আবার একদিনে সর্বোচ্চ ডেঙ্গু রোগী

  • ২৪ ঘণ্টায় ৩৯৪, ৪৭% ঢাকা ও বরগুনায়
আপডেট : ২৪ জুন ২০২৫, ০৯:১১ পিএম

গত চারদিন ধরে দেশে ডেঙ্গু সংক্রমণের সর্বোচ্চ রেকর্ড হচ্ছে। সর্বশেষ গত ২৪ ঘণ্টায় (মঙ্গলবার সকাল আটটা পর্যন্ত) বছরের সর্বোচ্চ ৩৯৪ জন ডেঙ্গু রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

এর আগে প্রথম ২১ জুন সর্বোচ্চ ৩৫২ রোগী ভর্তির রেকর্ড হয়। পরদিন রোগী কিছুটা কমলেও ৩শ’র ঘরেই থাকে ও বছরের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩২৯ রোগী ভর্তির রেকর্ড হয়। এরপর গতকাল সোমবার ফের সর্বোচ্চ ৩৯২ জন রোগী ভর্তি হয়। আজ রোগীর সংখ্যা আরও দুইজন বেড়ে ৩৯৪ জন হয়।

মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এই তথ্য জানায়। 

অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, নতুন রোগীদের ৪০ শতাংশই ছিলেন বরিশাল বিভাগের। এই বিভাগে ভর্তি হন ১৫৭ জন রোগী। এরপর ঢাকার দুই সিটিতে ৯২ জন ভর্তি হন। তাদের মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে ৫০ জন ও ঢাকা উত্তরে ৪২ জন ভর্তি হন। এরপর চট্টগ্রাম বিভাগে ৫৮ জন, রাজশাহী বিভাগে ৪৪ জন, ঢাকা বিভাগে ৩৫ জন ও খুলনা বিভাগে আটজন রোগী ভর্তি হন।

দিনের মোট রোগীর প্রায় অর্ধেকই দুই জেলার। এর মধ্যে বরগুনা জেলায় ভর্তি হন ৯৩ জন বা ২৪ শতাংশ ও রাজধানীসহ ঢাকা জেলায় ৯২ জনা বা ২৩ শতাংশ।

এ নিয়ে এবছর হাসপাতালে ভর্তি মোট ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা দাঁড়ালো ৮ হাজার ৫৪৪ জনে। তাদের মধ্যে এ মাসের গত ২৪ দিনেই ভর্তি হয়েছেন ৪ হাজার ১৯৯ জন, যা বছরের মোট রোগীর ৪৯ শতাংশ। বাকি রোগীদের মধ্যে মে মাসে এরপর মে মাসে ১ হাজার ৭৭৩ জন, জানুয়ারিতে ১ হাজার ১৬১ জন, এপ্রিলে ৭০১ জন, ফেব্রুয়ারিতে ৩৭৪ জন ও মার্চে ৩৩৬ জন ভর্তি হয়েছেন। 

ডেঙ্গু নিয়ে বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন ১ হাজার ৮০ জন। এ বছর এটিই একদিনে হাসপাতালে ভর্তি থাকা রোগীর সর্বোচ্চ সংখ্যা। তাদের মধ্যে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি আছেন ৩১০ জন ও ঢাকার বাইরের বিভিন্ন হাসপাতালে ৭৭০ জন রোগী। 

অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০০০ সাল থেকে ডেঙ্গুর তথ্য সংরক্ষণ করছে সংস্থাটি। এর মধ্যে ২০২৩ সালে সবচেয়ে বেশি ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হন। ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে সবচেয়ে বেশি ১ হাজার ৭০৫ জনের মৃত্যুও হয় ওই বছর। ডেঙ্গু নিয়ে ২০২২ সালে দেশে ১ লাখ ১ হাজার ৩৫৪ জন হাসপাতালে ভর্তি হন, যা দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। আর ২০২৪ সালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১ লাখ ১ হাজার ২১৪ জন হাসপাতালে ভর্তি হন ও মারা যান ৫৭৫ জন। ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর এই সংখ্যা তৃতীয় সর্বোচ্চ। আর মৃতের সংখ্যা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত