২০২২ বিশ্বকাপে মেক্সিকোর বিপক্ষে বদলি হিসেবে গোল করে আর্জেন্টিনা দলে জায়গা পাকাপোক্ত করেন। পরে বিশ্বজয়ের নায়ক, তরুণ সেরা খেলোয়াড়। সেই এনজো ফার্নান্দেজকেই ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে ১০৬.৭ মিলিয়ন পাউন্ডে (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৫৬০ কোটি টাকা) কিনে ব্রিটিশ ট্রান্সফার রেকর্ড ভেঙে চেলসি। বিশাল অঙ্ক, বিশাল প্রত্যাশা। কিন্তু তাতে মানিয়ে নিতে সময় লেগেছে অনেক।
তবে এখন—২০২৫ সালের ক্লাব বিশ্বকাপের ঠিক আগে—পুরোপুরি বদলে যাওয়া এক এনজো ফের্নান্দেজকে দেখছে চেলসি। শনিবার বেনফিকার বিপক্ষে শেষ ষোলোতে মাঠে নামবে চেলসি, আর এই ম্যাচে প্রথমবারের মতো মুখোমুখি হবেন নিজের পুরনো ক্লাবের বিপক্ষে।
চেলসিতে শুরুতে এনজোকে ভাবা হচ্ছিল জর্জিনিওর উত্তরসূরি হিসেবে—ডিপ-লাইং মিডফিল্ডার, ম্যাচের ছন্দ নির্ধারক। কিন্তু মোরিসিও পচেত্তিনোর অধীনে ছন্দ হারানো এনজো পেলেন নতুন জীবন নতুন কোচ এঞ্জো মারেস্কার অধীনে। মারেস্কা এনজোকে খেলাতে শুরু করলেন একটু উপরে। রক্ষণাত্মক দায়িত্ব কম, বক্সে ঢুকে গোলের সুযোগ তৈরি করাই মূল কাজ। ফলাফল? ২০২৫ সালে এখন পর্যন্ত চেলসির হয়ে সর্বোচ্চ ১৪টি গোল অবদান (গোল+অ্যাসিস্ট)।
কোপা আমেরিকার পর এক বর্ণবাদমূলক ভিডিওতে ধরা পড়ে কড়া সমালোচনার শিকার হয়েছিলেন এনজো। গত মৌসুম শেষে হার্নিয়া সার্জারির জন্য মাঠের বাইরেও থাকতে হয়। তখন অনেকে বলেছিল, এনজো বুঝি দলেই আর জায়গা পাবেন না।
কিন্তু... আর্সেনালের বিপক্ষে বদলি নেমে গোলের পাস। লেস্টারের বিপক্ষে এক গোল এক অ্যাসিস্ট।৷ টটেনহ্যাম ও লিভারপুলের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ গোল। রিয়াল বেতিসের বিপক্ষে কনফারেন্স লিগ ফাইনালে সমতায় ফেরানো গোল।
সব মিলিয়ে পুরনো এনজো নয়, এখন যেন নতুন ‘ফ্র্যাঙ্ক ল্যাম্পার্ড’ গড়ার পথে আছেন ফার্নান্দেজ।
চেলসির জয়ে যেমন এনজোর অবদান বেড়েছে, তেমনি কিছু প্রশ্নও রয়েছে—এই গোল অবদানের অর্ধেকই এসেছে তুলনামূলক দুর্বল দলের বিপক্ষে বা ক্লাব বিশ্বকাপে। বড় ম্যাচে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স এখনও পুরোপুরি আসেনি।
তবে মারেস্কার পরিকল্পনায় এখন এনজো অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু। কোচ নিজেই বলেছেন, 'আমি তাকে বোঝানোর চেষ্টা করছি যে অ্যাটাকিং মিডফিল্ডারদের গোল করতে হলে বক্সে ঢুকতে হয়।'
মাঝমাঠ থেকে নিয়মিত ডিফেন্স ভাঙা দৌড়, গোলপোস্টে শট নেওয়ার সাহস, সঠিক পজিশনিং—সব মিলিয়ে এনজো এখন আর শুধু পাস দেওয়া মিডফিল্ডার নন, এখন তিনি একজন 'বক্স-ক্র্যাশার' মিডফিল্ডার। চেলসি ভক্তরা ইতিমধ্যেই তুলনা টানছেন ফ্র্যাঙ্ক ল্যাম্পার্ডের সঙ্গে।
লিয়াম ডেলাপ তো সরাসরিই বলেছেন, 'এনজো বল পেলেই আমাকে দৌড়াতে বলেন। কারণ তিনিই ঠিক সময়ে বল বাড়িয়ে দেন।'
বেনফিকা থেকে এসেছিলেন দলে বড় ভরসা হয়ে উঠতে। কিন্তু শুরুর সেই সময়টা অনেক কঠিন ছিল। এবার পুরনো ক্লাবের বিপক্ষে মাঠে নামবেন নতুন আত্মবিশ্বাস নিয়ে। খেলায় যেমন দায়িত্ব, মাঠের বাইরে তেমন নেতৃত্ব—চেলসির তরুণ এই দলটির মাঝে এখন এক লড়াকু সেনানী হয়ে উঠেছেন এনজো ফার্নান্দেজ।
এই ক্লাব বিশ্বকাপে যদি চেলসি কিছু জিততে চায়, তবে তাকে ঘিরেই গড়তে হবে ছক। কারণ এখনকার এনজো আর আগের মতো নয়—এখনকার এনজো চেলসির সবচেয়ে বিপজ্জনক অস্ত্র।
নিস্তেলরয়কে বরখাস্ত করলো লেস্টার, নতুন কোচ হতে পারে শন ডাইচ
পিএসজির বিরুদ্ধে 'মানসিক হয়রানির' অভিযোগ এমবাপ্পের