ফেনীর সোনাগাজীতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এডিপির অর্থায়নে আধুনিক ও বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে হাতে-কলমে ছাদ বাগানবিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। কর্মশালার পূর্বে সোনাগাজী উপজেলা কৃষি অফিসারের ব্যবহৃত ফেসবুক আইডি থেকে যাদের ছাদ বাগান রয়েছে তাদের ছাদবাগানের তিনটি ছবিসহ প্রশিক্ষণের জন্য রেজিস্ট্রেশন করার আহ্বান জানান। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায় ভিন্ন চিত্র। গত ২৫ ও ২৬ জুন অনুষ্ঠিত ছাদ বাগানবিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় দুই ধাপে মোট ৫০ জন অংশ নেন। প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারীদের ৫০০ টাকা করে সম্মানি, সকালের নাস্তা ও দুপুরের খাবার খাওয়ানো হয়। এ ছাড়া একটি ফাইল, কলমসহ আনুষঙ্গিক সামগ্রী দেওয়া হয়।
খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, কর্মশালায় যারা অংশগ্রহণ করেছেন, তাদের অধিকাংশের ছাদ বাগান নেই। এ ছাড়া বেশ কয়েকজন টিনের ঘরের বাসিন্দা। অথচ তারাও অংশগ্রহণ করেছেন ছাদ বাগানবিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালায়।
স্থানীয় মিজানুর রহমান বলেন, ‘এ রকম অনেক প্রকল্প আছে, যেটার মাধ্যমে কৃষকের কোনো কল্যাণ নেই। শুধু শুধু রাষ্ট্রের টাকা অপচয় করা। সামান্য কিছু মুখরোচক কথাবার্তা ও দায়সারা বক্তব্য দিয়ে দায়িত্ব শেষ করে চলে যাওয়া।’
আব্দুর রাজ্জাক নামের একজন বলেন, ‘কৃষি অফিসের লোকজন নির্দিষ্ট কিছু লোক ছাড়া কারও সঙ্গে সম্পর্ক রাখেন না। বীজ, সার, গাছসহ বিভিন্ন প্রণোদনাও তাদেরই দেন। এতে প্রকৃত কৃষকরা বঞ্চিত থাকেন।’
সোনাগাজী উপজেলা কৃষি অফিসার মাইন উদ্দিন আহমেদ নিজেদের পছন্দের লোকদের প্রশিক্ষণ ও প্রণোদনা দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন। ছাদ ও বাগান না থাকা ব্যক্তিরাও ছাদ বাগানবিষয়ক প্রশিক্ষণ নেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘যারা প্রশিক্ষণ নিয়েছে, তারা পরবর্তী সময়ে বাগান করতে উৎসাহিত হবেন।’
