একসময় পুলিশের নিয়োগ, বদলি-পদোন্নতি হতো দলীয় বিবেচনা ও ‘ওপরের’ মহলের সুপারিশে। এবার আর সে সুযোগ থাকছে না। এসপি-ওসি হতে হলে দিতে হবে পরীক্ষা। এখনো ভালো ও লোভনীয় পদে যেতে পুলিশ কর্মকর্তারা নানা মহলে তদবির করছেন। এতে ক্ষুব্ধ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ সদর দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। ফলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে পুলিশ সদর দপ্তর সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিয়োগে জেলা প্রশাসকদের মতোই পরীক্ষা দিতে হবে।
পরীক্ষায় যারা উত্তীর্ণ হবেন তারাই নিয়োগ পাবেন। আরও সিদ্ধান্ত হয়েছে, চলতি বছর থেকে সরাসরি সহকারী সাব-ইন্সপেক্টর (এএসআই) নিয়োগ পরীক্ষা হবে। আর সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) নিয়োগ পরীক্ষা হবে না। পরীক্ষার মাধ্যমে এসআইদের পদোন্নতি হবে। এর আগে কনস্টেবল নিয়োগ না নেওয়ার পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছে কর্তৃপক্ষ। আগামী ছয় মাসের মধ্যে অন্তত ১০ হাজার কনস্টেবল নিয়োগ দেবে কর্তৃপক্ষ। তবে কনস্টেবলদের পদোন্নতি আগের চেয়ে কমে আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছে।
সংশ্লিষ্টরা দেশ রূপান্তরকে জানিয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পুলিশে এখনো চলছে ব্যাপক অস্থিরতা। এক অজানা আতঙ্কে ভুগছেন অনেকে। একপক্ষ আরেকপক্ষকে ঘায়েল করার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। এরপরও পুলিশে কাজের পরিধি বাড়ানো হয়েছে। পুলিশের সবকটি ইউনিটিতে পুরোদমে কাজ শুরু হয়েছে। থানা ও ট্রাফিক পুলিশ নিয়মিত কাজ করছে। মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যরা কাজে যোগ দিলেও একাধিক সিনিয়র কর্মকর্তা এখনো কাজে যোগ দেননি। এরই মধ্যে পুলিশে চলছে ব্যাপক পদোন্নতি ও পদায়ন। পদোন্নতিপ্রাপ্তদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে তাদের বঞ্চিত করেছে আওয়ামী লীগ সরকার। তাদের ডাম্পিং স্টেশনে রাখা হয়েছিল। বিসিএস ১২, ১৫ ও ১৭ ব্যাচের বেশিরভাগ কর্মকর্তা অতিরিক্ত আইজিপি হলেও কেউ কেউ অতিরিক্ত ডিআইজি ও এসপি পদমর্যাদার কর্মকর্তা হিসেবেই ছিলেন। পটপরিবর্তনের ফলে বঞ্চিতরা পদোন্নতি পাচ্ছেন। এ প্রসঙ্গে পুলিশ সদর দপ্তরের এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, এসপি ও ওসি নিয়োগে বিভিন্ন অভিযোগের বিষয় সত্য। আমরা নতুন কিছু সিদ্ধান্তে যাচ্ছি। সরকারও চাচ্ছে পুলিশের অবকাঠামোতে পরিবর্তন আনতে। জেলা প্রশাসকদের নিয়োগের আগে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা হয়। আমরাও সেই আলোকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। জেলার এসপি ও থানার ওসি হতে হলে একজন প্রার্থীর সার্ভিস ক্যারিয়ার, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার ওপর ১০০ নাম্বারে পরীক্ষা দিতে হবে। প্রার্থীকে অন্তত ৮০ নাম্বার পেতে হবে।
