বগুড়ায় শ্বশুর-পুত্রবধূকে গলাটিপে হত্যা, ঘর তছনছ করে লুটপাট

আপডেট : ০৯ জুলাই ২০২৫, ০১:৪৫ পিএম

বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার লক্ষ্মীমণ্ডপ গ্রামে মঙ্গলবার রাতের কোনো এক সময় দুর্বৃত্তদের হাতে নিহত হয়েছেন এক অবসরপ্রাপ্ত মাদ্রাসা শিক্ষক ও তাঁর পুত্রবধূ। আজ বুধবার সকালে এ খবর ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাস্থলে ভিড় করেন আশপাশের শত শত মানুষ।

নিহতরা হলেন ওই গ্রামের পানা উল্লাহা প্রামাণিকের ছেলে ৭০ বছর বয়সী আফতাব হোসেন এবং তাঁর বড় ছেলে সৌদি প্রবাসী শাহজাহানের স্ত্রী, ২৮ বছর বয়সী রিভা খাতুন। একসঙ্গে দুইজনের নির্মম মৃত্যুর ঘটনায় পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া ও আতঙ্ক।

স্বজনরা জানিয়েছেন, আফতাব হোসেনের দুই ছেলে ও দুই মেয়ে। বড় ছেলে শাহজাহান দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবে থাকেন। তাঁর স্ত্রী রিভা ছেলে নীরব ও মেয়ে মালিহাকে নিয়ে শ্বশুরবাড়িতেই থাকতেন। ছোট ছেলে ঢাকায় বসবাস করেন।

গতকাল মঙ্গলবার রাতে আফতাব হোসেন তাঁর ঘরে এবং রিভা তার পাঁচ বছর বয়সী কন্যা মালিহাকে নিয়ে অন্য কক্ষে ঘুমিয়ে পড়েন। আজ বুধবার সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে মেয়ে মালিহা মায়ের নিথর দেহ দেখতে পায়—হাত বাঁধা, গলায় ফাঁস লাগানো। পরে চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা ছুটে এসে রিভার কক্ষের ভিতর লণ্ডভণ্ড অবস্থা এবং বাইরে উঠানে আফতাব হোসেনের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন, তিনিও একইভাবে গলায় ফাঁস ও হাত বাঁধা অবস্থায় ছিলেন।

পরিবারের লোকজন জানিয়েছেন, হত্যাকারীরা ঘর থেকে বেশ কিছু মালামাল লুট করেছে এবং আসবাবপত্র তছনছ করে গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, কয়েক লাখ টাকার মূল্যমানের জিনিসপত্র নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। তবে কী কারণে এমন হত্যাকাণ্ড, তা তাৎক্ষণিকভাবে কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারেননি। যদিও নিহতদের কয়েকজন আত্মীয় সন্দেহ করছেন, আফতাব হোসেনের জমিজমা নিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে বিরোধ ছিল, যা হয়তো ঘটনার পেছনে থাকতে পারে।

ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নিহতদের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।

বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান সাংবাদিকদের বলেন, ‘এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে পূর্ব শত্রুতা, পারিবারিক দ্বন্দ্ব কিংবা লুটের উদ্দেশ্যে পরিকল্পিত হামলা—সব দিক বিবেচনায় তদন্ত চলছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত