করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট নিয়ে দেশ-বিদেশে সতর্কতা বাড়লেও কুমিল্লার হাসপাতালগুলোতে প্রস্তুতির ঘাটতি চোখে পড়ার মতো। করোনা পরীক্ষার কিট নেই, টিকাদান কর্মসূচিও বন্ধ। ইমারজেন্সি রেসপন্স অ্যান্ড পেনডেমিক প্রিপেয়ার্ডনেস (ইআরপিপি) প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ায় কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও কুমিল্লা জেনারেল হাসপাতালে করোনা আইসিইউ ও আইসোলেশন ইউনিট অচল অবস্থায় পড়ে আছে। এ দুই হাসপাতালে ৬০টি আইসিইউ বেড রয়েছে। এর মধ্যে ৪৮টিই ব্যবহার অনুপযোগী ছিল।
হাসপাতালগুলো পরিদর্শন করে জানা যায়, জনবল ও অর্থ সংকটের কারণে সেবা দিতে পারছে না হাসপাতালগুলো। বেতনের অভাবে প্রকল্পের কর্মচারীদের বেশিরভাগই অনুপস্থিত থাকছেন। ইআরপিপি প্রকল্পের অধীনে ২০২০ সালে স্থাপিত দুটি বিশেষ আইসিইউ ইউনিটে জনবল নিয়োগ দেওয়া হলেও ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নতুন প্রকল্প না থাকায় জনবল সংকট দেখা দিয়েছে। কুমিল্লা জেনারেল হাসপাতালের ৩০টি আইসিইউ বেডের মধ্যে মাত্র দুটি, আর মেডিকেল কলেজের ৩০টি বেডের মধ্যে ১০টি সচল রয়েছে। কর্মরত চিকিৎসক ও নার্সরা বেতন পাননি, তাই অনেকেই কাজ ছেড়ে চলে গেছেন।
এ বিষয়ে কুমিল্লা জেনারেল হাসপাতালের কভিড ডেডিকেটেড আইসিইউ ইউনিটের ইনচার্জ আবদুল মুকতাদির বলেন, মেয়াদ শেষ হওয়ায় মাত্র এক চিকিৎসক ও চার নার্স দিয়ে একটি ইউনিট চলছে, যা রোগীদের প্রয়োজনীয় সেবা দিতে অসমর্থ।
কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ও করোনা ইউনিটের দায়িত্বে থাকা ডা. নিশাত সুলতানা গতকাল রবিবার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘১৭টি সাধারণ বেড ও ১০টি আইসিইউ বেড প্রস্তুত করা হয়েছে। সামান্য কিছু কাজ বাকি রয়েছে। আজ সোমবার থেকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে করোনা ইউনিট চালু করা হবে। মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জনবল দিয়ে কর্যক্রম শুরু করা হবে।
কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এক চিকিৎসক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সরকারি হাসপাতালের আইসিইউতে রোগীর চিকিৎসার খরচ প্রতিদিন মাত্র সাড়ে ৬০০ টাকা, বেসরকারি হাসপাতালে তা ৪০ থেকে ৯০ হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে। তাই গরিব-অসহায় মানুষের কথা ভেবে সরকারি এই সেবার যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।
এ বিষয়ে কুমিল্লা সিভিল সার্জন ডা. আলী নূর বশির বলেন, ‘প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ায় অনেক সমস্যা হয়েছে, তবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বিষয়টি জানে। আইসিইউ ইউনিট সচল রাখতে অন্তত ১৫ জন জনবল প্রয়োজন। করোনা পরীক্ষার কিটের জন্য আবেদন করা হয়েছে, টিকা সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। আমরা যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে প্রস্তুত।’