তিনি আরও বলেন, যাদের এসপি ও ওসি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হবে, তাদের একটি তালিকা তৈরি করবে পুলিশ সদর দপ্তর। তালিকাটি যাচাই-বাছাই করে সেটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সুপারিশ কমিটির কাছে পাঠনো হবে। তবে যারা আগে এসপি ও ওসি ছিলেন, তালিকায় তাদের নাম থাকবে না।
ভোল্ট পাল্টে সুযোগ-সুবিধায় ব্যস্ত অনেকে : পুলিশ সূত্র জানায়, কোনো কোনো কর্মকর্তা ১৬ বছর ধরে সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা নিয়েও ভোল্ট পাল্টে ফেলেছেন। তারা একটি গ্রুপের সঙ্গে মিশে আগের কর্মকর্তাদের বিষোদ্গার করছেন। আরও সুযোগ-সুবিধা নেওয়ার চেষ্টায় আছেন। পদোন্নতির পাশাপাশি লোভনীয় পদ পেতে নানা স্থানে তদবির চালাচ্ছেন। সৎ ও নিষ্ঠাবান চৌকস কর্মকর্তাদের সরিয়ে নিজেদের আসন নিচ্ছেন। পুলিশ সদর দপ্তরসহ বেশ কয়েকটি ইউনিটিতে দপ্তর বণ্টন করা হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আশীর্বাদ পেয়ে কেউ কেউ নিয়োগ পেয়ে থাকেন।
এ প্রসঙ্গে পুলিশ সদর দপ্তরের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, পদোন্নতি ও পছন্দের স্থানে যেতে প্রতিযোগিতা চলছে এখনো। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের আগমুহূর্ত পর্যন্ত আন্দোলনকারী ছাত্র-জনতাকে দমনের জন্য সর্বোচ্চ বলপ্রয়োগ করে পুলিশ। পুলিশের নজিরবিহীন বলপ্রয়োগে কোমলমতি শিক্ষার্থীসহ নিরীহ লোকজনের প্রাণহানির কারণে পুরো বাহিনীর ওপর ক্ষোভ দেখা দেয়। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দলীয় লেজুড়বৃত্তিক মানসিকতার কারণে পুরো বাহিনী জনরোষে পড়ে। পুলিশের মধ্যে অস্থিরতা ও আতঙ্ক আছে এখনো। পালাবদল হওয়ায় পুলিশে কয়েকটি গ্রুপে ভাগ হয়ে গেছে। একপক্ষ চাচ্ছে বঞ্চিতরা পদোন্নতি নিয়ে লোভনীয় পদে যেতে; আরেকপক্ষ চাচ্ছে সৎ ও নিষ্ঠাবান কর্মকর্তাদের সরিয়ে নিজেরা পদ নিতে। অন্য একপক্ষ চাচ্ছে পুরনো কর্মকর্তাদের শাস্তির আওতায় আনতে।
তিনি আরও বলেন, জুনিয়ররা সিনিয়রদের অপমান করা পুলিশের ইতিহাসে কখনো হয়নি। পুলিশের কয়েকজন ঊর্ধ্বতন এক ধরনের বিব্রত অবস্থার মধ্যে পড়েছেন। এমনকি পটপরিবর্তন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কিছু পুলিশ কর্মকর্তার চেহারাও পরিবর্তন হয়ে গেছে। অথচ তারা বিগত সময়ে সব ধরনের সুবিধা ভোগ করেছেন।
পরীক্ষার আওতায় আসছেন এসপি-ওসি : ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রায় সবকটি থানার ওসি ও ডিসিদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। সবকটি রেঞ্জ ডিআইজি ও ৬৪ জেলার পুলিশ সুপারকে বদলি করা হয়েছে। তবে জেলার পুলিশ সুপার ও থানার ওসি নিয়োগ পেতে মোটা অঙ্কের লেনদেন হয়ে আসছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এখনো আগের মতোই তদবিরে নিয়োগ পাচ্ছেন। এসব অভিযোগ চিরদিনের জন্য বন্ধ করতে বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। বিগত সময়ে পুলিশের নিয়োগ, বদলি পদোন্নতি হতো দলীয় বিবেচনা ও ওপরের মহলের তদবিরে। এতে কতিপয় কর্মকর্তা যাদের টাকা লেনদেন এবং রাজনৈতিক বিরোধীদের দমন করেছেন। তারা গ্রেপ্তার ও গুম করে আতঙ্ক তৈরি করেছিলেন। গুম করা পরিবার খোঁজ নিলেও তাদের কাছে অস্বীকার করা হতো। এমনকি ভুক্তভোগীরা আইনি সেবা থেকে বঞ্চিত হতো। দলবাজ কর্মকর্তারা কাউকে তোয়াক্কা করতেন না। রাজনৈতিক নেতা, এমপি ও মন্ত্রীরা পছন্দের এসপি ও থানার ওসিদের নিয়োগ দিতে ডিও লেটার দিয়ে আসতেন। প্রতিটি রাজনৈতিক দলই এসব কাজ করতেন। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সবাই ধরে নিয়েছিলেন তদবির বা অর্থ ছাড়া জেলার পুলিশ সুপার ও থানার ওসিদের নিয়োগ হবে। কিন্তু যেসব জেলায় এসপি ও ওসি নিয়োগ হয়েছে, তাদেরও তদবিরসহ আরও কিছু ‘বিষয়’ আছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগ বন্ধ করতে জেলা প্রশাসকদের মতোই পরীক্ষার মাধ্যমে এসপি ও ওসি নিয়োগ করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর। পুলিশে এ দুটি পদই লোভনীয়। পুলিশ সদর দপ্তর চাচ্ছে পুলিশ বাহিনীর অপসংস্কৃতির অবসান করতে। আইজিপিসহ অন্য কর্মকর্তা সরকারের হাইকমান্ডে যোগাযোগ করে সবুজ সংকেত নিয়ে এসেছেন। এরই অংশ হিসেবে পুলিশে নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতিতে তদবিরের বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে। ইতিমধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। পদক্ষেপগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে সংশ্লিষ্ট বিধিবিধানের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনার সুপারিশের বিষয়ে মতামত, পুলিশ সার্ভিসের পুলিশ সুপার, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পদায়নের জন্য ফিটলিস্ট প্রস্তুত করে নিয়মিত বিরতিতে হালনাগাদ করা, হালনাগাদকৃত তালিকা থেকে পুলিশ সুপার ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পদায়নের সুপারিশের বিষয়ে মতামত, বিশেষায়িত পুলিশ সংস্থার নিজ নিজ বিভাগের ভেতরে বা সংশ্লিষ্ট পদে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পদায়নের সুপারিশের বিষয়ে মতামত, কনস্টেবল থেকে এএসআই এবং এএসআই থেকে এসআই পদোন্নতিতে প্রতি বছর পরীক্ষা দেওয়া ও পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার রীতি বাতিল করে একবার উত্তীর্ণ হলে তাকে শারীরিক যোগ্যতাসাপেক্ষে পরবর্তী তিন বছরের জন্য পদোন্নতির যোগ্য হিসেবে বিবেচনা করার সুপারিশের বিষয়ে মতামত প্রমুখ।
মন্ত্রণালয়ের সুপারিশ কমিটি গঠন : পুলিশে নিয়োগসহ অন্যান্য বিষয়ে দেখভাল করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ সুপারিশ প্রণয়নে একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করেছে। পুলিশ সংস্কার কমিশন পুলিশের নিয়োগ-বদলি ও পদোন্নতির বিষয়ে যে সুপারিশ সরকারের কাছে দাখিল করেছিল, তা বাস্তবায়ন করতেই নিয়েছে এই উদ্যোগ। গত ১৯ জুন গঠন করা কমিটির সভাপতি থাকবেন জননিরাপত্তা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (পুলিশ ও এনটিএমসি অনুবিভাগ)। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন জননিরাপত্তা বিভাগের পুলিশ-১ অধিশাখার একজন যুগ্ম সচিব, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের যুগ্ম সচিব পদমর্যাদার এক কর্মকর্তা, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব পদমর্যাদার এক কর্মকর্তা, জননিরাপত্তা বিভাগের পুলিশ-২ অধিশাখার যুগ্ম সচিব, বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের যুগ্ম সচিব পদমর্যাদার এক কর্মকর্তা এবং পুলিশ সদর দপ্তরের একজন উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি)।
কমিটির কার্যপরিধিতে বলা হয়েছে, বর্তমানে সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) নিয়োগের ক্ষেত্রে যে ধরনের শারীরিক ও মানসিক যোগ্যতার প্রয়োজন, তা উপেক্ষিত হচ্ছে। এজন্য বর্তমান বিসিএস পরীক্ষায় পুলিশ ক্যাডারে নিয়োগের জন্য আলাদাভাবে শারীরিক যোগ্যতা, ফিজিক্যাল এনডিউরেন্স টেস্ট (পিইটি), মানসিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত করে আবেদনের যোগ্যতা নিরূপণ করা যায়। ফলে আগ্রহী এবং যোগ্য প্রার্থীরা পুলিশ ক্যাডারে আবেদন করার জন্য সহজে বিবেচিত হতে পারবেন। পদোন্নতির নীতিমালা সংস্কার করে কনস্টেবল বা এসআই নিয়োগ থেকে ক্যারিয়ার প্ল্যান তৈরির বিষয়ে মতামত, নারী পুলিশের সংখ্যা বৃদ্ধির জন্য বর্তমান অর্গানোগ্রামে পদ সৃষ্টির বিষয়ে সুপারিশ, থানাসহ বিভিন্ন দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে নারী পুলিশ সদস্য ৮ শতাংশ; যা খুবই অপ্রতুল, থানাসহ ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার, সাইবার সাপোর্ট ফর উইমেন এবং অন্যান্য ইউনিটের অফিসে জনবল বৃদ্ধি করতে বলা হয়েছে।
এএসআই পদে সরাসরি নিয়োগ : পুলিশে আমূল পরিবর্তনের আলোকে সরাসরি সহকারী সাব-ইন্সপেক্টর নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পুলিশের অভ্যন্তরীণ সংস্কারের অংশ হিসেবে প্রথমবারের মতো এ পদে নিয়োগ দিতে চাচ্ছে পুলিশ সদর দপ্তর। এরই অংশ হিসেবে পুলিশের সাংগঠনিক কাঠামোতে এএসআই পদে আট হাজার নতুন পদ সৃষ্টির প্রস্তাব করা হয়েছে। মাসখানেক আগে এ ধরনের একটি প্রস্তাব স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ধাপে ধাপে কনস্টেবল এবং নায়েক পদ পুলিশের সাংগঠনিক কাঠামোর মঞ্জুরিকৃত পদ বিলুপ্ত করতে চায় পুলিশ সদর দপ্তর। প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, আট হাজার পদের মধ্যে ৫০ শতাংশ পদ সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে আর ৫০ শতাংশ নায়েক বা কনস্টেবল হতে বিভাগীয় পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণের কথা বলেছে। এএসআই পদে সরাসরি নিয়োগের প্রস্তাবের আগে পুলিশ সদর দপ্তর সব ইউনিটে একটি মতামত জরিপ চালায়। জরিপে কনস্টেবল ও নায়েকদের একটি বড় অংশই এএসআই পদে সরাসরি নিয়োগের বিপক্ষে মতামত দিয়েছে। এএসআই পদে প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকবে এসএসসি ও এইচএসসি পরীকায় ৩.৫ জিপিএ থাকতে হবে। বয়স হতে হবে ১৮ থেকে ২২ বছর। পরীক্ষার জন্য সাত ইভেন্টের শারীরিক সক্ষমতা যাচাইসহ ২৫০ নম্বরের লিখিত এবং ২৫ নম্বরের বুদ্ধিমত্তা ও মৌখিক পরীক্ষা থাকবে।
এসআই নিয়োগ না করার পরিকল্পনা : ক্যাডেট এএসআই পদে সরাসরি নিয়োগ পদ্ধতি চালু হলে ক্যাডেট এসআই (নিরস্ত্র) পদেও সরাসরি নিয়োগ পদ্ধতি পর্যায়ক্রমে বাতিলের পরিকল্পনা রয়েছে। এতে এসআই (নিরস্ত্র) পদটি শতভাগ পদোন্নতিযোগ্য পদ হিসেবে বিবেচিত হবে বলে পুলিশ সদর দপ্তরের প্রস্তাবে বলা হয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশ পুলিশে তিনটি গ্রেডের চারটি পদে সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে পূরণের বিধান চালু আছে। তার মধ্যে নবম গ্রেডের এএসপি পদে মঞ্জুরিকৃত পদের ৬৭ শতাংশ বিসিএসের মাধ্যমে সরাসরি নিয়োগ হয়। বাকি ৩৩ শতাংশ ইন্সপেক্টর পদ হতে পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণ করা হচ্ছে। আর দশম গ্রেডে পুলিশে মঞ্জুরিকৃত এসআই (নিরস্ত্র) পদের ৫০ শতাংশ পদ সরাসরি এবং ৫০ শতাংশ বিভাগীয় পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণ করা হয়। তাছাড়া একই গ্রেডে সার্জেন্ট পদ শতভাগ সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে পূরণ করা হচ্ছে। ১৭তম গ্রেডে কনস্টেবল পদ শতভাগ সরাসরি নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। তবে এএসআই পদ বিভাগীয় পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণ হয়ে আসছে।
জানতে চাইলে পুলিশ সদর দপ্তরের উপমহাপরিদর্শক (অপারেশন) রেজাউল করিম দেশ রূপান্তরকে বলেন, পুলিশের নিয়োগ ও বদলিতে আমরা স্বচ্ছতার ভিত্তিতে সবকিছুই করার চেষ্টা করছি। পুলিশের উন্নয়নে বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। জেলার এসপি ও থানার ওসিদের স্বচ্ছতার ভিত্তিতে নিয়োগের বিষয়ে আমরা কাজ করছি। আশা করি অল্প সময়ের মধ্যে পুলিশকে জনবান্ধব বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলা হবে।
পুলিশের কাঠামোতে জনবল : পুলিশের সাংগঠনিক কাঠামোতে বর্তমানে ২১ হাজার ৯৮টি এসআই (নিরস্ত্র), ২ হাজার ৯৪৬টি এসআই (সশস্ত্র), ১৮ হাজার ৭৩৮টি এএসআই এবং ৭ হাজার ৭৪৮টি এএসআই (সশস্ত্র) পদ রয়েছে। তাছাড়া ১ লাখ ৩০ হাজার ৩০৮টি কনস্টেবল, ৭৭৯৬টি নায়েক, ২ হাজার ২৪৫টি এটিএসআই, ২ হাজার ১৬৫টি সার্জেন্ট, ৪৪৯টি টিএসআই, ২ হাজার ৯৪৬টি এসআই (সশস্ত্র), ২১ হাজার ৯৮টি এসআই (নিরস্ত্র), ৬ হাজার ৯২৮টি ইন্সপেক্টর, ১ হাজার ২৩১টি এএসপি, ১ হাজার ৮টি অতিরিক্ত এসপি, ৫৯৬টি এসপি, ২০১টি অতিরিক্ত ডিআইজি, ৮৭টি ডিআইজি, ২০টি অতিরিক্ত আইজিপিসহ ২ লাখ ৩ হাজার ৩৬৭টি পদ রয়েছে।
