১৯৮০ সালে নাঙ্গলকোট উপজেলা পরিষদ গঠিত হয়। গেট দিয়ে পরিষদে ঢুকতে সাইনবোর্ডে লেখা আছে ‘জনসেবায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ’। কিন্তু বাস্তবতা সম্পূর্ণ উল্টো। কুমিল্লার এই উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ ছয়টি বিভাগসহ অন্তত ১২টি সরকারি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য। ফলে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ সেবা নিতে গিয়ে নানামুখী ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন প্রতিদিন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এসব শূন্য পদে আশপাশের উপজেলার কর্মকর্তারা সপ্তাহে মাত্র দুই দিন করে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে প্রয়োজনীয় সেবা নিতে পুরো সপ্তাহই অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে সেবাপ্রার্থীদের। সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থা উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা ও এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলীর পদ নিয়ে। ২০২১ সালের ১২ সেপ্টেম্বর থেকে উপজেলার হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার পদটি শূন্য। মাঝে কিছুদিনের জন্য নিয়োগ দেওয়া হলেও বেশির ভাগ সময়ই পাশের সদর দক্ষিণ উপজেলার হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা শিমুল কান্তি সরকার সপ্তাহে দুদিন এসে দায়িত্ব পালন করছেন। এ কারণে উপজেলা প্রশাসনের ২৩টি বিভাগে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ও বিল-ভাউচার পাসে বিঘœ ঘটছে। এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলীর স্থায়ী পদ ২০১৬ সালের এপ্রিল থেকে শূন্য। দীর্ঘ সময় ধরে অতিরিক্ত দায়িত্বে বিভিন্ন কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করছেন। মাত্র ১৭ দিনের জন্য ২০১৯ সালে একজন পূর্ণাঙ্গ প্রকৌশলী দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
এ ছাড়া উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা, মৎস্য কর্মকর্তা, পরিসংখ্যান কর্মকর্তা, ভেটেরিনারি সার্জন, সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা, অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা, সহকারী কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা, উপ-সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা এবং ১৭ জন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তার পদ শূন্য রয়েছে।
এ বিষয়ে ঢালুয়া ইউনিয়নের বায়রা গ্রামের বাসিন্দা আলী আশরাফ জানান, তার বয়স্ক ভাতার সমস্যা নিয়ে সমাজসেবা অফিসে গেলেও নিয়মিত কর্মকর্তা না থাকায় সমস্যাটির সমাধান হচ্ছে না।
উপজেলার এক সরকারি দপ্তরের প্রধান সহকারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, গত ৬-৭ বছর ধরে হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার পদ শূন্য থাকায় মাস শেষে বেতন ও বিল পেতে কষ্ট পোহাতে হচ্ছে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আল-আমিন সরকার বলেন, ‘কর্মকর্তাদের শূন্য পদ পূরণের বিষয়ে আমরা নিয়মিত সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। তারা জানিয়েছেন, শিগগিরই এসব পদে নিয়োগ দেওয়া হবে।’
এ বিষয়ে কুমিল্লা জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আমিরুল কায়ছার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘যে উপজেলায় পদ শূন্য রয়েছে, তার পাশের উপজেলা থেকে কেউ না কেউ দায়িত্ব পালন করছেন। সরকারি অফিসগুলোতে অনেক অফিসারের সংকট রয়েছে। ইতিমধ্যে নতুন নিয়োগ হচ্ছে। আমরা আশা করছি, শিগগিরই এসব শূন্য পদে সরকার অফিসার নিয়ো দেবেন।’
