দুই মাসে ইউক্রেনের প্রায় সাড়ে ৯০০ বর্গকিলোমিটার এলাকার দখলে নেওয়া রুশ বাহিনী প্রথমবারের মতো পূর্ব-মধ্যাঞ্চলীয় দিনিপ্রোপেত্রভস্কের একটি গ্রামও নিজেদের কবজায় নিয়েছে বলে জানিয়েছে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এবং যুদ্ধের খোঁজখবর রাখা ব্লগাররা। তবে গ্রামটির দখল নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ইউক্রেনের কোনো সূত্র বা রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় কিছু বলেনি। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, মস্কো ও কিয়েভের মধ্যে যখন সম্ভাব্য শান্তির ব্যাপারে আলোচনা চলছে তখন ইউক্রেনে যুদ্ধ আরও তীব্র হয়েছে। রাশিয়ার সেনারা এরই মধ্যে ইউক্রেনের সুমি অঞ্চলের ২০০ বর্গকিলোমিটার ভূখণ্ড দখলে নিয়েছেন। গত মাসেই তারা দিনিপ্রোপেত্রভস্ক অঞ্চলে ঢুকে পড়েছিল। প্রভাবশালী ‘ইউক্রেনিয়ান ডিপ স্টেটের’ মানচিত্রে দেখা যাচ্ছে, ইউক্রেনের ১ লাখ ১৩ হাজার ৫৮৮ বর্গকিলোমিটার এলাকা এখন মস্কোর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এর মধ্যে ২৮ জুন পর্যন্ত শেষ দুই মাসেই তাদের দখলে যুক্ত হয়েছে ৯৪৩ বর্গকিলোমিটার।
রুশপন্থি কর্মকর্তা ভøাদিমির রোগোভকে উদ্ধৃত করে রুশ রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা জানায়, রাশিয়ার সেনারা দিনিপ্রোপেত্রভস্কের দাচনোয়ি গ্রামটি দখলে নিয়েছে। মস্কো বলছে, তারা শান্তি চায়, তবে সেজন্য ইউক্রেনকে অবশ্যই তাদের চারটি অঞ্চল ছেড়ে দিতে হবে। এ অঞ্চলগুলোর সিংহভাগই এখন রুশ বাহিনীর দখলে; ২০২২ সালে এক গণভোটের ফল অনুযায়ী রাশিয়া এ অঞ্চলগুলোকে এখন নিজেদের অংশ হিসেবেই বিবেচনা করছে। ইউক্রেন এবং তার ইউরোপীয় মিত্ররা এ অঞ্চলগুলো ছেড়ে দিতে রাজি নয়। তারা বলছে, অঞ্চল ছেড়ে দেওয়ার যে শর্ত রাশিয়া দিয়েছে, তা মূলত আত্মসমর্পণের সমতুল্য। তাদের মতে, রাশিয়া শান্তি চায় না, আর কিয়েভ কখনোই রাশিয়ার দখলে যাওয়া এক পঞ্চমাংশ ভূখণ্ডের মালিকানা ছাড়বে না।
রাশিয়ার হাতে এখন ইউক্রেনের যে ভূখণ্ডটুকু রয়েছে তার মধ্যে ক্রিমিয়া ২০১৪ সালেই মস্কোর দখলে গেছে। এর বাইরে এখন লুহানস্ক এবং দোনেৎস্ক, জাপোরিঝিয়া ও খেরসনের ৭০ শতাংশের বেশি অংশ রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে। এগুলো ছাড়াও খারকিভ, সুমি ও দিনিপ্রোপেত্রভস্কের সামান্য কিছু এলাকাতেও মস্কোর কর্র্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
