শঙ্কায় আইএইএ

পারমাণবিক উৎপাদনে শিগগির ফিরতে পারে ইরান

আপডেট : ২৯ জুন ২০২৫, ০২:৪৮ পিএম

সম্প্রতি একের পর এক হামলায় ইরানের একাধিক পারমাণবিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও দেশটি খুব শিগগিরই সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম উৎপাদন কার্যক্রম পুনরায় শুরু করতে পারে—এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের পরমাণু পর্যবেক্ষণ সংস্থা আইএইএ। সংস্থাটির মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি জানিয়েছেন, কয়েক মাস বা তারও কম সময়ের মধ্যে ইরান পুনরায় সেন্ট্রিফিউজ চালু করে উৎপাদনে ফিরতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সম্প্রচারমাধ্যম সিবিএস নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে গ্রোসি বলেন, ‘তাদের (ইরান) কিছু পরমাণু স্থাপনা এখনও সচল আছে। তারা চাইলে শিগগিরই উৎপাদন শুরু করতে পারবে।’ এই সাক্ষাৎকারটি শুক্রবার নেওয়া হলেও তা প্রকাশিত হয়েছে গতকাল শনিবার।

চলতি মাসের শুরুতে ইসরায়েল এবং পরে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের একাধিক সামরিক ও পারমাণবিক স্থাপনায় বিমান হামলা চালায়। ইসরায়েলের দাবি, তেহরান যাতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, সে জন্যই এই হামলা চালানো হয়েছে। ইরান অবশ্য শুরু থেকেই এমন অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানান, হামলায় পারমাণবিক অবকাঠামোর ‘গুরুতর ক্ষতি’ হয়েছে। তবে ঠিক কতটা ক্ষতি হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অবশ্য দাবি করেছেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি কয়েক দশকের জন্য পিছিয়ে পড়েছে।

তবে প্রশ্ন রয়ে গেছে, হামলার ঠিক আগে ইরান তাদের মজুত উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের কী পরিণতি ঘটিয়েছে। জানা গেছে, দেশটির কাছে প্রায় ৪০৮ দশমিক ৬ কেজি (প্রায় ৯০০ পাউন্ড) ৬০ শতাংশ মাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ছিল। এটি বেসামরিক ব্যবহারের জন্য মাত্রাতিরিক্ত হলেও সামান্য পরিশোধন করে ৯০ শতাংশ মাত্রায় নিলে তা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির উপযোগী হয়ে ওঠে।

গ্রোসি এ বিষয়ে বলেন, ‘আমরা জানি না, এই উপাদান এখন কোথায় আছে। কিছু হয়তো ধ্বংস হয়ে গেছে, কিছু হয়তো সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সময়মতো সব কিছু জানা যাবে।’

বিশ্লেষকদের মতে, এই অনিশ্চয়তা শুধু মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকেই নয়, বৈশ্বিক পরমাণু তৎপরতা ও কূটনীতিক চেষ্টাকেও জটিল করে তুলবে। কারণ, আইএইএ’র কার্যক্রমে নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারি বিঘ্নিত হলে, ইউরেনিয়ামের প্রকৃত পরিমাণ ও ব্যবহারের উদ্দেশ্য নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ বাড়তেই থাকবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত