ফতুল্লার জলাবদ্ধতা দ্রুত নিরসনের নির্দেশ জেলা প্রশাসকের

আপডেট : ২৫ জুন ২০২৫, ০৬:৪৪ পিএম

সরকারি খাল বেদখল ও অব্যবস্থাপনার কারণে ফতুল্লা ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষ দীর্ঘদিন ধরে চরম ভোগান্তির শিকার। ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন- সামান্য বৃষ্টি হলেই তলিয়ে যায় ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-ডেমরা ও ডিএনডি বাঁধের ভেতরের বেশকিছু এলাকা। এই অঞ্চলে লক্ষ লক্ষ মানুষ জলাবদ্ধতার দুর্ভোগের শিকার প্রায় গত ২০ বছর ধরে।

মঙ্গলবার এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে স্থানীয় লালপুর পৌষার পুকুর পাড় এলাকার বেসরকারি চাকরিজীবী মো. সিদ্দিকুর রহমান নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞার কাছে লিখিত আবেদন নিয়ে সাক্ষাৎ করেন। কোনো আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও কালক্ষেপণ না করে গতকালই সদর উপজেলার ফতুল্লা ইউনিয়নের জলাবদ্ধ এলাকাগুলো জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে সরেজমিন পরিদর্শন করেন।

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জলাবদ্ধতার প্রকৃত কারণ জেনে অবিলম্বে এলাকাবাসীর ভোগান্তি দূর করার নির্দেশ দিলেন জেলার এই অভিভাবক। পরিদর্শনকালে তিনি খাল দখলমুক্ত করণ, পাম্পের ক্ষমতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় নির্দেশনার পাশাপাশি এলাকাবাসীর সঙ্গে মতবিনিময়ও করেন।

এ সময় তিনি পূর্ব লালপুর থেকে নলখালী খাল পর্যন্ত, ফতুল্লা ডিআইটি মাঠের সঙ্গে পানি সেচের পাম্প পরিদর্শন করে দ্রুত জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে পরামর্শ করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার আশ্বাস দেন।

আবেদনকারী সিদ্দিক বলেন, এমন জেলা প্রশাসক নারায়ণগঞ্জে জীবনে কখনও দেখিনি। প্রায় দুই যুগের একটা সমস্যা নিরসনে স্থানীয় প্রশাসন থেকে শুরু করে জনপ্রতিনিধিদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছি। কেউ সরেজমিনে পরিদর্শন করার সময়ও পায়নি।

স্থানীয় মো. মাইনউদ্দিন মুন্সী বলেন, ফতুল্লা ইউনিয়ন পরিষদের পঞ্চবটি লালপুর মর্ডান হাউজিং থেকে পাইওনিয়র সোয়েটার কোয়াটার পর্যন্ত রাস্তাটি সব সময়ে পানি থাকে। আর একটু বৃষ্টি হলেই বাসা বাড়িতে রাস্তার পানি ঢুকে পরে। এলাকায় বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠান ও গার্মেন্টস স্থাপিত আছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রশিদুল মামুর রাফিদ বলেন, আজকেও পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রতিনিধির সঙ্গে সদর উপজেলা ইউএনওর একটা মিটিং হয়েছে। দুই তিন দিনের মধ্যেই আমরা মূল খালসমূহের প্রতিবন্ধকতা নিয়ে একটা সার্ভে রিপোর্ট প্রস্তুত করব।

এ ছাড়া জলবদ্বতার মধ্যে আছে এমন এলাকার মধ্যে সিটি কর্পোরেশনের ছোট ড্রেনসমূহের যে সব যায়গায় ময়লা আবর্জনার কারণে পানি প্রবাহ বন্ধ আছে, সেইগুলো  পরিষ্কার করলে পানি খালে আসবে। অর্থাৎ অভ্যন্তরীণ ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন জরুরি। মূল খাল থেকে পাম্প দিয়ে পানি নদীতে ফেলে দিলেই জলাবদ্ধতার সমস্যা আর থাকবে না আশা করা যায়।

পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানব সম্পদ) আব্দুল ওয়ারেছ আনসারি, সদর উপজেলার উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ জাফর সাদিক চৌধুরী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত