মুরাদনগরে ধর্ষণ: লোমহর্ষক নির্যাতনের নতুন ভিডিও ভাইরাল

আপডেট : ০১ জুলাই ২০২৫, ১০:৩১ এএম

কুমিল্লার মুরাদনগরে চাঞ্চল্যকর ধর্ষণকাণ্ড নিয়ে আলোচনা যেন থামছেই না। এরই মধ্যে নতুন আরেকটি লোমহর্ষক ভাইরাল ভিডিও সামনে এসেছে। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর এই নিয়ে এলাকায় আবারো শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা।

সোমবার (৩০ জুন) ৩ মিনিট ৪৬ সেকেন্ডের এই ভিডিওটি ‘তোদের বাপ আইছে’ নামক একটি ফেসবুক আইডি থেকে ভাইরাল করা হয়েছে। সেটি গফ জড়ভরয় নামের আইডি থেকেও শেয়ার করতে দেখা যায়।

ভিডিওতে দেখা যায় ছাত্রলীগ নেতা মোহাম্মদ আলী সুমনের নেতৃত্বে ১০-১২ জনের একটি চক্র ধর্ষক ফজর আলীকে পিটিয়ে রক্তাক্ত করেছে। বিবস্ত্র করে বেঁধে নির্যাতনের পর তার শরীর হাত থেকে রক্ত ঝরছে।

অপরদিকে সুমনের সহযোগী অনিক ওই নারীকে নিজ হাতে বিবস্ত্র করছে। পাশে থেকে অন্যরা এসব ভিডিও ধারণ করছে। নতুন ভিডিও দেখে এলাকায় সমালোচনার মাত্রা তীব্র হয়েছে। এ যেন আগুনে ঘি ঢালার মতো অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। নতুন করে ভাইরাল ভিডিও নিয়ে স্থানীয়রা মন্তব্য করে বলেন, নতুন করে আবারও যারা ভুক্তভোগী নারীর ভিডিও ফেসবুকে ছেড়েছে তাদের দ্রুত সনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হোক।

এমনিতেই মেয়েটির মান-সম্মান শেষ করে দিয়েছে। সাথে সাথে সারা দেশে এলাকার অনেক বদনাম হয়েছে, তারপরও আবার ভিডিও ছাড়ছে, এটা কোন ভাবেই কাম্য নয়। এই আইডিগুলো দ্রুত শনাক্ত করা উচিত। ধর্ষক এবং বিবস্ত্র অবস্থায় ভিডিও ধারন ও নারীকে নির্যাতনের সাথে জড়িত সকলের উপযুক্ত শাস্তিও দাবি করে এলাকাবাসী।

জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) রাতে মুরাদনগর উপজেলার রামচন্দ্রপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের বাহেরচর গ্রামে এক সংখ্যালঘু নারী ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে।

স্থানীয়রা বিষয়টিকে পরকীয়া হিসাবে দাবি করলেও ভিকটিম নারী জানান তার সাথে ধর্ষক ফজর আলীর আর্থিক লেনদেনের সম্পর্ক রয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ পৃথক দুটি মামলায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে। এর মধ্যে ফজর আলীকে আদালতের
নির্দেশে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রিজনার্স সেলে (হাসপাতালে) রাখা হয়েছে, তার চিকিৎসা চলছে। অপর চারজনকে কুমিল্লা কারাগারে প্রেরন করা হয়েছে।

থানা সূত্রে জানা যায়, পর্নোগ্রাফি আইনের মামলায় আসামিদের ৭ দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়েছে। আদালত শুনানি শেষে তা মঞ্জুর করলে তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আনা হবে। এতে আর কেউ জড়িত কি না তাও বেরিয়ে আসবে।

মুরাদনগর থানার ওসি জাহিদুর রহমান বলেন, নতুন কোনো ভিডিও এখনো আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়নি। আমরা মামলার অগ্রগতি নিয়ে কাজ করছি। সিনিয়র অফিসারর মামলাটি অধিকতর তদন্তের কাজ তদারকি করছে। নতুন ভিডিও হাতে পেলে
তা খতিয়ে দেখা হবে। পাশাপাশি ভাইরালের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত