কুমিল্লার মুরাদনগরে সংঘটিত নারী নির্যাতন ও ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় ভুক্তভোগী এতদিন মামলা চালাতে না চাইলেও, এখন পারিবারিক সিদ্ধান্তে আইনি লড়াই চালিয়ে যেতে চান। তবে সাংবাদিক, ইউটিউবার এবং রাজনীতিকদের চাপের মুখে মঙ্গলবার রাত থেকে তিনি বাড়ি ছেড়েছেন।
এ ঘটনায় জড়িতদের অনেকেই ইতোমধ্যে এলাকা ছেড়েছেন। মামলার বিষয়টি আবার আলোচনায় আসায় আতঙ্ক আরও বেড়েছে। নতুন করে আর কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। বর্তমানে চারজন অভিযুক্ত কারাগারে, একজন চিকিৎসাধীন।
মঙ্গলবার রিমান্ড শুনানি হয়নি, বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) হতে পারে বলে জানিয়েছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই রুহুল আমিন। বুধবার পর্যন্ত ৭ দিন অতিবাহিত হওয়ার পরও এখনো ওই নারীর হয়নি ডাক্তারি পরীক্ষা।
জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার রাতে কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার বাহেরচর গ্রামে নির্যাতনের শিকার হন ওই নারী। পরদিন শুক্রবার ধর্ষণের অভিযোগে মামলা হয়। নির্যাতনের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় পরে আরেকটি মামলা দায়ের করা হয়।
এ ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত ফজর আলী, ভিডিও ধারণকারী ও ছাত্রলীগ নেতা মুহাম্মদ আলী সুমনসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তবে কিছুদিন ধরেই ভুক্তভোগী মামলা চালাতে অনীহা প্রকাশ করছিলেন। তিনি শান্তি চান বলে জানিয়েছিলেন।
সোমবার রাতে তিনি সিদ্ধান্ত বদলান। বলেন, আমার স্বামী প্রথমে মামলা না করতে বলেছিল, তাই অনীহা ছিল। কিন্তু এখন পরিবার মিলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি—আইনি লড়াই চালিয়ে যাব। আমি বিচার চাই।
তিনি আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আমাকে সহযোগিতা করছে। নিরাপত্তার কোনো সমস্যা নেই।
এদিকে মঙ্গলবার রাত থেকেই ভুক্তভোগী নারীর বাড়িতে কাউকে পাওয়া যায়নি। পুলিশ জানায়, প্রতিদিনই সেখানে সাংবাদিক, ইউটিউবার, রাজনীতিকসহ নানা পেশার মানুষের ভিড় হয়। সাক্ষাৎকার দিতে দিতে তার জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। এই পরিস্থিতি এড়াতেই তিনি দুই সন্তানসহ বাড়ি ছেড়েছেন। এরপর তার বাবা-মাও অন্যত্র চলে যান।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল করিম জানান, সোমবার বিকেলে ওই নারী বাবার বাড়ি থেকে স্বামীর বাড়িতে চলে যান। পুলিশের সহায়তায় এই যাত্রা নিশ্চিত করা হয়।
এ বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই রুহুল আমিন জানান, প্রতিদিনই গণমাধ্যমকর্মীদের ভিড়, নিয়ম না মেনে ভিডিও প্রকাশ এবং ভুক্তভোগীর চেহারা প্রকাশের কারণে তারা মানসিক চাপে আছেন। এজন্যই পরিবারটি সরে গেছে। মামলার তদন্তে আরও কয়েকজনের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। ভিডিও ধারণে জড়িতদের খোঁজা হচ্ছে। তবে তাদের অনেকেই আগেই আত্মগোপনে চলে গেছেন।
এক তদন্ত কর্মকর্তা জানান, অভিযুক্তরা ভুক্তভোগীর ঘরে ঢোকার পরপরই মোবাইল ক্যামেরা চালু করে নির্যাতনের ভিডিও ধারণ করে। সেখানে ছাত্রলীগ নেতা সুমন ছাড়াও তার সহযোগী রমজান, অনিক, আরিফসহ আরও ১৫-২০ জনের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে।
এ বিষয়ে মুরাদনগর থানার ওসি জাহিদুর রহমান বলেন, আমরা মামলার এজাহার অনুযায়ী তদন্ত করছি। আরও কিছু ব্যক্তিকে শনাক্ত করা হয়েছে, গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
