মধ্য ইউরোপের দেশ সার্বিয়ায় ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার বাসিন্দা ফয়জুল বিল্লাহ পাপ্পুকে অপহরণের পর নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। অপহরণকারীরা নির্যাতনের ভিডিও পরিবারের কাছে পাঠিয়ে ২ কোটি ৩০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছে। এ ঘটনায় পাপ্পুর মা আয়েশা বেগম বাদী হয়ে গত ১৬ জুন মানবপাচার আইনে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা করেছেন। পুলিশ মোবাইল কলের সূত্র ধরে ফুলগাজী উপজেলার আনন্দপুর গ্রামের মোহাম্মদ মিয়ার ছেলে ইব্রাহিমকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে নির্যাতনের ভিডিও পাঠানোর দুই সপ্তাহ পরও পাপ্পু নিখোঁজ রয়েছেন। তার পরিবার চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।
পাপ্পু সোনাগাজী মোহাম্মদ ছাবের সরকারি পাইলট হাইস্কুলের সিনিয়র শিক্ষক ছেরাজুল হকের বড় ছেলে। উন্নত জীবনের স্বপ্ন নিয়ে পাঁচ বছর আগে সার্বিয়ায় গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সেই স্বপ্ন এখন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে। ছেরাজুল হক ও তার স্ত্রী আয়েশা বেগম ছেলেকে জীবিত বা মৃত যেকোনো অবস্থায় দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রধান উপদেষ্টা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
আয়েশা বেগম জানান, গত ১৪ জুন রাত ৮টা ৪৯ মিনিটে একটি অজ্ঞাত নম্বর থেকে তার হোয়াটসঅ্যাপে ভিডিও কল আসে। ভিডিওতে পাপ্পুর শরীরে গুরুতর জখম দেখা যায়। অপহরণকারীরা ২ কোটি ৩০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে এবং তিন দিনের মধ্যে টাকা না দিলে হত্যার হুমকি দেয়। তারা বাংলাদেশের আটটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও মোবাইল নম্বর পাঠায়। এরপর ১৭ জুন রাত ১টা ১৫ মিনিটে এক অজ্ঞাত ব্যক্তি ফোনে জানায়, নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে পাপ্পু বসনিয়ার একটি হাসপাতালে হার্ট অ্যাটাকে মারা গেছেন। তবে পরিবার এ বিষয়ে কোনো সরকারি নিশ্চয়তা বা প্রমাণ পায়নি।
আয়েশা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘যেভাবেই হোক, আমার ছেলেকে দেশে ফিরিয়ে আনুন। মৃত হলেও অন্তত তার জানাজা পড়াতে চাই।’ তিনি জানান, সার্বিয়ায় কাজের সময় দুর্ঘটনায় পাপ্পুর একটি পা কেটে ফেলা হয়। পঙ্গু অবস্থায়ও তিনি জীবিকা নির্বাহ করছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সার্বিয়ায় যাওয়ার পর পাপ্পু মানবপাচার সিন্ডিকেটের কবলে পড়েন। সিন্ডিকেটের পরামর্শে তিনি কয়েকজনের কাছ থেকে ভিসার প্রতিশ্রুতি দিয়ে টাকা নেন। ভিসা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় সিন্ডিকেটের সঙ্গে তার বিরোধ হয়, যা অপহরণ ও নির্যাতনের কারণ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সোনাগাজী মডেল থানার ওসি মো. বায়েজীদ আকন জানান, একজন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অপহরণকারীদের দেওয়া ব্যাংক অ্যাকাউন্ট চিহ্নিত করতে আদালতে আবেদন করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশ পেলে বাংলাদেশে অবস্থানরত অপরাধীদের শনাক্ত করা সহজ হবে।
