বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের হেপাটোলজি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ডা. মামুন আল মাহতাব স্বপ্নীলের চিকিৎসা সনদ পাঁচ বছরের জন্য স্থগিত করেছে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি)। এ সময় এই চিকিৎসক দেশে চিকিৎসা ও নিজেকে চিকিৎসক হিসেবে পরিচয় দিতে পারবেন না। গতকাল মঙ্গলবার বিএমডিসি রেজিস্ট্রার ডা. মো. লিয়াকত হোসেন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ বিষয়ে জানানো হয়। এই নিষেধাজ্ঞা গতকাল মঙ্গলবার থেকে কার্যকর হয়েছে বলেও জানায় বিএমডিসি।
রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতালে রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় অবহেলা ও ভুল চিকিৎসা প্রমাণিত হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেয় প্রতিষ্ঠানটি। এর আগে গত ২১ জুন বিএমডিসির শৃঙ্খলা কমিটির সভায় পাঁচ বছরের জন্য ডা. স্বপ্নীলের সনদ স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ডা. মামুন আল মাহতাবের বিরুদ্ধে রোগী রাহিব রেজার চিকিৎসার কাজে আনীত অভিযোগের দায় প্রমাণিত হওয়ায় বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল আইন-২০১০ এর ধারা ২৩(১) এবং বিএমডিসি প্রবিধানমালা ২০২২ এর বিধান ৩৬(৪)(খ) অনুযায়ী বিএমডিসি রেজিস্টার থেকে তার নাম প্রত্যাহারপূর্বক প্রদত্ত রেজিস্ট্রেশন পাঁচ বছরের জন্য সাময়িকভাবে বাতিল করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বিএমডিসি আইনের ২২(১) ধারা অনুযায়ী, এই সময়ে তিনি বাংলাদেশের অভ্যন্তরে মেডিকেল চিকিৎসক হিসেবে কোনো অ্যালোপ্যাথি চিকিৎসা অথবা নিজেকে মেডিকেল চিকিৎসক হিসেবে পরিচয় দিতে পারবেন না।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি ল্যাবএইডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ডা. স্বপ্নীলের অবহেলায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রাহিব রেজার মৃত্যু হয়। তিনি রাহিবের অস্ত্রোপচার দলের প্রধান ছিলেন। ওই বছরের ২৩ অক্টোবর হাইকোর্টে দাখিল করা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তদন্ত প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে আসে। পাঁচ সদস্যের ওই তদন্ত কমিটির নেতৃত্বে ছিলেন জাতীয় গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. গোলাম কিবরিয়া।
ওই কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়, যথাযথ প্রক্রিয়া মেনে রোগীকে অ্যানেস্থেশিয়া দেওয়া হয়নি। এ ছাড়া এনডোস্কোপি করা হয়েছে অদক্ষ লোক দিয়ে। এমনকি জটিলতা দেখা দিলেও রোগীকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নিতে ৮৫ মিনিট সময় ক্ষেপণ করা হয়। এতে তার অবস্থা খারাপ হয় এবং একপর্যায়ে রাহিব রেজা মারা যান।
