হোসেনপুরে ৪৪ ক্লিনিকে ওষুধ সরবরাহ বন্ধ ৯ মাস

আপডেট : ২৫ জুন ২০২৫, ১২:৩৭ এএম

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ে ৯ মাস ধরে বন্ধ রয়েছে ওষুধ ও সামগ্রী সরবরাহ। এতে চরমভাবে বিঘিœত হচ্ছে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম। সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন হাজার হাজার দম্পতি। বাড়ছে অনিয়ন্ত্রিত গর্ভধারণ ও জনসংখ্যা বৃদ্ধির শঙ্কা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলা সদর স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পাশাপাশি পাঁচটি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্র, ৪৪টি স্যাটেলাইট ক্লিনিক রয়েছে। এসব কেন্দ্রের মাধ্যমে নিয়মিত সেবা নেন উপজেলার ৩৫ হাজার ৯৭৪ জন দম্পতি। কিন্তু ৯ মাস ধরে পরিবার পরিকল্পনার জন্য ২৩ ধরনের ওষুধ ও অন্য সামগ্রী সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। নেই প্রয়োজনীয় পিল, ইমপ্ল্যান্ট, আয়রন, ক্যালসিয়াম ও ফলিক অ্যাসিড ট্যাবলেট। এতে করে গর্ভবতী মা ও কিশোরীরা স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। সেবাদান কেন্দ্রগুলো খোলা থাকলেও ওষুধ না থাকায় হতাশ হয়ে ফিরে যেতে হচ্ছে সেবাগ্রহীতাদের। সরেজমিনে বিভিন্ন ইউনিয়নের স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্র ঘুরে এমনই চিত্র দেখা গেছে।

পুমদি ইউনিয়নের পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক আব্দুল্লাহ আল ফারুক বলেন, ‘আমরা শুধু পরামর্শ দিচ্ছি। কিন্তু রোগীরা ওষুধ না পেয়ে বিরক্ত হয়ে ফিরে যায়। একই অবস্থা সদর পরিবারকল্যাণ কেন্দ্রেও।’

সেখানে কর্মরত এক কর্মী জানান, আগে প্রতিদিন গড়ে ৫০ জন রোগী আসত। এখন সে সংখ্যা নেমে এসেছে ১০-১৫ জনে। ওষুধ না পেয়ে মানুষ আর আসে না।

উপজেলার সিদলা পরিবারকল্যাণ কেন্দ্রের পরিদর্শিকা পারভীন বেগম বলেন, ‘রোগীরা ওষুধ না থাকার কথাটি জানে। তাই তারা বিরক্ত। আমরা শুধু রক্তচাপ মেপে কিছু পরামর্শ দিয়ে তাদের বিদায় দিই।’

পরিবার পরিকল্পনা-সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, প্রতিটি সেবাকেন্দ্রে প্রতি মাসে ৫০০ সেট খাবার বড়ির চাহিদা থাকলেও বর্তমানে বরাদ্দ মিলছে মাত্র ২০-১০০টি। তা ছাড়া এ বছরের জুন মাস থেকে বন্ধ হয়ে গেছে সবচেয়ে জনপ্রিয় পদ্ধতি ইমপ্ল্যান্টের সরবরাহ। ইনজেকশন থাকলেও নেই প্রয়োজনীয় সিরিঞ্জ। ডিডিএস কিটেরও তীব্র সংকট চলছে।

ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্রে সেবা নিতে আসা স্থানীয় বাসিন্দা রুনা বেগম বলেন, ‘ওষুধ না থাকায় এখন বাধ্য হয়ে ফার্মেসি থেকে কিনে খেতে হচ্ছে। আগে বিনামূল্যে যেটা পেতাম, এখন খরচ করতে হচ্ছে।’

এ ব্যাপারে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আঞ্জুমান ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘উপজেলায় সেবা দিতে আমরা আন্তরিক। কিন্তু ঊর্ধ্বতন দপ্তর থেকে দীর্ঘদিন ওষুধ সরবরাহ না থাকায় আমরা অসহায়। বিষয়টি বারবার জানানো হলেও সমাধান আসেনি।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত