ইরানের পরমাণু কর্মসূচি কি সত্যিই থেমে গেছে?

আপডেট : ২৫ জুন ২০২৫, ০৮:৩৩ এএম

গত সপ্তাহান্তে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে ইরানের পরমাণু স্থাপনায় বিস্ফোরণ ঘটেছে—এই খবর বিশ্বজুড়ে সাড়া ফেলেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই অভিযানকে ‘সম্পূর্ণ সফল’ বলে দাবি করলেও, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর প্রাথমিক মূল্যায়নে উঠে এসেছে ভিন্ন চিত্র।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এ হামলা হয়তো তাৎক্ষণিকভাবে ইরানকে কিছুটা ব্যাকফুটে ঠেলে দিয়েছে, তবে পরমাণু কার্যক্রম পুরোপুরি থেমে গেছে এমন কোনো প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি।

যুক্তরাষ্ট্রের ডিফেন্স ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি (ডিআইএ) ও অন্যান্য নিরাপত্তা সূত্রের মতে, ইরানের গুরুত্বপূর্ণ সাইট—ফোর্দো, নাতানজ এবং ইসফাহানে হামলা হলেও ভূগর্ভস্থ অবকাঠামো অনেকাংশে রক্ষা পেয়েছে। ক্ষতি হয়েছে মূলত ভূমির ওপরের স্থাপনাগুলোর—যেমন বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা ও ইউরেনিয়াম প্রক্রিয়াজাতকরণের সরঞ্জাম।

বিশেষজ্ঞদের ভাষ্যে, এতে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি হয়তো কয়েক মাস পিছিয়েছে, কিন্তু নির্মূল হয়নি।

হামলার পরে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ঘোষণা দেন—‘পরমাণু কর্মসূচি ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে।’ তবে মার্কিন সামরিক গোয়েন্দা প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, ইউরেনিয়ামের মজুদ এবং অধিকাংশ সেন্ট্রিফিউজ প্রায় অক্ষত অবস্থায় রয়েছে। এমনকি ইরান হামলার আগে কিছু উপাদান স্থানান্তরও করে ফেলেছিল বলে দাবি করছে একটি সূত্র।

এই বিপরীতমুখী তথ্য ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। অনেক আইনপ্রণেতা এবং নিরাপত্তা বিশ্লেষকও এখন এ নিয়ে মুখ খুলছেন।

হামলার আগে থেকেই ইসরায়েল ইরানের পরমাণু প্রকল্পে নজরদারি চালিয়ে আসছিল এবং তারা এ অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন চেয়েছিল। ইসরায়েলি সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, সম্মিলিতভাবে এ হামলা ইরানকে বড়জোর দুই বছর পিছিয়ে দিতে পারে—তাও যদি তারা নিরবচ্ছিন্নভাবে পুনর্গঠনের সুযোগ পায়।

কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে—ইরান কি এই সুবিধাগুলো আগের মতো দ্রুত গড়ে তুলতে পারবে? আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা, প্রযুক্তিগত বাধা এবং ভূরাজনৈতিক চাপের মধ্যে কীভাবে তারা প্রতিক্রিয়া জানাবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

গোপন ব্রিফিং বাতিল হওয়া, হোয়াইট হাউসের ভিন্নমত, এবং কিছু সিনেটরের প্রশ্নবিদ্ধ বক্তব্য—সব মিলিয়ে ইরান অভিযানের প্রভাব এখন শুধু সামরিক সীমানায় সীমাবদ্ধ নেই। এটি যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও নতুন বিতর্ক তৈরি করছে।

বিশ্লেষক জেফরি লুইস বলেন, “ইরানের ভূগর্ভস্থ সুবিধাগুলো এখনো অক্ষত রয়েছে, যা ভবিষ্যতে কর্মসূচি পুনরায় জোরদার করার ভিত্তি হয়ে দাঁড়াতে পারে।”

যুক্তরাষ্ট্র হয়তো বারুদের ধাক্কায় সময় কিছুটা কিনেছে। কিন্তু ইরান সত্যিই থেমেছে, না কি কৌশলে পিছিয়ে এসে আবার সামনে আসবে—তা সময়ই বলবে।

সূত্র: সিএনএন

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত