন স্ট্রোকের গল্প ছড়াচ্ছে।’ 

বাঙ্গরা বাজার থানার ওসি মাহফুজুর রহমান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার বিকেলে বাঙ্গরা গ্রামের মাদক কারবারি মো. হেলালের বাড়ি থেকে ৭০টি ইয়াবাসহ জুয়েল ও তার চার সহযোগীকে আটক করা হয়। আটকরা হলেনÑ হেলাল (৪২), তার স্ত্রী শারমিন প্রকাশ সখিনা (৩৫), খোকন (৪৫) ও দৌলবাড়ি গ্রামের মো. হান্নান (২১)। সন্ধ্যায় তাদের বিরুদ্ধে মাদক আইনে মামলা হয়।

ওসি বলেন, ‘রাতে জুয়েল হাজতে বুকের ব্যথার কথা জানালে তাকে মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।’ 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত