ভারতের ‘স্বার্থপ্রণোদিত’ নতুন গঙ্গা চুক্তির চিন্তা, বাংলাদেশে উৎকণ্ঠা

আপডেট : ২৮ জুন ২০২৫, ০৮:২৬ এএম

বাংলাদেশের সঙ্গে গঙ্গা নদীর পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হতে আর মাত্র এক বছর বাকি। এরই মধ্যে নয়াদিল্লি ‘নিজেদের স্বার্থের’ ভিত্তিতে নতুন চুক্তির পরিকল্পনা শুরু করেছে। প্রভাবশালী ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইকোনোমিক টাইমস জানিয়েছে, বর্তমান উন্নয়ন চাহিদা বিবেচনায় ভারত গঙ্গা চুক্তিতে পরিবর্তন বা বিকল্প কাঠামো নিয়ে নীতিগত আলোচনা শুরু করেছে। 

চুক্তি বাতিল নয়, পরিবর্তন চায় দিল্লি 

১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হবে ২০২৬ সালে। ফারাক্কা বাঁধে পানি বণ্টন নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ নিরসনে বাংলাদেশ ও ভারত এই ৩০ বছরের চুক্তি স্বাক্ষর করেছিল। শুষ্ক মৌসুমে (১ জানুয়ারি-৩১ মে) ফারাক্কা পয়েন্টে পানি প্রবাহ নির্ধারণ ছিল চুক্তির মূল উদ্দেশ্য। 

ইকোনমিক টাইমস জানাচ্ছে, পাকিস্তানের সঙ্গে সিন্ধু নদ চুক্তি পর্যালোচনার পর ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে গঙ্গা চুক্তির ক্ষেত্রেও একই পদক্ষেপ নিচ্ছে। দিল্লি মনে করে, বর্তমান চুক্তি তাদের কৃষি, শিল্প, বন্দর রক্ষণাবেক্ষণ ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের চাহিদা পূরণে অপর্যাপ্ত। 

অতিরিক্ত ৩০-৩৫ হাজার কিউসেক পানির দাবি 

বর্তমান চুক্তি অনুযায়ী, প্রতি বছর ১১ মার্চ থেকে ১১ মে পর্যন্ত বাংলাদেশ ও ভারত উভয়ই ১০ দিন অন্তর ৩৫ হাজার কিউসেক পানি পায়। তবে ভারত এই সময়ে অতিরি ক্ত ৩০-৩৫ হাজার কিউসেক পানি দাবি করছে। তাদের যুক্তি, কৃষি ও অবকাঠামো প্রকল্পে পানির চাহিদা বেড়েছে। 

পশ্চিমবঙ্গের সমর্থন, বাংলাদেশের উদ্বেগ : খবরে বলা হয়, পশ্চিমবঙ্গ সরকারও কেন্দ্রের সঙ্গে একমত যে, গঙ্গার বর্তমান পানি বণ্টন ব্যবস্থা তাদের চাহিদা পূরণে অক্ষম। ফলে তারা ‘ভারতকেন্দ্রিক’ নতুন চুক্তির পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। 

বাংলাদেশের জন্য এটি স্পর্শকাতর বিষয়। শুষ্ক মৌসুমে ফারাক্কা থেকে পর্যাপ্ত পানি না পেলে পদ্মা নদীর প্রবাহ কমে, যা পরিবেশ, কৃষি ও জীববৈচিত্র্যের ওপর প্রভাব ফেলে। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, ভারতের একতরফা পানির দাবি বাড়লে বাংলাদেশ গভীর জল সংকটে পড়তে পারে। 

আগামী বছরের আগে এই চুক্তির নবায়ন বা পুনর্গঠন নিয়ে দুই দেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের ক‚টনৈতিক আলোচনা হতে পারে। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, ভারতের একতরফা স্বার্থে সাজানো চুক্তি হলে তা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং দক্ষিণ এশিয়ার পানি ব্যবস্থাপনায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত